Monday, October 31, 2016

ছাত্রলীগের ছেলেদের এগিয়ে আসাকে সাধুবাদ জানাই

গুলিস্তানে উচ্ছেদ চলাকালে অস্ত্র হাতে ছাত্রলীগ নেতা
সাব্বির হোসেন (গোলাপি জামা) ও ওয়ারী থানা
ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান -সংগৃহীত
রাজধানীর গুলিস্তানে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ী ও হকারদের সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ও হামলাকারী দুই ছাত্রলীগ নেতা বহাল তবিয়তেই আছেন। অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলির পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। হামলার শিকার হকাররা এ ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, থানায় কেউ মামলা করেনি। এ বিষয়ে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবারই পল্টন থানায় একটি জিডি হয়েছে। তার তদন্ত চলছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ছাত্রলীগ নেতাদের এক প্রকার পক্ষাবলম্বন করেই বলেন,
ঘটনার দিন ছাত্রলীগের ছেলেরা সরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় এগিয়ে এসেছিল। এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। ব্যবসায়ী ও হকারদের সঙ্গে পুলিশের ওই সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্র সাব্বির হোসেন এবং ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমানকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অস্ত্র অবৈধ। তাদের নামে অস্ত্রের কোনো লাইসেন্স নেই। এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির হোসেন রোববার যুগান্তরকে বলেন, আমি সেখানে গিয়েছি। কিন্তু গুলি করিনি। মেয়র সাঈদ খোকন আমার মহল্লার বড় ভাই। তার ওপর হকাররা হামলা করেছে শুনে আমি সেখানে যাই। আমি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে পড়ি, এখনও ছাত্র। তার নামে অস্ত্রের কোনো লাইসেন্স আছে কিনা বা অস্ত্রটি কোথায় পেলেন জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব না দিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন। তবে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী জানিয়েছেন, সাব্বিরের নামে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেই। অস্ত্রটি ছিল অবৈধ।
আর ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমানকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই লাইন কেটে দেন। এরপর বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এদিকে ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আশিক এলাকাতেই আছে। ছাত্রলীগের এই দুই নেতা ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তার সঙ্গেই চলাফেরা করেন তারা। সাঈদ খোকন যেখানেই যান তাদের সেখানেই দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র সাঈদ খোকন রোববার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, যখন কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয় তখন তা রক্ষার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের। ঘটনার দিন ছাত্রলীগের ছেলেরা সরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় এগিয়ে এসেছিল- এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। প্রতিপক্ষের হাতে কেউ আক্রান্ত হলে তা প্রতিহত করার অধিকারও তার রয়েছে। দুই ছাত্রলীগ নেতার অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন দেখতে হবে মিডিয়ায় অস্ত্রসহ তাদের যে ছবি ছাপা হয়েছে তা ফেক (ভুয়া) কিনা। কিংবা যে অস্ত্র দেখা গেছে তা নকল কিনা। মেয়র আরও বলেন,
বিষয়টি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছে। তদন্তে যদি তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হয় তবে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, থানায় কেউ কোনো মামলা নিয়ে আসেনি। আর ডিএমপির মিডিয়া শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান রোববার যুগান্তরকে বলেন, গুলির বিষয়ে বৃহস্পতিবারই পল্টন থানায় একটি জিডি হয়েছে। ওই জিডির তদন্ত চলছে। বৃহস্পতিবারের হামলার ঘটনার বিষয়ে গুলিস্তানের পাতাল সড়ক মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, হামলাকারীরা সবাই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের লোক। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করবেন না বলে তিনি জানান। আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমাদের দোকানদার, কর্মচারীদের প্রকাশ্যে মারধর করেছে লুটপাট করেছে। তারপরও নানা কারণে সব হজম করে যেতে হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment