![]() |
| সোনালি শুরু একেই বলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম বল, তাতেই উইকেট! চাইলে উদ্যাপনে আরেকটু বাঁধনহারা হতেই পারতেন মোসাদ্দেক হোসেন। শামসুল হক |
বাংলাদেশের জন্য ভুলে যাওয়ার মতোই একটা
ম্যাচ ছিল সেটা। ভেন্যু নাইরোবির আগা খান স্পোর্টস ক্লাব মাঠ, প্রতিপক্ষ
কেনিয়া। সেই কেনিয়া, যাদের এর কয়েক মাস আগেই কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফির
ফাইনালে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এপ্রিলে যে কেনিয়ার
বিপক্ষে জিতে পুরো দেশকে বিশাল এক উদ্যাপনের উপলক্ষ এনে দিয়েছিল বাংলাদেশ,
অক্টোবরে সেই কেনিয়ার বিপক্ষেই আগে ব্যাট করে অলআউট মাত্র ১০০ রানে! পরে
ম্যাচটাও হেরেছিল ৮ উইকেটে। ম্যাচে বাংলাদেশের এই বাজে অবস্থা দেখে কেনিয়ান
দর্শকেরাও টিপ্পনী কাটতে শুরু করেছিলেন ‘চ্যাম্পিয়ন’ ‘চ্যাম্পিয়ন’ বলে!
হঠাৎ করে কেন ওই ম্যাচের কথা আসছে? আগে ব্যাট করে কোনো সহযোগী সদস্যদেশের
বিপক্ষে ওটাই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ১৯৯৯
বিশ্বকাপে এডিনবরায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ উইকেটে ১৮৫। কেনিয়ার কাছে
হারলেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা কিন্তু জিতেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য ওই
দুটি ম্যাচের সময় বাংলাদেশও ছিল সহযোগী সদস্যদেশ। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর
সহযোগী সদস্য কোনো দলের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ৭
উইকেটে ১৯৯। ২০১০ সালে গ্লাসগোতে হল্যান্ডের বিপক্ষে। এই স্কোরটা অবশ্য
একটা ভুল বার্তা দেয়। বৃষ্টির কারণে ওই ম্যাচটাই কমে এসেছিল ৩০ ওভারে। কাল
আফগানিস্তানের বিপক্ষে যখন ১৬৫ রানে বাংলাদেশের ৯ উইকেট পড়ে গেল, মনে
হচ্ছিল সহযোগী দেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন
স্কোরটাই বোধ হয় হয়েই যাচ্ছে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর যেটি আগে ব্যাট করে
সর্বনিম্ন স্কোরও হতো।
ওই লজ্জা থেকে বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছেন মোসাদ্দেক
হোসেন। এই ম্যাচ দিয়েই হলো যাঁর ওয়ানডে অভিষেক। অভিষেক ম্যাচে যতটা কঠিন
পরিস্থিতিতে পড়া যায়, ব্যাট হাতে মোসাদ্দেক নামার আগে তাঁর জন্য ঠিক সেটাই
তৈরি করে গেলেন সতীর্থরা। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ২ উইকেটে
১১১ থেকে ৭ উইকেটে ১৪১! ৩০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। মোসাদ্দেক
নামার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর দুই বলে ফিরলেন তাইজুল ও তাসকিন। বাংলাদেশ
তখন ১৬৫, শেষ উইকেটে মোসাদ্দেকের সঙ্গী রুবেল হোসেন। তাঁকে নিয়েই গড়লেন ৪০
বলে ৪৩ রানের দারুণ এক জুটি। যে জুটি ভেঙেছে ইনিংসের ৪ বল বাকি থাকতে
রুবেল রানআউট হয়ে যাওয়ায়। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৪৫ করে অপরাজিত মোসাদ্দেক।
চারটি চার। বাংলাদেশের ইনিংসের দুটি ছক্কাই তাঁর ব্যাটে। শুরুতে ধরে
খেলেছেন, শেষে গিয়ে হাত খুলে। রান তোলার তাড়ায় সঙ্গীকে না হারালে হয়তো
অভিষেকে ফিফটিটাও পেয়ে যেতেন। এখানেই শেষ নয়। পরে বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই
উইকেটও পেয়েছেন। তবে তার আগেই ব্যাট হাতে সবাইকে মুগ্ধ করে গেছেন
মোসাদ্দেক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। এ বছর ঢাকা
প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে প্রায় নিয়মিত ৬ নম্বরে ব্যাট করে পাঁচটি
ফিফটিসহ ৭৭.৭৫ গড়ে ৬২২ রান। কাল তাঁর ব্যাটিং দেখেও মনে হয়নি ক্যারিয়ারের
প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেছেন। প্রিমিয়ার লিগে যেভাবে খেলেন ঠিক সে রকমই
সাবলীল। নইলে কি আর ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেতেই এতটা আলো কেড়ে নেন
মোসাদ্দেক!

No comments:
Post a Comment