বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে ভালো
অবস্থানে রয়েছে স্যামসাং। সম্প্রতি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস গ্যালাক্সি নোট ৭
উন্মোচন করে শুরুতেই ধাক্কা খেতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ডিভাইসটির ব্যাটারি
বিস্ফোরণের ফলে অগ্নিকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ পাওয়ায় এরই মধ্যে ডিভাইসটি
প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্যামসাং। ব্যাটারি বিস্ফোরণের একাধিক
অভিযোগের আগ পর্যন্ত নোট ৭ ডিভাইসকে এ পর্যন্ত নির্মিত উচ্চপ্রযুক্তির সব
ডিভাইসের মধ্যে অন্যতম মনে করা হচ্ছিল। ডিভাইসটির মসৃণ কার্ভড স্ক্রিন নকশা
এবং আইরিশ স্ক্যানিং নিরাপত্তা ফিচার আশার আলো জাগিয়েছিল। বিশ্লেষকেরা
গ্যালাক্সি নোট ৭ বিপত্তি বিষয়ে কয়েকটি দিক খুঁজে পেয়েছেন। বিষয়টি ঘিরে
গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং অ্যান্ড ডাইভারসিফাইড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস
গ্রুপ ম্যাককুরির বিশ্লেষক ড্যানিয়েল কিম বলেন, গ্যালাক্সি নোট ৭ ডিভাইসের
ব্যাটারি সমস্যা একটি বড় ইস্যু। স্যামসাং এর ফলে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব
পুষিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখে।
তবে অনেকের মতেই ২৫ লাখ বিক্রীত ডিভাইস
প্রত্যাহার করে নিয়ে পুনরায় নতুন ডিভাইস সরবরাহ করা সহজ বিষয় নয়। বিষয়টি
ঘিরে বিপত্তিতে পড়তে হবে। কারণ এ বিপুলসংখ্যক ডিভাইস পরিবর্তনের জন্য
সমানসংখ্যক নতুন ডিভাইস উৎপাদনে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। দুই
সপ্তাহের কথা বলা হলেও, ঠিক কবে থেকে গ্রাহকদের হাতে নোট পৌঁছানো হবে, সে
বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছুই জানানো হয়নি। স্যামসাংয়ের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী
অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি নতু আইফোন উন্মোচন করেছে। ফলে গ্রাহক হারাবে
স্যামসাং। গ্যালাক্সি নোট ৭ বিপত্তি চীনভিত্তিক ডিভাইস নির্মাতাদের জন্য
বাজার দখল বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের জন্য যে
আর্থিক ক্ষতি তা হয়তো পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। কিন্তু এ ঘটনায় যে নেতিবাচক
মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে, তা আদৌ কি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব? খাতসংশ্লিষ্টদের মতে,
সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল ডিভাইস ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি
প্রভাব পড়বে।

No comments:
Post a Comment