Tuesday, September 27, 2016

মহেশখালীতে কাঠুরিয়ার প্রেমে প্রাইমারী শিক্ষিকা ! অতঃপর অনশন !

স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরীঃ প্রেমের অমর বাণী “প্রেম মানে না  জাত বেজাত”। যার নয়নে যারে লাগে ভালো। প্রবাদের সেই প্রেম কাহিনীর মতই ঘটেছে এক অসম বিরল প্রেমের ঘটনা। ঠিক যেন এ যুগের লাইলী মজনু। এমন ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের রাজুয়ার ঘোনা গ্রামে। প্রেমিক শাকের উল্লাহ একজন খেটে খাওয়া দিন মজুর, কাটুরিয়া ও ঠেলাগাড়ী চালক, আর প্রেমিকা রাজমিন আক্তার মুন্নি একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যারা শিক্ষিকা এবং পাশাপাশি একটি কলেজে এইচ,এস,সি পড়ুয়া ছাত্রী। র্দীঘ দিন ধরে তারা পরস্পরের প্রেম ভালবাসা চলে আসছিল। ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত থেকে প্রেমিকা রাজমিন আক্তার বাবার বাড়ী থেকে পালিয়ে প্রেম ভালবাসার বাসতবতা রুপায়নে বিয়ের দাবীতে প্রেমিক কাঠুরিয়ার ঘরে গিয়ে অনশন শুরু করে। প্রথম দিকে প্রেমিকের মা বাবা প্রেমিকা ওই প্রাইমারী শিক্ষিকাকে মারধর করে আহত করে ঘর থেকে বের করে দিলেও পরক্ষণে তার কাছে প্রেমিক ছেলের সাথে সর্ম্পকের ছবিসহ প্রমাণ পত্র দেখায় এ নিয়ে গতকাল দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় মিমাংসার বৈঠক চলছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়মহেশখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ফকিরা কাটা গ্রামের কালা চাঁনের মেয়ে রাজমিন আকতার (১৭) তার নিজ গ্রামের ফকিরা কাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যারা শিক্ষিকা হিসেবে শিক্ষকতা করে আসছে। তার সাথে ভিন্ন ইউনিয়ন হোয়ানকের রাজুয়ার ঘোনা গ্রামের মৃত আবুল শামার পুত্র ছিদ্দিক আহমদের ছেলে শাকের উল্লাহ’র র্দীঘ দিন ধরে প্রেম ভালবাসা চলে আসছিল। প্রেমিক শাকের উল্লাহ পেশাগত ভাবে একজন খেটে খাওয়া গাছ কাটার শ্রমিক এবং ঠেলাগাড়ী চালক। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে প্রেমিকা রাজমিন আকতার বিয়ের দাবীতে মা বাবার ঘর ছেড়ে প্রেমিক শাকের উল্লাহ’র বাড়ীতে গিয়ে ওঠে। এসময় প্রেমিক শাকের উল্লাহ’র মা বাবা ও পরিবারের অন্যান্য মহিলারা রাজমিন আক্তার কে মারধর করে প্রথমে বের করে দিলেও পরে সে তাদের ছেলের সাথে তার র্দীঘ দিনের সর্ম্পকের ছবিসহ প্রমাণাদী দেখালে তারা নমনীয় হয়ে রাজমিনকে ঘরে রাখে। এব্যাপারে হোয়ানক ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবু বকরের মধ্যস্থতায় গতকাল সকাল থেকে রাত অবদী বেশ ক’বার সালিশ বিচারের বৈঠক চলছিল বলে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাদের মধ্যে বিয়ে পড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা চলছে বলে জানা গেছে। এব্যাপারে ফকিরা কাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, রাজমিন আক্তার তার বিদ্যালয়ের প্যারা শিক্ষক। বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীর তুলণায় প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাবের কারনে চলতি সালের জানুয়ারী থেকে সে ওই বিদ্যালয়ে প্যারা শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিয়ে সকালের শিফ্টে ক্লাস নিত। গত ৩ দিন পূর্ব থেকে সে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে বলে জানান তিনি। যোগ্যতা অনুসারে অসম এ প্রেমের ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

No comments:

Post a Comment