Thursday, September 29, 2016

বিশ্বব্যাংকে পাকিস্তানের আপত্তি

সিন্ধু নদ চুক্তি পুনর্বিবেচনার ভারতীয় উদ্যোগের বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা বিশ্বব্যাংকের কাছে তুলে ধরেছে পাকিস্তান। তারা বিশ্বব্যাংকের কাছে ঝিলম ও চেনাব নদীতে ভারতের বাঁধ তৈরির প্রচেষ্টা বন্ধ করতে অনুরোধ করেছে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায়ই ১৯৬০ সালে সিন্ধু চুক্তি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গত মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে গিয়ে দুই অভিন্ন নদীবিষয়ক দাবি জানায় পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তান দূতাবাস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তান দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত অনুসারে তারা ‘যথাসময়ে ও নিরপেক্ষভাবে’ তাদের দায়িত্ব পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল আস্তার ইউসুফ আলী বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। সিন্ধু পানি চুক্তির ৯ ধারার অধীনে একটি সালিস আদালত গঠনের জন্য পাকিস্তানের সম্প্রতি তোলা প্রস্তাবের বিষয়েও কথা হয় বৈঠকে। মঙ্গলবারই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ ভারতের চুক্তি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে এ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি এ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালত এবং জাতিসংঘের শরণাপন্ন হওয়ারও কথা জানান সেদিন। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান সিন্ধু পানি চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী কাশ্মীরের মোট ছয়টি নদী দুই দেশের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। ঠিক হয়, পশ্চিম দিকের তিনটি নদ-নদী সিন্ধু, চেনাব ও ঝিলমের পানির ওপর পাকিস্তানের পূর্ণ অধিকার থাকবে। আর পূর্ব প্রান্তের তিন নদী বিপাশা, ইরাবতী ও শতদ্রুর পানির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতের। চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তানে যাওয়া সিন্ধু নদের ২০ শতাংশ পানি ভারত চাষ, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করতে পারে। তবে এ পর্যন্ত কখনো ভারত তার দাবি আদায়ে সচেষ্ট হয়নি। তবে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ সেনা নিহত হওয়ার পর ভারত সিন্ধু চুক্তি পুনর্বিবেনার কথা বলছে। পাকিস্তান হামলার নেপথ্যে বলে ভারতের অভিযোগ।
সিন্ধু চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে কোনো বিবাদ সৃষ্টি হলে তা সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে। চুক্তিতে পানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি নির্দিষ্ট নকশাও আছে। পাকিস্তান এখন বলছে, ঝিলম ও চেনাব নদীতে যে দুটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব ভারত দিয়েছে তা ওই নকশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। সিন্ধু নদসংক্রান্ত দুই দেশের স্থায়ী কমিটির পাঁচটি বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। গত ১৪ ও ১৫ জুলাই দুই দেশের সচিবপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ১৯ আগস্ট পাকিস্তান চুক্তির ৯ ধারা অনুযায়ী বিরোধ সমাধানে সালিস আদালত গঠন করতে সম্মত হতে ভারতকে অনুরোধ করে। মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে পাকিস্তান এ বিষয়টিই স্মরণ করিয়ে দেয় যে এই আদালত গঠন করতে চুক্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এই ব্যাংকের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। দ্রুত আদালত গঠন এবং সেখানে বিচারক নিয়োগের জন্যও পাকিস্তান আহ্বান জানায়।

No comments:

Post a Comment