Saturday, June 18, 2016

অরল্যান্ডোয় বহু মানুষকে বাঁচিয়ে নায়ক ইমরান

যখন ওমর মতিন সামরিক ধাঁচের এআর-১৫ অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে অরল্যান্ডোর সমকামী নাইটক্লাবে তাণ্ডব শুরু করেন, তখনই গুলির শব্দ চিনতে পারেন এক ব্যক্তি। তিনি ছিলেন পালস নামে ওই নাইটক্লাবের বাউন্সার ইমরান ইউসুফ, যার দায়িত্ব মধ্যপ বা বিশৃঙ্খল কাউকে ক্লাব থেকে বের করে দেয়া। আফগানিস্তান যুদ্ধফেরত সাবেক মেরিন সেনা ইমরান ওইদিন যেন আরো একবার ফিরে গেলেন যুদ্ধক্ষেত্রে। শেষ পর্যন্ত তার কারণে বেঁচে যান বহু মানুষ। মার্কিন টিভি চ্যানেল সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। তবে নাম শুনে মুসলমান মনে হলেও ইমরান ইউসুফ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রথম দিকে তিন বা চারটি গুলি ছোড়া হয়েছিল। আশপাশের সব কিছু যেন নড়ে উঠেছিল। এমন তিন-চারটি গুলির পরই বুঝে উঠতে অসুবিধা হবে না যে, গুলি আসছে ‘হাই ক্যালিবারে’র অস্ত্র থেকে। সবাই বরফের মতো জমে যায়। আমি পেছনে ছিলাম। দেখলাম সবাই পেছনের হলওয়ের ভেতর ঢুকছে। একেবারে পোনামাছের মতো।’ ইউসুফ জানতেন সন্ত্রস্ত মানুষগুলোর পেছনেই আছে একটা দরজা। আর দরজা পেরলেই নিরাপদ থাকবেন তারা। কিন্তু দরজার খিল খুলতে হবে কাউকে। তিনি বলেন, ‘আমি তখন চিৎকার করছিলাম ‘দরজাটা খোলো! দরজাটা খোলো!’ কিন্তু কেউই নড়ছিল না, কারণ সবাই আতঙ্কিত। তাই পথ ছিল একটাই। হয় আমরা এখানে অবস্থান করবো আর কিছুক্ষণ পরই বন্দুকধারী এসে আমাদের মেরে রেখে যাবে। অথবা, কেউ একজন ঝুঁকি নিয়ে হলেও দরজাটা খুলবে, আর বেঁচে যাবে সবাই। অগত্যা, আমিই লাফ দিয়ে সেদিকে গিয়ে খিল খুলে দিলাম। সেখানের সবাইকে আমরা বের করতে সক্ষম হই।’ কতজন লোক বের হয়েছিল? ইমরানের জবাব, ‘হয়তো ৬০ বা ৭০। যখনই মানুষ দেখতে পেল দরজাটা খোলা, তখনই তারা তড়িঘড়ি করে বের হতে শুরু করলো। বের হওয়ার পর ভোঁ দৌড়।’তবে এরপরও সন্তুষ্ট নন ইমরান। বললেন, ‘সত্যি বলতে কি আরো কয়েকজনকে বাঁচাতে পারলে ভালো হতো। প্রচুর মানুষ মারা গেছেন।’ এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন সাবেক এই সেনাসদস্য।

No comments:

Post a Comment