Monday, June 20, 2016

খালাস চেয়ে মীর কাসেম আলীর রিভিউ

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী। গতকাল তার আইনজীবীদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন তিনি। মীর কাসেমের আইনজীবীরা জানান মোট ৮৬ পৃষ্ঠার আবেদনে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ১৪টি গ্রাউন্ড (যুক্তি) উপস্থাপন করা হয়েছে। ৬ই জুন মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পরে রায়ের কপি ওই দিন বিকালে বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গেলে মীর কাসেমের বিরুদ্ধে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ৭ই জানুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মীর কাসেমকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। এর আগে গত ৮ই মার্চ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের বেঞ্চ মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত রায় দেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিভিউ আবেদনের জন্য ১৫ দিনের সময় পেয়েছিলেন মীর কাসেম আলী। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের মধ্যে মীর কাসেম আলীসহ  সাতজনের আপিল নিষ্পত্তি শেষে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর রিভিউয়ের পর্যায়ে এলো। রিভিউ আবেদন নাকচ হলে শেষ সুযোগ হিসেবে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন মীর কাসেম আলী। গতকাল রিভিউ আবেদন দাখিলের পর দুপুর ১টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মীর কাসেমের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রিভিউ আবেদনে সকল অভিযোগ ও দণ্ড থেকে আমরা খালাস চেয়েছি। আশা করি সর্বোচ্চ আদালত আবেদন বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, বানানো ও মিথ্যা সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তাকে (মীর কাসেম আলী) সর্বোচ্চ দণ্ড দেয়া হয়েছে। মীর কাসেম আলী রাজনীতিবিদ নন, একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মন্তব্য করে তিনি বলেন, একাত্তরে যে ঘটনাগুলোর কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে সে সময় তিনি চট্টগ্রামে ছিলেন না, ঢাকায় ছিলেন। তাই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে অপরাধ সংগঠন করা সম্ভব নয়। মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম, আইনজীবী সাইফুর রহমান এসময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে রিভিউয়ে দণ্ড মওকুফের সম্ভাবনা কম উল্লেখ করে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

No comments:

Post a Comment