![]() |
| জুলহাজ মান্নান, মাহবুব তনয় |
কলাবাগানে
জোড়া খুনের ঘটনার তদন্তে বেশি দূর এগোতে পারছে না পুলিশ। আততায়ীদের
একজনের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মুঠোফোন দুটি খুনিদের নয়। এগুলো নিহত জুলহাজ
মান্নান ও মাহবুব তনয়ের। এ ছাড়া খুনিদের আসা-যাওয়ার পথে ক্লোজড সার্কিট
ক্যামেরা থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজের ছবিও কাউকে শনাক্ত করার মতো যথেষ্ট
স্পষ্ট নয়। গতকাল রোববার কলাবাগানে জোড়া খুনের ঘটনা তদন্তে যুক্ত পুলিশ
কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব কথা। তবে পুলিশের দাবি, তারা ওই
ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে সন্দেহ করছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা
যাচ্ছে না। তারা পালিয়ে যাবে না বলেই মনে করে পুলিশ। এর আগে পুলিশ দাবি
করেছিল, মুঠোফোনের কললিস্ট ও ভিডিও ফুটেজ তদন্তকাজ সহজ করবে। ঢাকা মহানগর
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার রাজীব আল মাসুদ প্রথম
আলোকে বলেন, ‘আমরা খুনিদের ধরার চেষ্টা করছি। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।’
এদিকে নিহত ব্যক্তিরা গত বছর পয়লা বৈশাখে রংধনু শোভাযাত্রা বের করার পর
থেকেই হুমকি পাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে তাঁদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। সূত্রটি
জানায়, জুলহাজ ও তনয় টের পেয়েছিলেন, তাঁদের অনুসরণ করা হচ্ছে। রূপবান
পত্রিকা প্রকাশের কাজে জড়িত ব্যক্তিরা জুলহাজের কলাবাগানের বাসায় আসতেন।
খুনিরা এটি জানত। সূত্রটি আরও জানায়, তনয় আত্মরক্ষার্থে তাঁর ব্যাগে একটি
লাঠি রাখতেন। তবে হেনস্তা হওয়ার ভয়ে এসব হুমকির ব্যাপারে তাঁরা কখনোই
পুলিশকে কিছু জানাননি। জুলহাজ মান্নান বা রূপবান পত্রিকা প্রকাশের কাজে
জড়িত ব্যক্তিরা প্রাণনাশের হুমকিতে ছিলেন বলে পুলিশও জানতে পেরেছে। তবে এই
তথ্য তারা খুন হওয়ার আগে পায়নি। কারা হুমকি দিত, সে সম্পর্কেও সুস্পষ্ট
কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। জুলহাজ ও মাহবুব তনয়ের যে দুটি মুঠোফোন ও
ট্যাব পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক ছিনিয়ে নেন, সেখানে এমন কোনো ফোন বা
খুদে বার্তার রেকর্ড পুলিশ পায়নি। পুলিশের ধারণা, খুনিরা কোনো মুঠোফোন
ঘটনাস্থলে নিয়েই যায়নি। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি)
কর্মকর্তাদের সন্দেহ, এ ঘটনা আনসার-উল-ইসলামের স্লিপার সেলের সদস্যরা
ঘটিয়েছে। তাঁদের মতে, স্লিপার সেলের সদস্যরা সাধারণের সঙ্গে এতটাই মিলেমিশে
থাকে যে, তাদের খুঁজে বের করা বেশ শক্ত। অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে
স্থানীয় লোকজন তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করে থাকে। তবে ধারাবাহিকভাবে একই
ধরনের যে খুনগুলো ঘটছে, সেগুলোর ব্যাপারে কোনো তথ্য পুলিশ মাঠ থেকে
পাচ্ছে না। গত ২৫ এপ্রিল কলাবাগানে ৩৫ উত্তর ধানমন্ডির বাড়ির দোতলার বাসায়
ঢুকে জুলহাজ মান্নান ও তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে
দুর্বৃত্তরা। জুলহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডিতে চাকরি
করতেন। তিনি সমকামীদের অধিকার-বিষয়ক সাময়িকী রূপবান সম্পাদনা ও প্রকাশনার
সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাহবুব ছিলেন নাট্যকর্মী। দুর্বৃত্তরা ওই বাড়ির
নিরাপত্তাকর্মী পারভেজ মোল্লাকেও কোপায়। পরে কলাবাগানের ডলফিন গলি দিয়ে
পালানোর সময় এএসআই মমতাজ এক দুর্বৃত্তকে জাপটে ধরলে আততায়ীরা তাঁকেও কুপিয়ে
আহত করে পালিয়ে যায়।

No comments:
Post a Comment