Monday, June 20, 2016

পণ্যভেদে দ্বিগুণ দাম পাইকারির চেয়ে খুচরা বাজারে

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে বাজার মনিটরিং কমিটির অভিযানের পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বেশ হেরফের লক্ষ্য করা গেছে। পাইকারি বাজার থেকে বিভিন্ন খুচরা বাজারে পণ্যভেদে দাম দ্বিগুণ পর্যন্ত বেশি নেয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি দোকানে টানানো মূল্যতালিকা থেকে বাড়তি দুই-এক টাকা নেয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার, বাড্ডা ও সেগুনবাগিচা বাজার সরজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। তবে রোজার শুরুতেই ভোক্তারা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখায় পণ্যের চাহিদা অনেক কমেছে। ফলে পাইকারি পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে কিছুটা দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে বাড়তি দাম পাওয়া আশায় পাইকাররা আগে থেকেই পণ্যমজুত করেন। রোজার শুরুতে ক্রেতাদের মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য কেনার হিড়িক পড়ে। এই সুযোগে পণ্য ঘাটতি দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন পাইকাররা। ফলে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন খুচরা বিক্রেতারা। তবে চাহিদা কমায় আগামী ১৫ রোজার পর থেকে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালাচ্ছে বাজার মনিটরিং কমিটির টিম। তারা অভিযান চালিয়ে পচা, মেয়াদোত্তীর্ণ মাছ-মাংস ও অন্য খাদ্যপণ্য বিক্রির দায়ে জরিমানা করছে। কিন্তু জরিমানা ও শাস্তি দেয়ার পর আবারও বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা। শুধুমাত্র জরিমানা করে বা শাস্তি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এর জন্য ব্যবসায়ীদের নৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। রাজধানীর একধিক পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি দরে দেশি পিয়াজ কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে একই পিয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতেই ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি মুনাফা করা হচ্ছে। রসুনের কেজিতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। তবে রসুনের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। বাজারে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা দরে এবং আমদানি করা মোটা রসুনের দাম পড়ছে ১৯০ টাকা। গত সপ্তাহে পণ্যটি ১৪০ থেকে ২১০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল। খুচরা বাজারে বেগুন প্রতিকেজি ৫০ টাকা। আর পাইকারি বাজারে একপাল্লা (৫ কেজি) বেগুন ৫০ টাকা। অর্থাৎ পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন। দাম বেশি নেয়া প্রসঙ্গে সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা জয়নুল বলেন, পরিবহন খরচ অনেক বেশি পড়ে। এজন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। অবশ্য পাইকারি বাজার কাওরান বাজারে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়ে যাওয়া দামেই বাজারভেদে দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০-১৪৫ টাকা, আমদানি করা মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, ছোলা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা এবং চিনি ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি ডালের কেজি ১৪০ টাকা ও ভারতীয় ১০৫ টাকা। তবে চিনিতে দুই/এক টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য সব সময় দায়ী করা হয়। আসলে এ দায় আমদানিকারক ও উৎপাদকদের। এ কারণে আমরা সরকারের কাছে পণ্যমূল্যের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছিলাম। এর ফলে জনগণও জানতে পারবে, আমদানিকারক উৎপাদকদের কাছ থেকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কেমন মূল্যে পণ্য কেনেন। ভোক্তারা তা কেমন মূল্যে কিনতে পারবেন। রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশির ভাগ সবজি। প্রতি কেজি করলা ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, পটোল ৩০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্য তেলের মধ্যে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯২ টাকা, সুপার ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি ৫ লিটার পাওয়া যাচ্ছে ৪৪০ টাকা থেকে ৪৫৫ টাকার মধ্যে। সরিষার তেল মানভেদে প্রতি কেজি ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির ডিম ৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। গরুর মাংস ৪২০ টাকায় ও খাসির মাংস ৫৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬৫-১৭০ টাকা; লেয়ার মুরগি ২০০-২১০ টাকা।
এ সপ্তাহে রাজধানীর বাজারে গত সপ্তাহের অতিরিক্ত দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়েলার মুরগি। তবে গত সপ্তাহের থেকে ২০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে লেয়ার মুরগি। ব্রয়লার কেজি প্রতি ১৮০ টাকা, লেয়ার কেজি প্রতি ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির পিস ৩০০ টাকা। পাকিস্তানি মুরগির প্রতিটি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment