যারা নির্দিষ্ট সময়ে মোবাইল ফোনের সিম
নিবন্ধন করেননি তারা মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকে বা সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফোন
করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন। ফোন কল করতে গিয়েও তারা কল করতে পারেননি।
সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী অনিবন্ধিত সিম ব্লক করার কারণেই এমনটা হয়েছে।
তবে এ বিষয়টি যতটা স্বাভাবিক তার চেয়ে বেশি অস্বাভাবিক হচ্ছে, যথাযথ নিয়মে
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশনের পরও সিমটি বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি।
একইসাথে রেজিস্ট্রেশন না করেও অনিবন্ধিত সিমটি চালু থাকায় অবাক হয়েছেন
অনেকে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপসহ নিবন্ধনের পূর্বনির্ধারিত সময়
শেষে সিম নিবন্ধন পরিস্থিতিতে এমনই তুঘলকি কাণ্ড ঘটছে। এসব ঘটনায় কোনো কোনো
অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার ঘেরাও করেছেন গ্রাহকেরা। এতে দুঃখ
প্রকাশও করেছে কর্তৃপক্ষ। সিম নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল ৩১ মে রাত ১১টা ৫৯
মিনিট পর্যন্ত।
ফলে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী জিরো আওয়ার থেকে একে একে অনিবন্ধিত
সিম নিষ্ক্রিয় হতে থাকে। ফলে সিম অনিবন্ধিত গ্রাহকেরা ফোন কল করতে গিয়ে
ব্যর্থ হন। এ সময় নিবন্ধন করা অনেক গ্রাহকের সিমটিও অকার্যকর হয়ে যায়। ফলে
কল করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। নিবন্ধন করা সত্ত্বেও মোবাইল সিম বন্ধ হয়ে
যাওয়ায় ুব্ধ ও আতঙ্কিত গ্রাহকেরা সকালে ধানমণ্ডি ও নারায়ণগঞ্জে একটি
কোম্পানির কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে
পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মতিঝিল এলাকায় একটি ব্রোকারেজ
হাউজের অংশীদার রায়হান কবীর এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকারের যথাযথ নির্দেশনা
মেনে আমার সিমটি বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের পরও রাত থেকেই বন্ধ করে দেয়া
হয়েছে। এখন আমি জরুরি কোনো ফোন করতে না পেরে খুব ঝামেলায় আছি। একইভাবে ুব্ধ
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন একই অফিসের অথরাইজড পারসন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি
ঠিকঠাকভাবে আমার সিম রেজিস্ট্রেশন করেছি। কিন্তু কোনো ধরনের সমস্যার কথা
না জানিয়ে আমার সিমটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এখন আমি কায়েন্টদের সাথে
যোগাযোগ করতে পারছি না। এটা কোন ধরনের ভদ্রতা হলো?’ ডেমরা এলাকার আমিনুল হক
চৌধুরী নামে একজন গ্রাহক বলেন, আমার সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা
আছে। তারপরও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শুনছি নেটওয়ার্ক সমস্যা। এটা কোনো সিস্টেম
হলো! তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির জনসংযোগ বিভাগ বলছে, তাদের একটি প্রধান
মোবাইল সুইচিং সেন্টারে হঠাৎ করেই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। এ কারণে
ঢাকার দণিাংশ ও নারায়ণগঞ্জের গ্রাহকেরা সাময়িক নেটওয়ার্ক সমস্যায় পড়েছেন।
এর সাথে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করা, না করার কোনো সম্পর্ক নেই।
বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ বলেছে, সমস্যাটি ঠিক হয়ে যাবে। এ
দিকে নিবন্ধিত সিম যেমন বন্ধের ঘটনা ঘটেছে তেমনি অনিবন্ধিত সিমও চালু থাকার
ঘটনা রয়েছে।
মতিঝিল এলাকায় দুই জন মোবাইল গ্রাহক এ প্রতিবেদককে জানান,
তাদের সিমটি নিবন্ধন করা না হলেও ফোন করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিটিআরসি ও
মোবাইল অপারেটর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনিবন্ধিত সিম পুরোপুরি বন্ধ
করতে একটু সময় লেগে যেতে পারে। বিশেষ করে ইনকামিং কল বন্ধ করাটা একটু
সময়সাপে ব্যাপার। সে জন্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থান ও বার বার ঘোষণার পরও
অনিবন্ধিত সিমগুলো এখনো সচল রয়েছে। গতকাল সকালে মতিঝিল ও ফার্মগেটসহ
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কাস্টমার কেয়ার ও রিটেইল আউটলেটগুলোতে
গ্রাহকেরা সিম নিবন্ধনের জন্য ভিড় করছেন। এ সময় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ঘণ্টার
পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় একটি কোম্পানির একজন গ্রাহক
জানান, গত ২৫ জানুয়ারি তিনি বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু
মঙ্গলবার রাত থেকেই তার সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
পরে সকালে মতিঝিল কাস্টমার
কেয়ারে গেলে তার জন্ম তারিখ ঠিক নেই বলে জানায় কাস্টমার কেয়ার। তাহলে আগে
কিভাবে নিবন্ধন করা হলো সেটা জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি
কাস্টমার কেয়ারের কর্মকর্তারা। পরে তার আঙুলের ছাপ নিয়ে আগামী ১২ ঘণ্টা পর
সিমটি চালু হবে বলে আশ্বাস দেন কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে
কর্মকর্তারা জানান, সার্ভারে ত্রুটি ও লাইনে গতি কম থাকায় সিম নিবন্ধনে
দীর্ঘ সময় লাগাসহ নানা সমস্যা হচ্ছে। জানতে চাইলে বিটিআরসি সচিব সারওয়ার
আলম এ প্রতিবেদককে জানান, নির্ধারিত সময়ে ১০ কোটি ৮১ লাখ সিম নিবন্ধন
হয়েছে। সেই হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি সিম অনিবন্ধিত রয়ে গেছে। তবে অনিবন্ধিত
অথবা বন্ধ সিম এখনো নিবন্ধন করা যাবে। সে জন্য মোবাইল ফোন অপারেটদের আগ্রহে
গ্রাহককে আপাতত কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না। তবে গ্রাহক বিনামূল্যে সিম
নিবন্ধন করলেও মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো সংশ্লিষ্ট সিম নিবন্ধন বাবদ সরকারকে
কর প্রদান করবে।

No comments:
Post a Comment