Friday, May 6, 2016

বাঁশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সেমিনার ‘প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতির কারণেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা’

আনু মুহাম্মদ
পরিবেশগত ঝুঁকি এবং প্রাণ-প্রকৃতির কথা বিবেচনায় নিয়েই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। প্রাণ-প্রকৃতি ও মানুষের ক্ষতি হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ কী কারণে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তা পরিষ্কার নয় বলে মন্তব্য করেছেন কমিটির সদস্যরা।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘বাঁশখালীতে জীবন ও পরিবেশ বিপর্যয়কারী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করার দাবি’তে এ সেমিনারের আয়োজন করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি, চট্টগ্রাম। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্য হাসান মারুফ। প্রধান অতিথি ছিলেন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য শাহ আলম, মৃণাল চৌধুরী, নাছির উদ্দিন, মানস নন্দী, মহিম উদ্দিন, আখতার কবির চৌধুরী প্রমুখ।
সেমিনারে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের পরামর্শ অনুযায়ী আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ তাদের প্রাণ–প্রকৃতি পরিবেশ ও মানুষের কথা বিবেচনা করে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিচ্ছে।
পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি হয় না এমন বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, সমুদ্রের ঢেউ, জোয়ার–ভাটা, নদীর প্রবাহ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান বক্তারা। তাঁরা বলেন, দেশে বিভিন্ন রকম নবায়নযোগ্য শক্তির সঠিক সম্ভাবনা নিরূপণ করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হোক।
বাঁশখালীতে গত ৪ এপ্রিল গুলিতে চারজন নিহতের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পরিবেশ সমীক্ষা না করা পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা, জনগণের লাভ-ক্ষতির হিসাব করা এবং জনগণের মতামত নিতে সেমিনারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ–বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে জনগণকে কাবু করে রাখা যাবে না। প্রকৃত উন্নয়ন হলে জনগণের সামনে তা তুলে ধরতে হবে। বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জায়গা নেওয়া হলেও জনগণকে তা বলা হয়নি। তিন বছর আগে এস আলম গ্রুপ চীনের সঙ্গে এবং এক বছর আগে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে। কিন্তু তা জনগণকে জানানো হয়নি।
প্রাণহানির ঘটনার এক মাস পরও দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না করার বিষয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, নিজেদের লোক জড়িত বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না।

No comments:

Post a Comment