Wednesday, May 4, 2016

‘চাপাতির আঘাত কার ঘাড়ে কখন পড়বে জানি না’

অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন
করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ছবি : প্রথম আলো
আমরা মনে করি, কেউ আমরা নিরাপদ নই। ঘাতকের চাপাতির আঘাত কার ঘাড়ে কখন পড়বে আমরা জানি না। কাজেই চুপ করে বসে থাকার অবকাশ নেই। আজকে অধ্যাপক রেজাউলের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি, কালকে কার জন্য এখানে সমবেত হতে হবে আমরা জানি না। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। আজ বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এভাবে মানুষ হত্যা করে দেশের উন্নয়ন করে লাভ কী? অর্থনীতির জন্য মানুষ, নাকি মানুষের জন্য অর্থনীতি! মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক নীলুফার সুলতানা, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদুল হাসান খান, ফলিত রসায়ন বিভাগের প্রভাষক দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ। মানববন্ধনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু বলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আমরা শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেব। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় যদি সন্তুষ্ট না হই, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিচার দাবি করব।’ তিনি আরও জানান, আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ছুটির কারণে কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। তবে ৭ ও ৮ মে সিনেট ভবনের সামনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মানববন্ধন পালন করবে শিক্ষক সমিতি। তারপরে নতুন কর্মসূচি জানানো হবে। এদিকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘মুকুল প্রতিবাদ ও সংহতি মঞ্চ’ গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। একই সময়ে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন করেছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, মনোবিজ্ঞান, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগ। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন রাজশাহীর ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে চার শিক্ষককে এ পর্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। কিন্তু এ পর্যন্ত একটি হত্যারও কোনো ফল দেখতে পাইনি। দেশেও প্রতিদিন একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড চলছে। আমাদের জীবনের এখন কোনো নিরাপত্তা নেই। আমরা বেঁচে আছি আমাদের কারণে নয়, আমাদের হত্যা করা হচ্ছে না বলে আমরা বেঁচে আছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ নূরুল্লাহ বলেন, ‘গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা দেখতে পাচ্ছি, শিক্ষক, ব্লগার, মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারীসহ সাধারণ মানুষকে যারা হত্যা করছে, তাদের বয়স ২০-২৫ বছরের মধ্যে। এসব তরুণের কয়েক বছর মোটিভেট করে এসব কাজে লিপ্ত করা হচ্ছে। এই তরুণেরা কেন এ কাজে লিপ্ত? আজকে যে হত্যাকাণ্ডগুলো হচ্ছে, তা আমাদের ভ্রান্ত রাজনীতির ফল। এর জবাব আমাদের রাজনীতিবিদদের দিতে হবে।’ গত ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাসার কাছেই অধ্যাপক সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিনই নিহত শিক্ষকের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে নগরের বোয়ালিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে নগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment