মৃত্যুদণ্ডই
বহাল রইলো জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর। প্রধান বিচারপতি
সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের চার
সদস্যের বেঞ্চ গতকাল তার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা
ছিলেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি
হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে এ মামলার সকল আইনি
প্রক্রিয়া শেষ হলো। এখন দণ্ড মার্জনার জন্য নিজামী শুধু প্রেসিডেন্টের কাছে
আবেদন করতে পারবেন। যদি তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন না
করেন কিংবা তার আবেদন নাকচ হয়ে যায়, তাহলে সরকার চাইলে যেকোনো সময় তার
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে।
এদিকে আপিল বিভাগের রায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ, সরকার, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্টজনরা। অন্যদিকে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার প্রতিবাদে রোববার ২৪ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গত ৬ই জানুয়ারি আপিল বিভাগ নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। ১৫ই মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। ওই দিন বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে নিজামীর পক্ষে গত ২৯শে মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ৫ই মে রিভিউ আবেদনের রায় ঘোষণা করে হবে বলে জানিয়ে দেন আপিল বিভাগ।
গতকাল মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউয়ের রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও তার আশপাশ এলাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট ও তার আশপাশ এলাকায় চারপাশের সড়কগুলোতে যানচলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। আদালতের প্রবেশমুখে পরিচয় নিশ্চিত ও তল্লাশি শেষে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। সকাল ১১টা ৩১ মিনিট। আদালতে তখন পিনপতন নীরবতা। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি এজলাসে তাদের নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন। এরপর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রধান বিচারপতি আপিল খারিজের বিষয়টি জানিয়ে দেন। আর এরই মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়ে যায় মতিউর রহমান নিজামীর ভাগ্য।
রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ, দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি
জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশ আপিল বিভাগ বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রায়ের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। নিজামীর ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। এ ছাড়া তার আর কোনো সুযোগ নেই। আইনমন্ত্রী বলেন, এর আগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যদের ফাঁসি যেভাবে কার্যকর হয়েছে, নিজামীর রায়ও সেভাবেই কার্যকর করা হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায়কে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রায় শেষে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন আলবদরের প্রেরণা ও উসকানিদাতা। তার নির্দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। আজকের এ রায়ের ফলে জাতি দীর্ঘদিন পরে হলেও একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার পেলো। এ রায়ে সারা জাতি স্বস্তি এবং শান্তি দেশবাসীর মতো আমিও আনন্দিত। নিজামীর ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলেন, এখন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে রায়ের অনুলিপি যাবে। সেটা পূর্ণাঙ্গও হতে পারে বা সংক্ষিপ্ত আদেশও হতে পারে। কারা কর্তৃপক্ষ নিজামীকে এ আদেশ পড়ে শোনানোর পর তিনি (নিজামী) প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন কি না-তা জানতে চাইবেন। যদি তিনি প্রাণ ভিক্ষার আবেদন না করেন তাহলে সরকার যেকোনো সময় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা যে প্রত্যাশা করেছিলাম তা পূরণ হয়েছে। আজকের এই রায়কে আমরা বিরাট বিজয় হিসেবে দেখছি। এই রায় নিয়ে গণমানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতি এক ধাপ এগোলো। প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, মতিউর রহমান নিজামী একাত্তরে বাছাই করা লোকজন নিয়ে কিলিং স্কোয়াড গঠন করে হত্যা গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিলেন। আজকে তার রিভিউ আবেদন খারিজ করার মধ্য দিয়ে দেশবাসী স্বস্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, নিজামীর মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে প্রসিকিউশনকে অনেক ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। রায়ে আমরা খুশি। জেয়াদ আল মালুম আরও বলেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরই সরকার তার ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশি। একটি প্রতীক্ষার অবসান হলো। এখন রায় দ্রুত কার্যকর হবে বলে আমরা আশা করি। নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেন, আজকের এই রায়ে জাতির প্রত্যাশা যেমন পূরণ হয়েছে, তেমনি আমাদের প্রত্যাশাও পূরণ হয়েছে। নিজামী শুধু সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির জন্যই সাজা পাননি, পাবনার বিভিন্ন গণহত্যার জন্যও তিনি সাজা পেয়েছেন। আমরা আশা করছি দ্রুতই তার ফাঁসি কার্যকর হবে।
রায় মেনে নিয়েছি, ভবিষ্যৎ এ রায় বিচার করবে: খন্দকার মাহবুব
নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তা নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। তবে, আমি বলে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ বিচার কতটা সঠিক হয়েছে, কেন হয়েছে তা অবশ্যই বিচার করবে। তিনি বলেন, মতিউর রহমান নিজামীর সামনে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন ছাড়া আর কোনো আইনগত প্রক্রিয়া নেই। এখন তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না-সেটি তার নিজস্ব এখতিয়ার। একাত্তরে জামায়াত রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী বলেন, এখন যে জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাদের বিচার করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে আমি সন্দিহান। তৈরি সাক্ষী, বানানো সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে তাদের সাজা দেয়া হয়েছে। সত্যিকার অর্থে নিজামী রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। যে অপরাধে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেসব অপরাধ তিনি করেননি। ১৯৭২ সালের দালাল আইনে যাদের বিচার শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দালাল আইনে বিচার করে সারা দেশকে বিভক্ত করে দেয়া হয়েছে, অযথা অনেককে হয়রানি করা হয়েছে এটা যখন বঙ্গবন্ধু দেখলেন তখন তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। নিজামীর অপর আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, এই মামলায় আইনি প্রক্রিয়া শেষ। এখন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া না চাওয়া তার (নিজামী) ব্যক্তিগত বিষয়।
জামায়াতের ২৪ ঘণ্টার হরতাল
এদিকে জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখাকে সরকারি ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রতিবাদে ৮ই মে রোববার সকাল থেকে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার হরতালসহ ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। হরতাল ছাড়াও আজ শুক্রবার দোয়া ও শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর পরই এ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা ও জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করতেই নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
নিজামীর মৃত্যুদণ্ডকে ন্যায়ভ্রষ্ট বললো শিবির
উচ্চ আদালতের রিভিউ আবেদনে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি বহালকে ন্যায়ভ্রষ্ট বলে মন্তব্য করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল সংগঠনটির সভাপতি ও সেক্রেটারি যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই মামলায় তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এই রায় ন্যায় বিচারের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনকে নেতৃত্বশূন্য করার নীলনকশারই অংশ হিসেবে এ রায়। ট্রাইব্যুনাল মাওলানা নিজামীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা দেয়া ঠিক হয়নি, রায়ে জনমতের ইচ্ছার প্রকাশ পেয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন- যা সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের প্রতিফলন। তাই এই ট্রাইব্যুনালের রায় প্রথম থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এসব রায়ের কারণে বিচার বিভাগের ওপর জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে মন্তব্য করে সংগঠনটি বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে জামায়াত নেতাদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানায়।
রায়ে সন্তুষ্টি গণজাগরণ মঞ্চের
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। গতকাল সকাল ৯টায় সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতে আমীরের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার পরপরই শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে সাংবাদিকদের এই সন্তুষ্টির কথা জানান মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। এ সময় তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছিল। এই দীর্ঘসূত্রতার জন্য মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছিল। তবে এই রায়ের মধ্য দিয়ে হতাশা দূর হয়েছে। রায়ে দেশের সকল মানুষ সন্তুষ্ট। আমরাও সন্তুষ্ট। আশা করি খুব দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হবে। এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে সকাল ৮টা থেকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেয় গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তারা যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও বিচার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। রাস্তায় যুদ্ধাপরাধীদের ব্যঙ্গ কার্টুন অঙ্কন করা হয়। ডা. ইমরান আরও বলেন, নিজামীর রিভিউ খারিজে সর্বোচ্চ দণ্ড বহাল রাখার মধ্য দিয়ে তার আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। আইনগত আর কোনো বাধা না থাকায় সম্ভাব্য দ্রুত সময়ে তার রায় কার্যকর করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে এই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী নিজামীর সর্বোচ্চ সাজার জন্য। এই নিজামী স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তার গাড়িতে জাতীয় পতাকা উঠানোর ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছিলেন। তাই এই রায়ের মধ্য দিয়ে এটি প্রমাণিত হলো- যুদ্ধাপরাধীরা যত বড়ই ক্ষমতাধর হোক না কেন তাকে বিচারের আওতায় আসতেই হবে, প্রাপ্য শাস্তি ভোগ করতেই হবে। তিনি বলেন, নিজামী জামায়াতের আমীর ছিলেন। আবার জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল আজ তা প্রমাণিত। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি বাকি যুদ্ধাপরাধীদেরও দ্রুত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, সরকার আর কালক্ষেপণ করবে না, যত দ্রুত সম্ভব সকল যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের আওতায় আনবে। রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার ঘোষণার পর শাহবাগ থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি টিএসসির রাজু ভাস্কর্য ঘুরে পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়।
এদিকে আপিল বিভাগের রায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ, সরকার, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্টজনরা। অন্যদিকে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার প্রতিবাদে রোববার ২৪ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গত ৬ই জানুয়ারি আপিল বিভাগ নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। ১৫ই মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। ওই দিন বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে নিজামীর পক্ষে গত ২৯শে মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ৫ই মে রিভিউ আবেদনের রায় ঘোষণা করে হবে বলে জানিয়ে দেন আপিল বিভাগ।
গতকাল মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউয়ের রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও তার আশপাশ এলাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেন। নিরাপত্তার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট ও তার আশপাশ এলাকায় চারপাশের সড়কগুলোতে যানচলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। আদালতের প্রবেশমুখে পরিচয় নিশ্চিত ও তল্লাশি শেষে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। সকাল ১১টা ৩১ মিনিট। আদালতে তখন পিনপতন নীরবতা। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি এজলাসে তাদের নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন। এরপর মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রধান বিচারপতি আপিল খারিজের বিষয়টি জানিয়ে দেন। আর এরই মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়ে যায় মতিউর রহমান নিজামীর ভাগ্য।
রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ, দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি
জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশ আপিল বিভাগ বহাল রাখায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রায়ের পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। নিজামীর ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। এ ছাড়া তার আর কোনো সুযোগ নেই। আইনমন্ত্রী বলেন, এর আগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যদের ফাঁসি যেভাবে কার্যকর হয়েছে, নিজামীর রায়ও সেভাবেই কার্যকর করা হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায়কে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রায় শেষে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন আলবদরের প্রেরণা ও উসকানিদাতা। তার নির্দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। আজকের এ রায়ের ফলে জাতি দীর্ঘদিন পরে হলেও একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার পেলো। এ রায়ে সারা জাতি স্বস্তি এবং শান্তি দেশবাসীর মতো আমিও আনন্দিত। নিজামীর ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা বলেন, এখন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে রায়ের অনুলিপি যাবে। সেটা পূর্ণাঙ্গও হতে পারে বা সংক্ষিপ্ত আদেশও হতে পারে। কারা কর্তৃপক্ষ নিজামীকে এ আদেশ পড়ে শোনানোর পর তিনি (নিজামী) প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন কি না-তা জানতে চাইবেন। যদি তিনি প্রাণ ভিক্ষার আবেদন না করেন তাহলে সরকার যেকোনো সময় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা যে প্রত্যাশা করেছিলাম তা পূরণ হয়েছে। আজকের এই রায়কে আমরা বিরাট বিজয় হিসেবে দেখছি। এই রায় নিয়ে গণমানুষের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতি এক ধাপ এগোলো। প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, মতিউর রহমান নিজামী একাত্তরে বাছাই করা লোকজন নিয়ে কিলিং স্কোয়াড গঠন করে হত্যা গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিলেন। আজকে তার রিভিউ আবেদন খারিজ করার মধ্য দিয়ে দেশবাসী স্বস্তি পেয়েছে। তিনি বলেন, নিজামীর মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে প্রসিকিউশনকে অনেক ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। রায়ে আমরা খুশি। জেয়াদ আল মালুম আরও বলেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরই সরকার তার ফাঁসি কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশি। একটি প্রতীক্ষার অবসান হলো। এখন রায় দ্রুত কার্যকর হবে বলে আমরা আশা করি। নিজামীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেন, আজকের এই রায়ে জাতির প্রত্যাশা যেমন পূরণ হয়েছে, তেমনি আমাদের প্রত্যাশাও পূরণ হয়েছে। নিজামী শুধু সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির জন্যই সাজা পাননি, পাবনার বিভিন্ন গণহত্যার জন্যও তিনি সাজা পেয়েছেন। আমরা আশা করছি দ্রুতই তার ফাঁসি কার্যকর হবে।
রায় মেনে নিয়েছি, ভবিষ্যৎ এ রায় বিচার করবে: খন্দকার মাহবুব
নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তা নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই। তবে, আমি বলে যাচ্ছি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ বিচার কতটা সঠিক হয়েছে, কেন হয়েছে তা অবশ্যই বিচার করবে। তিনি বলেন, মতিউর রহমান নিজামীর সামনে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন ছাড়া আর কোনো আইনগত প্রক্রিয়া নেই। এখন তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি না-সেটি তার নিজস্ব এখতিয়ার। একাত্তরে জামায়াত রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিল উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী বলেন, এখন যে জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাদের বিচার করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে আমি সন্দিহান। তৈরি সাক্ষী, বানানো সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে তাদের সাজা দেয়া হয়েছে। সত্যিকার অর্থে নিজামী রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। যে অপরাধে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে সেসব অপরাধ তিনি করেননি। ১৯৭২ সালের দালাল আইনে যাদের বিচার শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু তাদের সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দালাল আইনে বিচার করে সারা দেশকে বিভক্ত করে দেয়া হয়েছে, অযথা অনেককে হয়রানি করা হয়েছে এটা যখন বঙ্গবন্ধু দেখলেন তখন তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। নিজামীর অপর আইনজীবী এসএম শাহজাহান বলেন, এই মামলায় আইনি প্রক্রিয়া শেষ। এখন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া না চাওয়া তার (নিজামী) ব্যক্তিগত বিষয়।
জামায়াতের ২৪ ঘণ্টার হরতাল
এদিকে জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখাকে সরকারি ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রতিবাদে ৮ই মে রোববার সকাল থেকে দেশব্যাপী ২৪ ঘণ্টার হরতালসহ ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। হরতাল ছাড়াও আজ শুক্রবার দোয়া ও শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর পরই এ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা ও জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করতেই নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
নিজামীর মৃত্যুদণ্ডকে ন্যায়ভ্রষ্ট বললো শিবির
উচ্চ আদালতের রিভিউ আবেদনে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি বহালকে ন্যায়ভ্রষ্ট বলে মন্তব্য করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল সংগঠনটির সভাপতি ও সেক্রেটারি যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই মামলায় তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এই রায় ন্যায় বিচারের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনকে নেতৃত্বশূন্য করার নীলনকশারই অংশ হিসেবে এ রায়। ট্রাইব্যুনাল মাওলানা নিজামীর গাড়িতে জাতীয় পতাকা দেয়া ঠিক হয়নি, রায়ে জনমতের ইচ্ছার প্রকাশ পেয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন- যা সরাসরি আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের প্রতিফলন। তাই এই ট্রাইব্যুনালের রায় প্রথম থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এসব রায়ের কারণে বিচার বিভাগের ওপর জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে মন্তব্য করে সংগঠনটি বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে জামায়াত নেতাদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানায়।
রায়ে সন্তুষ্টি গণজাগরণ মঞ্চের
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। গতকাল সকাল ৯টায় সুপ্রিম কোর্ট জামায়াতে আমীরের করা রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার পরপরই শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে সাংবাদিকদের এই সন্তুষ্টির কথা জানান মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। এ সময় তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিয়েছিল। এই দীর্ঘসূত্রতার জন্য মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছিল। তবে এই রায়ের মধ্য দিয়ে হতাশা দূর হয়েছে। রায়ে দেশের সকল মানুষ সন্তুষ্ট। আমরাও সন্তুষ্ট। আশা করি খুব দ্রুত এই রায় কার্যকর করা হবে। এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে সকাল ৮টা থেকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেয় গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। তারা যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও বিচার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। রাস্তায় যুদ্ধাপরাধীদের ব্যঙ্গ কার্টুন অঙ্কন করা হয়। ডা. ইমরান আরও বলেন, নিজামীর রিভিউ খারিজে সর্বোচ্চ দণ্ড বহাল রাখার মধ্য দিয়ে তার আইনগত সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। আইনগত আর কোনো বাধা না থাকায় সম্ভাব্য দ্রুত সময়ে তার রায় কার্যকর করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। দেশের মানুষ দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে এই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী নিজামীর সর্বোচ্চ সাজার জন্য। এই নিজামী স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তার গাড়িতে জাতীয় পতাকা উঠানোর ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছিলেন। তাই এই রায়ের মধ্য দিয়ে এটি প্রমাণিত হলো- যুদ্ধাপরাধীরা যত বড়ই ক্ষমতাধর হোক না কেন তাকে বিচারের আওতায় আসতেই হবে, প্রাপ্য শাস্তি ভোগ করতেই হবে। তিনি বলেন, নিজামী জামায়াতের আমীর ছিলেন। আবার জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল আজ তা প্রমাণিত। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি বাকি যুদ্ধাপরাধীদেরও দ্রুত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, সরকার আর কালক্ষেপণ করবে না, যত দ্রুত সম্ভব সকল যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের আওতায় আনবে। রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়ার ঘোষণার পর শাহবাগ থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি টিএসসির রাজু ভাস্কর্য ঘুরে পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়।

No comments:
Post a Comment