এপিজি’র
মূল্যায়নে বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থা
উন্নত বিশ্বের সমতুল্য। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ
তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমের
বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন
মানিলন্ডারিং (এপিজি) কর্তৃক ৩য় পর্বের মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়ার
চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও হেড অব বিএফআইইউ রাজী হাসান
মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রমের বিদ্যমান ব্যবস্থার
মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৭
সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো শহরে
অনুষ্ঠিত এপিজির ১৯তম বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের প্রতিবেদনটি চূড়ান্তভাবে
অনুমোদিত হয়, যা গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশকে মতামতের জন্য প্রেরণ করা
হয়েছে। এপিজি কর্তৃক প্রণীত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনী ও
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পর্যালোচনা করে এফএটিএফ এর ৪০টি সুপারিশের বিপরীতে
বাংলাদেশ ৬টি সুপারিশে Compliant (C),
২০ টি সুপারিশে Largely Compliant (LC) এবং ১৪ টি সুপারিশে Partially Compliant (PC) রেটিং অর্জন করেছে।
পাশাপাশি আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কার্যকারিতা মূল্যায়নে বাংলাদেশকে
১১টি Immediate Outcome (IO) এর মধ্যে ৩ টি IO তে Substantial, ৪ টি IO তে
Moderate এবং ৪ টি IO তে Low লেভেলের রেটিং প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রেটিং নরওয়ে, শ্রীলংকা, ফিজি থেকে ভালো
অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক উন্নত দেশ থেকেও
ভালো অবস্থানে রয়েছে, যা সন্ত্রাস, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, জঙ্গীবাদ,
মানিলন্ডারিংসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূলকরণে বাংলাদেশের অবস্থানকে
আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করেছে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের
মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি হেড অব বিএফআইইউ
মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী, বিএফআইইউ এর অপারেশনাল হেড দেবপ্রসাদ দেবনাথ,
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মূখপাত্র ও ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স এন্ড
পাবলিকেশন্সের মহাব্যবস্থাপক এফ. এম. মোকাম্মেল হক এবং বিএফআইইউ এর
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

No comments:
Post a Comment