রাশিয়ার
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনের ভোটারদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন রাজনীতিবিদরা জনগণের
মধ্যে রাশিয়া-ভীতি ছড়িয়ে দেয়ার অপকৌশল বেছে নিয়েছেন। খবর রয়টার্স ও
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের। তিনি বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সুচি নগরীতে
পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের এক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, রাশিয়া
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে যে দাবি
ওয়াশিংটন করছে তা কেউ বিশ্বাস করেছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। মার্কিন
কর্মকর্তারা সম্প্রতি অভিযোগ করেন,
দেশটির
ডেমোক্রেটিক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সার্ভারে সাইবার হামলা
চালিয়েছে রাশিয়া। আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিঘ্ন সৃষ্টি করার
লক্ষ্যে মস্কো এ কাজ করেছে বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন। এর প্রতিক্রিয়ায় পুতিন
বলেন, মার্কিন নেতাদের এ অপকৌশল প্রমাণ করে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সংকটের
সমাধান নিয়ে তাদের সত্যিই কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই। তাই তারা জনগণকে
বিভ্রান্ত করার জন্য বিদেশী শত্রুর সন্ধান করছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন,
কথিত রুশ হ্যাকার, বিদেশী গুপ্তচর কিংবা অন্য কোনো বিদেশী ষড়যন্ত্রের ভয়
দেখিয়ে আমেরিকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা ছেলেমানুষি নয়কি? সত্যিই
কি কেউ বিশ্বাস করবে রাশিয়া আমেরিকার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার
করতে পারে? তিনি বলেন, আমেরিকা কি কোনো বানানা রিপাবলিক বা সে ধরনের কিছু।
এটা তো একটা বিরাট শক্তি। পুতিন বলেন, মার্কিন নির্বাচন পরিবর্তনের জন্য না
হয়ে এখন কেলেংকারি, কাদা ছোড়াছুড়ি ও কে কার সঙ্গে ঘুমাল সেসব বিষয়ে
আলোচনায় পরিণত হয়েছে। তিনি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড
ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন,
তিনি
সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলছেন এবং তিনি উত্তরাধিকারের রাজনীতি অপছন্দ
করেন। তবে পুতিন দাবি করেন, ট্রাম্পকে রাশিয়ার সমর্থনের খবর পশ্চিমা
গণমাধ্যমের আবিষ্কার। জনমতকে বিভ্রান্ত করতে তারা এটা করছে। তবে মস্কোর
সঙ্গে যিনি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কথা বলবেন তাকে আমরা স্বাগত জানাই।
পুতিন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রয়েছে যারা রাশিয়ার
হুমকিকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরে। এটি তাদের বিশাল সামরিক বাজেটের ব্যাখ্যা
দাঁড় করানোর আরেকটি অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। বিশ্বের কোনো দেশের ওপর হামলা
চালানোর ইচ্ছা রাশিয়ার নেই বলে উল্লেখ করেন পুতিন। তিনি বলেন, কাজেই
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা বা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের
যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই।

No comments:
Post a Comment