Saturday, June 18, 2016

রংপুরের ১০ আলোচিত মামলার চার্জশিট হয়নি আজও

রংপুরে জঙ্গি জেএমবির হাতে খুন হওয়ায় জাপানি নাগরিকসহ ৩ হত্যাকাণ্ড ও বিভাগের ১০ আলোচিত ঘটনার মামলার চার্জশিট আজও দাখিল করতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তারা। সব মামলার তদন্ত চলছে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওকে গুলি করে হত্যা, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের মঠের অধ্যক্ষ মহারাজ যোগেশ্বর রায় ও রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলীকে গলা কেটে হত্যা জেএমবি সদস্যরা করেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবি সদস্যরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানায়। রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও দিনাজপুরসহ ৮ জেলা জেএমবির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চিহ্নিত করেছে। রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, জেএমবি এ অঞ্চলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যহত রয়েছে। এদিকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগে খুন-নাশকতার মূল হোতা জেএমবি। জেএমবি সদস্যরা গত বছরের ৩রা অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওকে হত্যা করে। এরপর কাউনিয়ার মাজারের খাদেম রহমত আলীকে গলা কেটে হত্যা করে। রংপুর-দিনাজপুর সড়কের টেক্সটাইল মোড়ে বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিন ও দিনাজপুর শহরের ইতালি নাগরিক ফাদার ডা. পিয়ারোকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা, দিনাজপুরে ইস্কন মন্দিরে হামলা ও গুলি, কান্তজির মেলায় বোমা বিস্ফোরণ, রংপুর চার্চ সংঘের ১০ যাজককে হত্যার হুমকিসহ সর্বশেষ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ শ্রী শ্রী সন্তু গৌরীয় মঠের পুরোহিত যগেশ্বর রায়কে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনায় জেএমবি কমান্ডারসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একে-৪৭ রাইফেল, প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি, ৩টি অত্যাধুনিক পিস্তল, ৬০টি গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম, বিপুল পরিমান বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ছোড়া, চাকু, জিহাদি বই, আফগান যুদ্ধের সিডি ও ৩টি মোটরসাইকেল। জেএমবি কমান্ডার মাসুদ রানা, জেএমবি সামরিক শাখার কমান্ডার ইরাক ফেরত ইসাহাক আলী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডসহ সকল অপকর্মের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। দেবীগঞ্জের সন্তু গৌরীয় মঠের পুরোহিত যগেশ্বর রায় হত্যার মূল হোতাসহ আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি সদস্য। কিলিং মিশনের আগে ও পরে জেএমবির সদস্যরা মোবাইল ফোন প্রযুক্তি ব্যবহার না করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত হতে বেগ পেতে হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। সূত্রটি জানায়, পুরোহিত যগেশ্বর রায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা এবং সরাসরি হত্যাকাণ্ডে ৮ জেএমবি সদস্য অংশ নেয়। যাদের মধ্য থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কিলিং মিশনে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জেএমবির বিচ্ছিন্ন কয়েকটি গ্রুপ রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় তাদের এ ধরনের কিলিং মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। তবে তারা সংখ্যায় বেশি নয়। তাদের ওই কিলিং মিশনের ৪টি গ্রুপকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান। এরা মূলত রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধা জেলায় বারবার আস্তানা বদল করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ধরনের একটি গ্রুপে ৫ জনকে গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ বুজরুক বোয়ালীয়া শিল্পপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, জিহাদি বই, মেমোরি কার্ড, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে উৎকণ্ঠায় ফেলেছে। গ্রেপ্তারকৃত জেএমবি সদস্যরা বয়সে তরুণ। তারা দরিদ্র ও মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত। তাদের হাই কমান্ডারের নির্দেশে কিলিং মিশনের আগে ও পরে মোবাইল ফোনে তথ্য আদান প্রদান করছে না। তথ্য সরবরাহের জন্য বাহক ব্যবহার করছে। জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডসহ সব ঘটনায় জেএমবি জড়িত। ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষের দিকে। রংপুর গোয়েন্দ সংস্থার কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, রংপুর বিভাগের বিদেশি নাগরিকসহ পরপর বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জেএমবি জড়িত এটা নিশ্চিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

No comments:

Post a Comment