Wednesday, May 11, 2016

দুই ওপেনারেই গাজীর জয় by তারেক মাহমুদ

পায়ের পেশিতে টান পড়ার যন্ত্রণায় কাতর এনামুল।
শেষ পর্যন্ত তাঁকে বেরিয়েই যেতে হয়েছে মাঠ
ছেড়ে l প্রথম আলো
ভ্যাপসা গরমে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে বসতেও কষ্ট হচ্ছিল। মাঠে খেলোয়াড়দের অবস্থা কী ছিল বুঝুন। মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ছোট রানআপে বল করতে দেখে তাই অবাক হলেন না কী একটা কাজে স্টেডিয়ামে আসা প্রাইম দোলেশ্বর পেসার আল-আমিন হোসেন, ‘কী করবে ভাই, এই গরমে টিকে থাকতে হবে তো! পেসারদের কষ্টটাই বেশি হচ্ছে।’ তবে কাল গরমের সবচেয়ে বড় শিকার গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ওপেনার এনামুল হক। মাশরাফির দল কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের দেওয়া ২২৪ রানের লক্ষ্য যখন ওপেনিং জুটিতেই টপকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল গাজী, তখনই মাংসপেশিতে টান। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কয়েক ওভার চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত আর পারলেন না। ৭০ রান করে মাঠ ছাড়লেন দুই সতীর্থের কাঁধে ভর করে। মিরপুরে খেলা আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন। কাল আরেকটি সেঞ্চুরির সম্ভাবনা হাতছানি দিয়েও মিলিয়ে গেল। সেঞ্চুরি না হোক, ইমতিয়াজ হোসেনকে (৩১৬) টপকে উঠে যেতে পারতেন ব্যাটসম্যানদের তালিকার শীর্ষে। সে জন্য লাগত আর মাত্র ১৫ রান। এনামুলের ‘আহত অবসরে’ ছোটখাটো একটা বিপর্যয়েও পড়ে গেল তাঁর দল। সম্ভাব্য বড় জয় পরিণত হলো ৬ উইকেটের জয়ে।
এনামুল-শামসুর জুটি শুরুতে আক্রমণাত্মকই ছিল। এর উল্টো ফল এনামুল পেতে পারতেন ইনিংসের প্রথম বলেই। কলাবাগানের বাঁহাতি স্পিনার নিহাদুজ্জামানের বলে শর্ট মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ফিল্ডার আবদুর রাজ্জাকের পিচ্ছিল হাতের সৌজন্যে। ওই ওভারেই শামসুরের ব্যাট থেকে এসেছে দুই বাউন্ডারি। রবিউলের করা পরের ওভারের প্রথম দুটি বলেও চার মারলেন এনামুল। তবে বাউন্ডারি নয়, ৮৩ বলে এনামুলের ৭০ রানের ইনিংসের উল্লেখযোগ্য দিক, দৌড়েই তিনি নিয়েছেন ৪০ রান! পরের দিকে ব্যাটিংয়ে মারদাঙ্গা ভাবটা না থাকলেও তাই গাজীর রানের চাকা ছিল সচল। ২৮তম ওভারে এনামুল মাঠ ছাড়ার সময় স্কোর ১৫৫।
জয়টা সেখান থেকে যত দ্রুত হওয়া উচিত ছিল, তা অবশ্য হয়নি। এনামুল যাওয়ার পর মাত্র ২০ রানে পড়ে ৪ উইকেট। ৯১ বলে ৭৫ করে মাশরাফির প্রথম শিকার শামসুর। ছোট রানআপে বল করেও পরে ফারুক হোসেনের উইকেটটিও নেওয়া মাশরাফিই বল হাতে কলাবাগানের সেরা পারফরমার। আর ব্যাটিংয়ে রাজ্জাক। তৃতীয় উইকেট-জুটিতে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা-তাসামুল হক ৫৯ রান যোগ করলেও শেষ দিকে রাজ্জাক মারমুখী না হলে কলাবাগানের রান দুই শ না-ও পেরোতে পারত। ৪২তম ওভারে রাজ্জাক যখন উইকেটে আসেন, রান ৮ উইকেটে ১৭৬। সেখান থেকে তিন ছক্কা আর এক বাউন্ডারিতে ১৫ বলে ৩০ করে তিনিই ২২৩-এ নিয়ে যান কলাবাগানকে। তিন ছক্কার দুটিই অলক কাপালির বলে, আরেকটি মেরেছেন মোহাম্মদ শরীফকে।

No comments:

Post a Comment