Saturday, October 29, 2016

রেকর্ড বুকে মিরাজ

কদিন আগেও ছিলেন বয়সভিত্তিক দলের অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের দুটি আসরে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। শিরোপা জিততে না পারলেও দুটি আসরেই নিজের জাত চিনিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
বয়ষভিত্তিক ক্রিকেট থেকে সেই মিরাজ এখন টেস্ট দলের সদস্য। ৬ উইকেট তুলে নিয়ে মিরাজ আলো ছড়িয়েছিলেন অভিষেক টেস্টেই। অভিষেক টেস্টেই এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েও রেকর্ডটা শুধুই নিজের করে নিতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। এই তালিকায় তাঁর সঙ্গে আছেন বাংলাদেশের আরও ৪ বোলার। তবে দ্বিতীয় টেস্টে নিজেকে নতুন উচ্চতায় তুলে নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টেই নিলেন ৫ উইকেট! মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন বিকেলে ২ উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। অসাধারণ বোলিংয়ে দ্বিতীয় দিন সকালে নিয়ে নেন আরও ৩ উইকেট। চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষেক ইনিংসে ৮০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। মিরাজের আগে অভিষেকে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ৬ জন বোলার। দ্বিতীয় টেস্টে তাদের কেউ ৫ উইকেট কেন, নিতে পারেননি ৪ উইকেটও। মাহমুদউল্লাহর ৪৪ রানে ৩ উইকেট ছিল আগের সেরা।
২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টেই ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন নাঈমুর রহমান দূর্জয়। বাংলাদেশের সেই সময়ের অধিনায়ক পরের টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে একমাত্র ইনিংসে ১ উইকেট নিয়েছিলেন ৭৪ রানে। বুলাওয়ের সেই টেস্টেই ৬ উইকেট নিয়ে অভিষেক মঞ্জুরুল ইসলামের। বাঁহাতি পেসার পরে টেস্টে হারারেতে ছিলেন উইকেটশূন্য। মাহমুদউল্লাহর অভিষেক ওয়েস্ট ইন্ডিজে। অভিষেকে ৫ উইকেট আর ম্যাচে ৮ উইকেটের পর দারুণ বোলিং করেছিলেন দ্বিতীয় টেস্টেও। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ৪৪ রানে, পরে ইনিংসে ৩৭ রানে একটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই চট্টগ্রামে ২০১১ সালে অভিষেকে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ইলিয়াস সানি। অসুস্থতার কারণে সিরিজের পরের টেস্টটি খেলতে পারেননি বাঁহাতি স্পিনার। পরের টেস্ট খেলেন চট্টগ্রামেই পাকিস্তানের বিপক্ষে, একমাত্র ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ১২৩ রানে। আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আবারও বাংলাদেশের একজন অভিষিক্ত বোলারের ৬ উইকেট। ২০১২ সালে মিরপুরে সোহাগ গাজী নেন ৭৪ রানে ৬ উইকেট। অভিষেকে যা এখনও বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। পরের টেস্টে খুলনায় প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ১৬৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে এক ওভারে ৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। মিরাজের আগে অভিষেকে ৫ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশের সবশেষ বোলার ছিলেন তাইজুল ইসলাম। যথারীতি প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ! দ্বিতীয় টেস্টে তাইজুলের পারফরম্যান্স ছিল প্রথম ইনিংসে ৮৯ রানে ২ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানে একটি। মিরাজ ছাড়িয়ে গেলেন পূর্বসূরিদের সবাইকে।
মিরাজের সামনে আরও একটি রেকর্ডের হাতছানি। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে ১২ উইকেট নিয়ে এখন তিনি সোহাগ গাজী ও মাহমুদউল্লার পাশে। আর একটি উইকেট নিলেই ক্যারিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া বাংলাদেশি বোলার হবেন মিরাজ। সেটা হয়ে যেতে পারে আজই।
>>>মানবজমিন

No comments:

Post a Comment