টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় দর্জি নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দার হত্যারহস্য দেড় মাসেও উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতিও নেই। নতুন কোনো আসামিও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই দর্জি নিখিলের স্ত্রী আরতী রাণী জোয়ার্দারসহ তিন ভাই ভোলানাথ জোয়ার্দার, অখিল জোয়ার্দার ও গোপাল জোয়ার্দারের পরিবার আতঙ্কে বাড়ি থেকে পালিয়ে রয়েছেন। গতকাল সকালে দর্জি নিখিলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সুনসান নীরবতা। বাড়িতে মোট ৪টি থাকার ঘরে তালা ঝুলছে। ওই বাড়িসহ আশপাশ দিয়ে লোকজনের চলাচল নেই বললেই চলে। ডুবাইল বাজার এলাকায় আতঙ্কে অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। হত্যাকান্ডের পরদিন দর্জি নিখিলের স্ত্রী আরতি রাণী জোয়াদ্দার ও গোপালপুর থানার এসআই মোকছেদুল আলম পৃথক দু’টি মামলা করেন। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় আলমনগর মাদরাসার অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম বাদশা ও বীরনহরা গ্রামের বিএনপি কর্মী ঝন্টু মিয়াকে। তাদের দুটি মামলায় তিন দিন করে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দুটি মামলাই তদন্ত করছে টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে নিখিলের পরিবার। একই সঙ্গে পরিবারের লোকজন ভুগছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়। নিখিল জোয়ার্দারের মেয়ে লিপি রাণী চন্দ জানান, তার বাবা হত্যার পর তাদের বাড়িতে কিছু দিন পুলিশ পাহারা ছিল। পুলিশ পাহারা তুলে নেয়ায় এখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দর্জি নিখিলের স্ত্রী আরতী রাণী জোয়ার্দার এখন প্রাণ ভয়ে ঘাটাইল উপজেলার টিএনটি রোডে তার বোনের বাসায় রয়েছেন। তিনি বলেন, কি হতে কি হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারলাম না। একটা অজানা আতঙ্ক আমাকে সব সময় তাড়া করে ফিরে। কখন যেন জঙ্গিরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। বাড়ির যেতে মন কাঁদে তবুও যেতে পারছি না। ডুবাইল বাজারের ব্যবসায়ী খলিল মিয়া বলেন, নিখিলে হত্যাকারী ধরা পড়লে আমাদের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে। স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার পর থেকেই বাজারে লোকজন সমাগম কমে গেছে। আইএস দায় স্বীকার করায় এ আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক অলক কুমার দাস বলেন, সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই এমন ঘটনা সারাদেশে পুনরাভিত্তি হচ্ছে। একটি ঘটনার সঠিক বিচার হলে এমন ঘটনা বন্ধ হবে। টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মাহফীজুর রহমান জানান, নিখিল হত্যা রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কাজ চলছে। নিখিল চন্দ্র হত্যাকাণ্ডের পর উদ্ধার করা রক্তাক্ত শার্ট ও চাপাতি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সে রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। হত্যার নেপথ্যে কি কি কারণ থাকতে পারে তার সবই খতিয়ে দেখে জোর তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জেএমবির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও তাদের ধারণার কথা জানান ডিবি’র ওসি। উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে টাঙ্গাইলের গোপালপুর শহরের ডুবাইল বাজারে নিজের দোকানে কাজ করছিলেন দর্জি নিখিল চন্দ্র জোয়ার্দার। তখন মোটরসাইকেল নিয়ে এসে তিন দুর্বৃত্ত তাকে ডেকে দোকানের সামনে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তিনজনের মধ্যে একজনের মাথায় হেলমেট ছিল। বাকিরা খালি মাথায় থাকলেও তাদের কাউকে আশপাশের কেউ চিনতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের পর জঙ্গি সংগঠন আইএস এ হত্যার দায় স্বীকার করে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment