Sunday, August 21, 2016

তুরস্কে বিয়ের আসরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩০

মুহূর্তেই আনন্দ উৎসব পরিণত হলো শোকের উৎসবে। বিয়ের আসরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় তখন চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। রক্তে সয়লাব পুরো উৎসবস্থল। এখানে ওখানে পড়ে আছেন আহতরা। ছিটকে পড়ে আছে নিহতদের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। তার মাঝে বাঁচার করুণ আকুতি নিয়ে আর্তনাদ করছেন আহতরা। হৃদয় বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে সিরিয় সীমান্তের কাছে তুরস্কের শহর গাজিয়ানটেপে। তুরস্কে একেতো ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর মানুষজনের মধ্যে এক রকম চাপা আর্তনাদ, অভ্যুত্থানের জড়িত থাকার অভিযোগে আটক প্রিয়জনের জন্য নির্বাক হয়ে গেছেন অনেক স্বজন, তার মধ্যে এমন হামলায় তুরস্ক জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এক শোকের আবহ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। গাজিয়ানটেপের গভর্নর আলী ইয়েরলিকায়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ওই বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৯৪। তিনি এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন, যে বা যারাই এ হামলার জন্য দায়ী হোক তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে। ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) এমপি মেহমেদ এরদোগান বলেছেন, এ হামলার জন্য কে বা কারা দায়ী তা পরিষ্কার নয়। তবে এটা আত্মঘাতী হামলা হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের হামলা চালিয়ে থাকে আইএস অথবা কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। গাজিয়ানটেপের সাহিনবে জেলায় ওই হামলা হয়েছে। এ এলাকায় কুর্দিদের বসবাস। ফলে এখানে কুর্দিদের এমন হামলা চালানোর আশঙ্কা কম। এক্ষেত্রে চোখ যাচ্ছে আইএসের দিকে। ওই এলাকার একেপি পার্টির এমপি সামিল তায়ার বলেছেন, প্রাথমিক তথ্যে মনে হচ্ছে এ হামলার জন্য দায়ী আইএস। কারণ, এ এলাকায় বহু সংখ্যক কুর্দি ভাইয়ের বসবাস। এখানে কুর্দিদের হামলা চালানোর কথা নয়। তাছাড়া ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক কুর্দি। কুর্দিপন্থি পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (এইচডিপি) বলেছে, ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের বহু সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিল। এর বেশির ভাগই নারী ও শিশু। তুরস্ক পার্লামেন্টে গাজিয়ানটেপের প্রতিনিধিত্ব করেন উপ প্রধানমন্ত্রী মেহমেদ সিমসেক। তিনি বলেছেন, এসব হামলার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসীরা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। আমরা তাদের এ উদ্দেশ্য সফল হতে দিতে পারি না। এ হামলাটি আত্মঘাতী হওয়ার আশঙ্কা বেশি বলে তিনি মত দেন। উল্লেখ্য, সিরিয়া সীমান্ত থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে এই গাজিয়ানটেপ শহর। ফলে এ স্থানটি যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার মানুষের জন্য একটি উপযুক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে সেখানে আশ্রয় নিচ্ছেন। এ বছরে তুরস্কে বেশ বড় দুটি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। তাতে নিহত হয়েছেন বহু মানুষ। কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা রাজধানী আঙ্কারায় দু’বার হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আইএসের আত্মঘাতী বোমারুরা ইস্তাম্বুলের প্রাণকেন্দ্রে পর্যটকদের ওপর দু’বার হামলা চালিয়েছে। ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর তুরস্ক এখনও স্থিতাবস্থায় ফেরে নি। ওই অভ্যুত্থানের জন্য প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের সরকার দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে বসবাসকারী তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে। গুলেন অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওদিকে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোর আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। এরই প্রেক্ষিতে কয়েক দিনের মধ্যে অভিযোগ তদন্তের জন্য তুরস্কে আসার কথা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের একটি দলের। ওদিকে বৃহস্পতিবার এক বোমা হামলায় তুরস্কে নিহত হয়েছেন ১২ জন। এ জন্য তুর্কি নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা দায়ী করেছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)কে। ১৫ই জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এ দলটি তুস্কে তাদের হামলা জোরালো করেছে।

No comments:

Post a Comment