Saturday, October 8, 2016

এবার জোর প্রস্তুতি নিয়েই নামবেন হিলারি-ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে প্রথম বিতর্কে তিনিই জিতেছেন, যদিও সব জনমত জরিপে ফল এসেছে ঠিক উল্টো। দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মাইক পেন্স ও টিম কেইনের মধ্যে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একমাত্র বিতর্কেও তিনিই জিতেছেন, কারণ মাইক পেন্সকে রানিং মেট হিসেবে তিনি বাছাই করেছেন। অতএব, হিলারির সঙ্গে দ্বিতীয় বিতর্কে তিনিই জিতবেন। অকাট্য যুক্তি! মুখে যা-ই বলুন, প্রথম বিতর্কে হিলারির কাছে ধরাশায়ী হওয়ার ফলে তাঁর প্রতি সমর্থন কমেছে, এই বিষয়টি ট্রাম্পের দৃষ্টি এড়ায়নি। অধিকাংশ জাতীয় জনমত জরিপে হিলারি ৫-৭ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। ট্রাম্পের নিকট উপদেষ্টারা স্বীকার করেছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবেই হিলারির হুল ফোটানো কথায় সহজেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ট্রাম্প এবং পা হড়কে পড়েন। দ্বিতীয় বিতর্কে যাতে সেই একই ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ট্রাম্প যথেষ্ট পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সময় কাল রোববার রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকাল সাতটা) মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের সেন্ট লুইসে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে দ্বিতীয় বিতর্কে মুখোমুখি হবেন হিলারি ও ট্রাম্প।
এবার বিতর্কের সঞ্চালক সিএনএনের অ্যান্ডারসন কুপার। সিএনএনসহ সব আমেরিকান টিভি নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটে দেখা যাবে দুই প্রার্থীর কথার লড়াই। এবারের দ্বিতীয় বিতর্কটির গঠন ভিন্ন। টাউনহল ধাঁচের এই বিতর্কে প্রশ্ন করবেন বিভিন্ন পেশা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের নাগরিকেরা। ইন্টারনেটে তাঁদের পাঠানো প্রশ্নের ভিত্তিতে সামনের আসনে বসা দর্শকেরা পূর্বনির্ধারিত ক্রমানুসারে উভয় প্রার্থীকে সরাসরি প্রশ্ন করবেন। সঞ্চালকও তাঁর নিজের পছন্দমতো প্রশ্ন করবেন। হিলারি বিতর্কের এই ফরম্যাটের সঙ্গে পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি অসংখ্য টাউনহল সভায় অংশ নিয়েছেন। স্টেডিয়ামে বা খোলা মাঠে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে ভাষণ দিতে তিনি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। অন্যদিকে ট্রাম্পের পছন্দ ঠিক এই ধরনের নির্বাচনী সভা, কারণ এখানে তিনি নিজে যা খুশি বলে যেতে পারেন, তাঁকে প্রশ্ন করতে বা তাঁর অবস্থান নিয়ে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই। ব্যাপারটা সহজ হবে না জেনে ট্রাম্প ইতিমধ্যে টাউনহল ধাঁচের একটি নির্বাচনী সভা করেছেন। স্পিকার পল রায়ানের সঙ্গে উইসকনসিনে আজ শনিবার অনুরূপ একটি সভায় যোগ দেবেন। ট্রাম্পের একাধিক মুখপাত্র সাংবাদিকদের কাছে তাঁদের প্রার্থীর প্রস্তুতি ও ‘নিয়মানুবর্তিতা’র প্রশংসা করেছেন। তাঁরা খুব খুশি, কারণ গত চার দিনে বিব্রত হওয়ার মতো সাংঘাতিক কিছু করেননি তিনি। এমনকি তাঁর নৈশকালীন ‘হবি’ খোঁচা দিয়ে টুইটারে বার্তা পাঠানো, সেটিও বন্ধ রয়েছে। এই সময়ে ট্রাম্পের নামে বিস্তর টুইটার বার্তা ঠিকই গেছে, কিন্তু সেগুলো তিনি নিজে লেখেননি, তাঁর হয়ে প্রচারশিবিরের কোনো সদস্য করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন,
রোববারের বিতর্কে তিনি নীতিগত প্রশ্নে মন দেবেন, বিল ক্লিনটনের নারীঘটিত কেলেঙ্কারি নিয়ে কোনো কথা বলবেন না। নিউইয়র্ক পোস্ট পত্রিকাকে তিনি জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে তিনি জিততে চান ভবিষ্যতের জন্য তাঁর পরিকল্পনার জোরে, বিল ক্লিনটনের অতীতের ওপর ভর করে নয়। অবশ্য প্রথম বিতর্কের পর চতুর্দিক থেকে সামালোচনা শুনে তিনি বলেছিলেন বিল ক্লিনটনের তাবৎ কেলেঙ্কারি তিনি হিলারির মুখের ওপর তুলে ধরবেন, কারণ হিলারির প্রশ্রয় পেয়েই বিল ক্লিনটনের পক্ষে এসব ন্যক্কারজনক কাণ্ড ঘটানো সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্পের মনোভাব পরিবর্তনের কী কারণ, তা জানা যায়নি। তবে গত কয়েক দিনে তাঁর নিজের একাধিক নারীঘটিত কেলেঙ্কারি নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে। জানা গেছে, ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে ট্রাম্প নিজে দুটি অশ্লীল ভিডিওতে অংশ নিয়েছিলেন। এর একটি প্লেবয় পত্রিকার জন্য। হিলারির প্রচারশিবির অবশ্য ট্রাম্পের এই মত পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে। হিলারির প্রচার ব্যবস্থাপক রবি মুক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাঁরা আশা করছেন ট্রাম্প রোববারের বিতর্কে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন, ব্যক্তিগত ও অশ্লীল আচরণ থেকে বিরত থাকবেন। ‘দেশের মানুষ আমাদের কাছ থেকে সুচিন্তিত ও অর্থপূর্ণ আলোচনা আশা করে,’ তিনি বলেন। প্রথম বিতর্কের মতো দ্বিতীয় বিতর্কের জন্যও হিলারি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত তিন দিন তিনি বেশ কয়েক ঘণ্টা ‘মক ডিবেটে’ অংশ নিয়েছেন ও ট্রাম্পের বক্তব্যের ওপর প্রস্তুত নথিপত্র ও ভিডিও পরীক্ষা করে দেখেছেন। বুধবার তাঁর ওয়াশিংটনের বাসভবনে হিলারি একটানা পাঁচ ঘণ্টা বিতর্কের জন্য প্রস্তুতি নেন বলে তাঁর অন্যতম মুখপাত্র রন ক্লাইন জানিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment