কলেজছাত্রী
খাদিজা বেগম নার্গিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের
শাস্তির দাবিতে ঘটনাস্থল এমসি কলেজে বিক্ষোভ করছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা শাবি ছাত্রলীগ নেতা বদরুল ইসলামের ফাঁসি দাবি করে বিক্ষোভ ও
নানা শ্লোগান দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভে শিক্ষক ও অভিভাবকরা সংহতি
জানিয়ে শরীক হয়েছেন। সোমবার বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সরকারি মহিলা
কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসের (২৩) ওপর হামলা
চালায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র এবং
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল ইসলাম। এসময় ধারালো ছুরি
দিয়ে খাদিজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে বদরুল। এতে
খাদিজা মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরে
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১টা
পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলছিল। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ঢাকার
স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
খাদিজার সঙ্গে থাকা তার চাচা আব্দুল কুদ্দুস মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে জানান,
ঢাকায় আনার পরেই তার সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অপারেশন
করা যাবে, কিন্তু বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশ। তবে অলৌকিকভাবে সে বেঁচে
গেলেও আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে না। এজন্য আমরা এখনও সিদ্ধান্ত
নিতে পারছি না। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, ছুরি দিয়ে
মাথায় ৪-৫টি কোপ দেয়ার কারণে মারাত্মক জখম হয়েছে এবং মগজ বেরিয়ে এসেছে।
খাদিজা সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ আউশা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে। এদিকে
ঘটনার সময় হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুলকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
করেছে স্থানীয় জনতা। সে বর্তমানে পুলিশি প্রহরায় ওসমানী হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন আছে।
বদরুল ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে।
বদরুল ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে।

No comments:
Post a Comment