Wednesday, May 25, 2016

সড়ক থেকে সরছে না ময়লা

অস্থায়ী ময়লা সংরক্ষণের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন না হওয়ায়
মোহাম্মদপুর এলাকায় ময়লা ​রাখা হচ্ছে মূল সড়কের ওপর।
ছবিটি গতকাল রিং রোড থেকে তোলা l প্রথম আলো
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্তর্ভুক্ত মোহাম্মদপুর এলাকার ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি থেকে আনা ময়লা অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) বানানোর কাজ এখনো শুরুই হয়নি। এসটিএসের জন্য নির্ধারিত জায়গা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। বাসাবাড়ি থেকে আনা ময়লা-আবর্জনা অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বিভিন্ন ওয়ার্ডে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন বানানোর কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে অনেক এসটিএস চালু হওয়ায় সড়ক থেকে ময়লার কনটেইনার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে এসটিএস বানানো না হওয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাসাবাড়ির ময়লা এনে সড়কের ওপরে ফেলছেন। দুই ওয়ার্ডের অন্তত চারটি স্থানে সড়কের ওপরে ময়লার কনটেইনার রাখা। এসব কনটেইনারের কারণে সড়ক সরু হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ময়লার দুর্গন্ধে যাত্রী-পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কবে নাগাদ এই দুই ওয়ার্ডের সড়ক থেকে ময়লা-আবর্জনা সরবে, তার নিশ্চয়তা নেই। ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ডিএনসিসির ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে এসটিএস বানানোর জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে মোহাম্মদপুর এফ ব্লকের জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নিম্ন আয়ের জনগণের জন্য নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট প্রকল্পের পেছনে।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এখনো জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বিপন কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে দুটি সেকেন্ডারি স্টেশন করার কথা। অথচ ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য একটি স্টেশন করার জায়গা পাওয়া গেছে। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এখনো সেই জায়গা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় স্টেশন তৈরির কাজ শুরুই করা যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দেখা যায়, শ্যামলী রিং রোডে শ্যামলী ক্লাব মাঠের সামনে, মোহাম্মদপুর এফ ব্লকে বাদশাহ ফয়সাল ইনস্টিটিউটের প্রধান ফটকের পাশে এবং জনতা হাউজিং লিমিটেডের প্রবেশপথের পাশে সড়কজুড়ে ময়লা-আবর্জনা রাখা। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাসাবাড়ি থেকে গাড়িতে করে আনা ময়লা সড়কে রাখছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্যামলী ক্লাব মাঠ ও জনতা হাউজিংয়ের সামনের সড়কে রিং রোড, হোলি লেন, আদাবর, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, বায়তুল আমান ও শেখেরটেক এলাকার ময়লা ফেলা হয়। বাদশাহ ফয়সাল ইনস্টিটিউটের সামনে ব্লক এফ, ব্লক সি, জহুরি মহল্লা, তাজমহল রোড, আজিজ মহল্লা, টিক্কাপাড়া, বিজলী মহল্লার বাসাবাড়ির ময়লা ফেলা হয়।
বাদশাহ ফয়সাল ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষক বলেন, ‘আগে স্কুলের প্রবেশপথের সামনেই ময়লা ফেলা হতো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লা না ফেলার জন্য কয়েকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরে একটু পাশে সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু কনটেইনার সব সড়কেই রাখা হচ্ছে।’ ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দৈনিক প্রায় ৫০ টন বর্জ্য সড়কের ওপরে এনে রাখা হয়। বিভিন্ন মৌসুমি ফল বাজারে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে ময়লা-আবর্জনার পরিমাণও বেড়েছে। তাই মোহাম্মদপুর এলাকায় অতিরিক্ত ময়লার কনটেইনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব ওয়ার্ডে এসটিএস হয়ে গেলেও আমার ওয়ার্ডে হয়নি। এসটিএস বানানোর জন্য এফ ব্লকে মাত্র দুই কাঠা জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলেই এসটিএস বানানোর কাজ শুরু হবে। তখন সড়কে আর ময়লা থাকবে না।’

No comments:

Post a Comment