Saturday, June 18, 2016

মৌসুমি ইফতার ব্যবসায়ী

রমজান এলে পেশা বদলে ফেলে ওরা। শামিয়ানা, বাঁশ আর টেবিল সাজিয়ে ফুটপাথে বসে যান ইফতার সামগ্রী নিয়ে। রোজার একমাস ইফতার বিক্রির পর আবার যে যার পেশায় ফিরে যান। এমনই একজন মনির। সারা বছর  বাদাম বিক্রি করে মনির। কিন্তু রমজানের এক মাস মনির বাদাম বিক্রি করে না। ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে। কাওরান বাজারে ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসে। মনির জানায়, রমজান মাসে বাদাম বিক্রি কমে যায়। মানুষ ইফতারের পর আর বাদাম খেতে চায় না। তাই এই এক মাস বাদাম বিক্রি না করে ইফতার বিক্রি করে। বাদামের চেয়ে ইফতার বিক্রিতে লাভ বেশি। বাদাম বিক্রি করে প্রতিদিন তিনশ’ টাকা আয় হতো। কিন্তু এখন প্রতিদিন আটশ’ থেকে এক হাজার টাকা আয় হয়। বায়তুল মোকাররমের সামনের ফুটপাথে বসে খেজুর বিক্রি করে স্বপন। আগে সে পেয়ারা বিক্রি করতো। স্বপন বলেন- রমজান এলেই খেজুরের চাহিদা বেড়ে যায়। কারণ সবাই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করে। তাই রমজান মাসে খেজুর বিক্রি খুব লাভজনক। একটি বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে সিকিউরিটির চাকরি করেন জাহিদ। দুপুর তিনটা পর্যন্ত তার ডিউটি। ডিউটি শেষ করে ফার্মগেটের ফুটপাথে টেবিল বসিয়ে ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, চপ, বেগুনী বিক্রি করে। জাহিদ জানায়, নির্দিষ্ট কাজের বাইরে বাড়তি আয়ের জন্যই ইফতার বিক্রি করছে সে। ছোলা, পিয়াজু, চপ, বেগুনী সবকিছুই তার স্ত্রী বানিয়ে দিয়েছে। সব ধরনের আইটেমই বাসায় বানানো। একারণে মানের দিক দিয়েও স্বাস্থ্যসম্মত। স্ত্রীর আগ্রহে তিনি ইফতার বিক্রি করছেন। যদিও সারাদিন চাকরি করার পর ইফতার বিক্রি করতে একটু কষ্ট হয়। তারপরও সংসারের কথা ভেবেই ইফতার বিক্রি করা। ছোলা এক প্যাকেটের দাম দশ টাকা, চপ ও বেগুনী পাঁচ টাকা এবং পিয়াজু তিন টাকা। বেচা-বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানায় সে। এদিকে রংপুর থেকে এসে শাহবাগে ইফতার বিক্রি করছে আবু তালেব। প্রতি বছর রমজানের আগে সে রংপুর থেকে এসে ২৭ রমজান পর্যন্ত ইফতার বিক্রি করে। এরপর বাড়ি চলে যান। তালেব বলেন, ২৭ রমজান থেকে মানুষ বাড়ি যাওয়া শুরু করে। এসময় ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। তখন বেচা-বিক্রি কমে যায়। এ কারণে ২৭ রমজানের পরে আমি আর ইফতার বিক্রি করি না। স্ত্রী-সন্তানরাও অপেক্ষা করে নতুন পোশাকের জন্য। সারা মাসে ইফতার বিক্রি করে যে লাভ হয় তা দিয়ে স্ত্রীর জন্য নতুন শাড়ি, মেয়ের জন্য জামা এবং দুই ছেলের জন্য নতুন প্যান্ট- শার্ট নিয়ে যান আবু তালেব। নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত নগরীর অধিকাংশ মানুষ ফুটপাথের দোকানগুলো থেকে ইফতার কিনে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ফুটপাথ থেকে ইফতার কিনছেন তিনি। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন- বাসায় প্রতিদিনই ইফতার বানানো হয়। তারপরও অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে ফুটপাথ থেকে কিছু না কিছু ইফতার কিনতে হয়। এদিকে বসুন্ধরা সিটির একটি দোকানে চাকরি করেন রাসেল। রমজান মাসে তাদের কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। অনেক রাত অবধি কাজ করতে হয় তাদের। একারণে প্রতিদিন দোকানেই ইফতার করতে হয়। দোকানের মালিক ইফতারের টাকা দেন তাকে। যে টাকা দেন তা দিয়ে বসুন্ধরা সিটি মার্কেটের সামনের ফুটপাথ থেকে ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, আলুচপ, বেগুনী কিনে এনে সবকিছু এক সঙ্গে মাখিয়ে ইফতার করেন তারা। যারা যানজটে আটকা পড়েন অথবা কাজের প্রয়োজনে বাইরে বেরিয়ে পথে কিংবা রাস্তায় ইফতার করতে হয়, তখন তাদের একমাত্র ভরসা ফুটপাথের ইফতার। এমন কি রাজধানীর বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশনগুলোতে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষকে ফুটপাথের দোকানগুলো থেকে ইফতার কিনে খেতে।

No comments:

Post a Comment