Monday, October 10, 2016

মাহমুদউল্লাহ-মাশরাফির ব্যাটে বাংলাদেশের সম্মান

মাহমুদউল্লাহ যে সেঞ্চুরিও করতে পারেন একসময় কেউ যেন বিশ্বাসই করতে চাইতেন না। ক্যারিয়ারের প্রথম ১২টি হাফ সেঞ্চুরির মধ্যে অপরাজিত সাতটিতে। বিশ্বকাপে সেই মাহমুদউল্লাহই বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শতক হাঁকানোর পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৮। বিশ্বকাপের পর আরও চারটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান। তৃতীয় সেঞ্চুরি পাননি। বাংলাদেশের অনেক সাবেক ক্রিকেটার মনে করেন, মাহমুদউল্লাহকে বড় বড় ইনিংসই মানায়। রোববার তার আরেকটি হাফ সেঞ্চুরিকে ‘অসম্পূর্ণই’ বলা যায়! তার ব্যাটেই বাংলাদেশ সম্মানজনক রানে (২৩৮/৮) পৌঁছে। মাহমুদউল্লাহর সর্বোচ্চ ৭৫ এবং মাশরাফি মুর্তজার ঝড়ো ইনিংসে এই রান হয়। মাহমুদউল্লাহ ৮৮ বলে ৭৫ এবং মাশরাফি ২৯ বলে তিন ছয় ও দুই চারে ৪৪। মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহর দুটি কার্যকর ইনিংসেই কাল সম্মান রক্ষা হয় বাংলাদেশের। টপ-অর্ডারের ব্যর্থতায় একমাত্র সফল মাহমুদউল্লাহ। আগের ম্যাচে যেখানে ৩১০ রানের লক্ষ্যও সহজ মনে হয়েছিল, কাল সেখানে প্রথমে ব্যাট করে ২০০ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
দলের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ রান রেট ঠিক রেখে ব্যাট করার চেষ্টা করেছেন। সাব্বিরের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৩, মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫০, সাকিব আল হাসানের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ২৪ এবং মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। চাপের মধ্যে ৮৮ বলে ৭৫ রান করেন ছয়টি চারের সাহায্যে। বড় জুটি গড়ার ইঙ্গিত দিলেও কেউই দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে উইকেটে থাকতে পারেননি। দ্রুত রান তোলার জন্য মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকেই বড় শট আশা করেছিল দল। কিন্তু আদিল রশিদের একটি বল সুইপ খেলতে গেলে ব্যাটে-বলে সংযোগ না হয়ে প্যাডে লাগে। এলবিডব্লুর জোরালো আবেদনে সম্মতি দেন আম্পায়ার। হতাশ মাহমুদউল্লাহ নিজের ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে করতে সাজঘরের দিকে হাঁটা দেন। কিন্তু ড্রেসিংরুম থেকে রিভিউ নেয়ার কথা জানালে খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। তাতে কাজ হয়নি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। সর্বশেষ ছয় ইনিংসে তার রান ৭৫, ২৫, ৩২*, ২৫, ৬২ ও ৫২। মাহমুদউল্লাহর পর স্বাগতিকদের মুখরক্ষা হয় মাশরাফির ঝড়ো ইনিংসে। টাইগার অধিনায়ক ২৯ বলে তিন ছয় ও দুই চারে ৪৪ করে রানআউটের শিকার হন।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ রান বল ৪ ৬
তামিম ক মঈন ব ওকস ১৪ ৩১ ১ ০
ইমরুল ক উইলি ব ওকস ১১ ১৮ ২ ০
সাব্বির ব বল ৩ ২১ ০ ০
মাহমুদউল্লাহ এলবিডব্লু ব রশিদ ৭৫ ৮৮ ৬ ০
মুশফিক ক মঈন ব বল ২১ ২৩ ৩ ০
সাকিব ক বাটলার ব স্টোকস ৩ ১৪ ০ ০
মোসাদ্দেক ক মঈন ব রশিদ ২৯ ৪৯ ৪ ০
নাসির নটআউট ২৭ ২৭ ২ ০
মাশরাফি রানআউট ৪৪ ২৯ ২ ৩
শফিউল নটআউট ০ ১ ০ ০
অতিরিক্ত ১১
মোট (৮ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ২৩৮
উইকেট পতন : ১/২৫, ২/২৬, ৩/৩৯, ৪/৮৯, ৫/১১৩, ৬/১৬১, ৭/১৬৯, ৮/২৩৮।
বোলিং : ওকস ৯-০-৪০-২, উইলি ৮-১-৩৬-০, রশিদ ১০-০-৫৩-২, বল ৮-০-৪৪-২, স্টোকস ৬-১-২২-১, মঈন ৯-০-৩৯-০।
ইংল্যান্ড রান বল ৪ ৬
রয় এলবিডব্লু ব মাশরাফি ১৩ ২১ ০ ০
ভিন্স ক মোসাদ্দেক ব মাশরাফি ৫ ১০ ১ ০
ডাকেট ব সাকিব ০ ৬ ০ ০
বেয়ারস্টো ক মুশফিক ব তাসকিন ৩৫ ৫৩ ১ ০
স্টোকস ব মাশরাফি ০ ৫ ০ ০
বাটলার এলবিডব্লু ব তাসকিন ৫৭ ৫৭ ৭ ০
মঈন ক সাকিব ব নাসির ৪ ১০ ০ ০
ওকস ক মুশফিক ব তাসকিন ৭ ৯ ১ ০
রশিদ নটআউট ৩৩ ৪৪ ১ ১
উইলি এলবিডব্ল– ব মোসাদ্দেক ৯ ৩১ ১ ০
বল ক নাসির ব মাশরাফি ২৮ ২২ ৫ ০
অতিরিক্ত ১৩
মোট (অলআউট, ৪৪.৪ ওভারে) ২০৪
উইকেট পতন : ১/১২, ২/১৪, ৩/২৪, ৪/২৬, ৫/১০৫, ৬/১২০, ৭/১২৩, ৮/১৩২, ৯/১৫৯, ১০/২০৪।
বোলিং : সাকিব ৯-০-৫০-১, মাশরাফি ৮.৪-০-২৯-৪, শফিউল ৮-০-৩৭-০, তাসকিন ৮-০-৪৭-৩, নাসির ১০-১-২৯-১, মোসাদ্দেক ১-০-৫-১।
ফল : বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মাশরাফি।

No comments:

Post a Comment