Wednesday, May 4, 2016

বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণসামগ্রী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ

ফরিদপুর সদর উপজেলার সাদিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে
নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা।
গতকাল সকালে তোলা ছবি l প্রথম আলো
ফরিদপুর সদর উপজেলার সাদীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ইট, পাথর, বালুসহ নির্মাণসামগ্রী রাখায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন চৌহাটা-গজারিয়া সড়কের নির্মাণকাজের জন্য এসব সামগ্রী আনা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠের তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ জায়গাজুড়ে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। এ ছাড়া সারা মাঠে কুচি পাথর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ফলে পুরো মাঠই খেলা বা হাঁটাচলার জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সর্দার আবু বক্কর বলেন, ‘১২ দিন ধরে এসব সামগ্রী মাঠে রাখা হয়েছে। আমরা বর্তমানে পাথর ও বালু মেশানোর কাজ করছি। পরে মেশিন দিয়ে মেশানোর কাজ শুরু হবে।’ এলাকার বাসিন্দা খোরশেদ প্রামাণিক বলেন, ‘যখন মেশিন দিয়া মেশানো শুরু করা হবে, তখন ধোঁয়া ও শব্দে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ থাকবে না।’ ওই কাজের ঠিকাদার শাহেদ সারোয়ার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে মাঠের এক কোনায় নির্মাণসামগ্রী রেখেছি। এতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’ সজীব মোল্লা, রাকিবুল ইসলাম, জয় ভুঁইয়াসহ কয়েকজন ছাত্র জানায়, বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করার কথা ভেবেছিল তারা। সে পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে। এখন মাঠের যে অবস্থা, তাতে তারা খেলতে পারছে না। মীম আক্তার, তামান্না আক্তার, শারমীন মিনাসহ কয়েকজন ছাত্রী জানায়, মাঠে নির্মাণসামগ্রী ও সারা মাঠে পাথর ছড়িয়ে থাকায় বিদ্যালয়ের এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যেতে তাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। মাঠ দিয়ে ভালোমতো হাঁটা যায় না। পায়ে পাথর ফোটে। প্রধান শিক্ষক সুশীল কুমার শীল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির নির্দেশে নির্মাণকাজের জন্য মাঠটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি অনুমতি দিলে আমার আর কিছু বলার থাকে না। তবে তিনি অনুমতি দেওয়ার আগে আমার সম্মতি নিয়েছেন।’ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, মাঠটি কয়েক দিনের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার অনুরোধ করায় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ সমস্যা সাময়িক।

No comments:

Post a Comment