সংসদীয় কমিটির সাথে এক সভায় তেল-গ্যাস
খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ সুন্দরবনকে
অবিলম্বে ‘পরিবেশগত বিপন্ন অঞ্চল’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। অবিলম্বে
সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সব বাণিজ্যিক ও ভূমিগ্রাসী
প্রকল্প বাতিল করে সুন্দরবন বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংসদীয়
কমিটির প্রতি আহবান জানান তারা। নেতৃবৃন্দ বলেন, এই প্রকল্প বাতিল করতে সরকার যতো দেরি করবে সুন্দরবন ততোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংসদীয় কমিটির সাথে সভার বিষয়ে কয়েকটি সংবাদপত্রে খণ্ডিতভাবে তথ্য
প্রকাশিত হয়েছে অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে আজ শুক্রবার এক বিবৃতি দেন জাতীয়
কমিটির নেতারা। বিবৃতিতে কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ১
সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী
কমিটির আমন্ত্রণে সুন্দরবনবিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে আলোচনার জন্য
সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনে সক্রিয় আমরা কয়েকজন সংসদ ভবনে কমিটির সাথে সভায়
মিলিত হই। এতে আমি ছাড়াও ছিলেন ড. বদরুল ইমাম, ড. শামসুল আলম, অ্যাডভোকেট
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং শরীফ জামিল। অপরদিকে সরকার পক্ষে কমিটির সভাপতি
তাজুল ইসলাম এমপি, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, কমিটির সদস্যবৃন্দ,
পরিবেশ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা, কোম্পানির কর্মকর্তা ও তাদের
বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন,
সভার শুরুতে বিদ্যুৎ
সচিব রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে সরকার ও কোম্পানির বক্তব্য উপস্থাপন
করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করি। কিন্তু
একাধিকবার আমাদের বক্তব্যে বাধা দেয়ায় খুব কম সময়ের মধ্যে আমাদের বক্তব্য
শেষ করতে হয়। এরপর প্রকল্পের পক্ষে বক্তব্য দেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য,
মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কোম্পানির বিশেষজ্ঞ। কতিপয় সংবাদপত্রে এই
সভা সম্পর্কিত প্রতিবেদনে শুধুমাত্র সরকারি বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ায়
বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি সভায় উপস্থাপিত আমাদের
বক্তব্যের কয়েকটি অংশ খুব সংক্ষেপে এখানে উপস্থিত করছি। অধ্যাপক আনু
মুহাম্মদ বলেন, খুব কম সময় পেলেও আমরা আমাদের বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক
তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে দেখাই যে বাংলাদেশের জন্য অতুলনীয় সম্পদ
সুন্দরবন এই কয়লাভিত্তিক প্রকল্প এবং এর দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে আরো বাণিজ্যিক
এবং ভূমি ও বনগ্রাসী তৎপরতায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। আমরা দেখাই যে, কোম্পানি যে
দূষণ দূর করার কাহিনী বলছে তার কোনো গ্রহণযোগ্য দৃষ্টান্ত নেই। এসব
প্রযুক্তি ব্যবহার দরপত্র ও অন্যান্য দলিলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আর
বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকেই দেখা যায়, এতে দূষণ বিপদমুক্ত মাত্রায় দূর হবে
না, অনেকক্ষেত্রে স্থানান্তরিত হবে মাত্র। তাছাড়া এগুলো ব্যবহার করলে
বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ও দাম বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এসব তথ্য গোপন করা
হচ্ছে।
এতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবেও তা আর্থিকভাবে খুবই অযৌক্তিক হবে।
সরকারের তদারকি নিয়েও আমরা প্রশ্ন তুলে বলেছি, যেখানে সচিবালয় থেকে মাত্র
দুই কিলোমিটারের মধ্যে বুড়িগঙ্গা দূষণে প্রায় মৃত সেখানে কয়েকশ' কিলোমিটার
দূরে সরকারি তদারকি ঠিকঠাকভাবে কাজ করবে এটা কে বিশ্বাস করবে? তেল ও কয়লার
জাহাজডুবির বিষয়ও তুলে ধরা হয় বলে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ জানান। তিনি বলেন,
সভায় আমরা সরকারি দাবি খণ্ডন করে জানাই, বড়পুকুরিয়ায় ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র
হলেও বিভিন্ন ক্ষতি হচ্ছে। তার প্রমাণ আছে আমাদের কাছে। সরকার পক্ষে
দূষণমুক্ত হিসেবে প্রদর্শিত ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন
বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পর্কে আমরা তথ্য দিয়ে জানাই, এর সবগুলোই বিপর্যয় সৃষ্টির
দায়ে অভিযুক্ত। এই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একটি
বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা কমিটিকে অবহিত করি, ভারতের
এনটিপিসি ভারতেই বিদ্যুৎকেন্দ্রে অব্যবস্থাপনা ও দূষণ সৃষ্টির জন্য
অভিযুক্ত। এনটিপিসির একাধিক প্রস্তাব ভারতে গ্রিন ট্রাইব্যুনাল
প্রত্যাখ্যান করেছে। সেখানে কেন এই উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে সফল প্রকল্প
দেখা যায় না? সুন্দরবন এমনিতেই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে- সরকারের এই যুক্তির
পরিপ্রেক্ষিতে এসব দাবি জানানো হয়।
No comments:
Post a Comment