Wednesday, May 25, 2016

অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে ঢেকে গেছে গ্রাম

প্রাণহানির আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন কারও জেলার সুকানদেবি গ্রামের বাসিন্দারা। ছবি: রয়টার্স
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মাউন্ট সিনেবাং আগ্নেয়গিরিতে গত শনিবার থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে বেরিয়ে আসা ছাইয়ের মেঘে ঢেকে গেছে আশপাশের এলাকা।
অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে বেরিয়ে আসা ছাইয়ে ঢেকে গেছে গ্রাম। বাড়িঘরে
কেউ থেকে থাকলে তাদের সরিয়ে নিচ্ছে সেনাসদস্যরা। ছবি: রয়টার্স
একই সঙ্গে বেরিয়ে আসছে গ্যাস ও নুড়িপাথর।  অগ্ন্যুৎপাতের কারণে এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছে। আর দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ সংস্থার কর্মকর্তা জানান,
কারও জেলায় ছাইয়ে ঢেকে যাওয়া রাস্তা পরিষ্কার করছেন স্থানীয় লোকজন। ছবি: এএফপি
এসব এলাকায় থাকা জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২ হাজার ৪৬০ মিটার উঁচু এই আগ্নেয়গিরি দেশটির সবচেয়ে সক্রিয়। ৪০০ বছর পর ২০১৪ সালে আবার এটি জেগে ওঠে।
কারও জেলায় ছাইয়ের হাত নিজের বাগান রক্ষার চেষ্টা করছেন একজন। ছবি: এএফপি
ওই সময় ১৬ জন মারা গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাস ও নুড়িপাথরের ঢেউয়ের তাপমাত্রা ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। আশপাশের এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। ছবি: এএফপি
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার (বিএনপিবি) মুখপাত্র সুতোপো পুরও নুগরোহো এক বিবৃতিতে বলেন, কয়েক বছর আগে সরকার সিনেবাংয়ের জ্বালামুখসহ আশপাশের এলাকা ও গ্রামগুলোকে ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসা লাভার স্রোত। ছবিটি গ্রামবার গ্রাম থেকে তোলা: রয়টার্স
এর মধ্যে গ্যামবার গ্রামটিও রয়েছে। তবে অনেকেই এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সেখানে গিয়ে আবারও অস্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। আগ্নেয়গিরির উদ্‌গিরণ এতটাই তীব্র যে ১২ কিলোমিটার দূরের শহরতলিও ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
অগ্ন্যুৎপাতে বিপর্যস্ত গ্যামবার গ্রাম। ছবি: এএফপি
সরকার এ এলাকাকে বিপজ্জনক ঘোষণা করার পরও এক কমলা ব্যবসায়ী তাঁর বাগানে থাকা কমলার ওপর থেকে ছাই পরিষ্কার করছেন। তিনি বলেন, ‘যদি ছাই না পরিষ্কার করি, তাহলে কমলাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
গ্যামবার গ্রামে মানুষের মতো অসহায় হয়ে পড়েছে অন্য প্রাণীরাও। ছবি: রয়টার্স
আর এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে আমার সংসার চলবে না।’

No comments:

Post a Comment