![]() |
| শাহরিয়ার নাফীসের সেঞ্চুরি উদ্যাপন। কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে l প্রথম আলো |
ভালো শুরু করছিলেন প্রায় প্রতি ম্যাচেই। কিন্তু সেই শুরুকে বড় ইনিংসে
পরিণতি দিতে পারছিলেন না। প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে আগের ম্যাচে যাও সেটা
পারলেন, একটা আফসোস জাগল। ৮৪ রানে অপরাজিত থাকা মানে তো সেঞ্চুরির
অতৃপ্তি নিয়েই মাঠ ছাড়া! মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল সেই অতৃপ্তিও
দূর করলেন শাহরিয়ার নাফীস। ১৩৪ রানের ইনিংস খেলে সিসিএসের বিপক্ষে
ব্রাদার্সকে জিতিয়েছেন ৩৮ রানে। ২০১০ সালে গাজী ট্যাংকের হয়ে করা পর পর দুই
সেঞ্চুরির পর প্রিমিয়ার লিগে কালই আবার সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বাঁহাতি
ওপেনার। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে সর্বশেষ সেঞ্চুরিটি অবশ্য করেছিলেন ২০০৭
বিশ্বকাপে বারমুডার বিপক্ষে। তবে সিসিএসের সাইফ হাসান ৮৬ করে রানআউট হয়ে
না গেলে কাল হয়তো সেঞ্চুরি করেও হাসতে পারতেন না শাহরিয়ার। জয়ের হাসির
সঙ্গে সাইফ পেয়ে যেতে পারতেন লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় সেঞ্চুরিও। ২৫
রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় সিসিএস। অনভিজ্ঞ দলটা এরপরও গেছে বহুদূর।
সাইফ-সালমানের ১৩৯ রানের তৃতীয় উইকেট জুটির সুবাদে একটা সময় তো জয়ের
স্বপ্নই উঁকি দিচ্ছিল দিগন্তে! দলের ১৬৪ রানে ব্রাদার্সের ভারতীয় অফ
স্পিনার মিলিন্দ কুমারের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সালমান (৬৮) ফিরে যাওয়ার পরও
সেটি ফিকে হয়নি। ১৪ ওভার ১ বলে ৮৯ হলে জিতে যায় সিসিএস, হাতে তখনো ৭
উইকেট। কিন্তু ১৭৭ রানে পর পর ২ উইকেট নিয়ে ব্রাদার্সের বাঁহাতি স্পিনার
আসিফ হাসান খেলার মোড়টাই দেন ঘুরিয়ে। সেখান থেকে সিসিএসের শেষ ৭ উইকেট
পড়েছে মাত্র ৩৮ রানে। ম্যাচ শেষে যে কয় রানের ব্যবধান ছিল আর যে কয় ওভার
হাতে ছিল, তিন নম্বরে নামা সাইফ শেষ পর্যন্ত উইকেটে থাকলে ফলটা অন্য রকম
হতেও পারত। শেষ ৮ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬৩ রান। কিন্তু ৪৩তম ওভারের প্রথম
বলেই অধিনায়ক রাজিনের ভুলে রানআউট সাইফ। মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর
শেষ বিপর্যয়ের শুরু সেখানেই। ২০১৩ সালে সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলা
শাহরিয়ারের ব্যাটে কাল আবারও দেখা গেছে পুরোনো দ্যুতি। উদ্বোধনী জুটিতে
নেমে আউট হয়েছেন ইনিংসের মাত্র দুই বল বাকি থাকতে। তাও সে সময় মেরে খেলাটাই
জরুরি ছিল। ১৪৭ বলে ১৩৪ রানের ইনিংসে ১৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছক্কা ৫টি।
চারটি ছক্কাই নিজের ইনিংসের শেষ ১২ বলে। নাসুম আহমেদের বলে মেহরাব জুনিয়রের
ক্যাচ হওয়ার আগের দুই বলেই মেরেছেন পর পর দুটি। ৮০ থেকে ৯০-এর ঘরে
ব্যাটিংয়ের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে গেলেও এরপর সেঞ্চুরিটা দ্রুতই করে নিয়েছেন
শাহরিয়ার। ব্যক্তিগত ৯০ রানের মাথায় রাজিনকে মারেন নিজের প্রথম ছক্কা, ৯৮
থেকে ১০০ পার হয়েছেন সালেহকে চার মেরে। ব্রাদার্সের ৬ উইকেটের চারটিই
নিয়েছেন তরুণ এই বাঁহাতি স্পিনার। ছয় ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ব্রাদার্সের পয়েন্ট এখন ৬। সমান ম্যাচ খেলে সিসিএস জয় পায়নি একটিও।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ব্রাদার্স: ৬ উইকেটে ২৫৩ (শাহরিয়ার ১৩৪, ইমরুল ৪৯; সালেহ ৪/৪৫)। সিসিএস: ৪৭.২ ওভারে ২১৫ (সাইফ ৮৬, সালমান ৬৮; মিলিন্দ ২/২৭, আসিফ ২/৩৪, নাবিল ২/৫৩)। ফল: ব্রাদার্স ৩৮ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফীস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ব্রাদার্স: ৬ উইকেটে ২৫৩ (শাহরিয়ার ১৩৪, ইমরুল ৪৯; সালেহ ৪/৪৫)। সিসিএস: ৪৭.২ ওভারে ২১৫ (সাইফ ৮৬, সালমান ৬৮; মিলিন্দ ২/২৭, আসিফ ২/৩৪, নাবিল ২/৫৩)। ফল: ব্রাদার্স ৩৮ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শাহরিয়ার নাফীস।

No comments:
Post a Comment