যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট
প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বাহুর জোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও
ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। ওবামা দম্পতির বাকপটুতা হোয়াইট হাউসের পথে এক
সময়ের প্রতিযোগী হিলারিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। হিলারিকে জেতাতে
পুরোদস্তুর প্রচারণায় নেমে পড়েছেন ওবামা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মিশেলও।
শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারণায় হিলারির
প্রশংসার ঝাপি খুলে ডেমোক্রেটিক সমর্থকদের উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন ওবামা
দম্পতি। ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর আসল শক্তি তারাই। ওয়াশিংটনের আমেরিকান
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক কমিউনিকেশনের প্রফেসর লিওনার্ড স্টেইনহর্ন বলেন,
জনগণকে প্রেরণা ও সাহস জোগাতে সক্ষম ওবামা। তিনি জানেন কীভাবে মানুষকে কাছে
টানতে হয়। ওবামার উত্তরসূরি হিসেবে হিলারি আফ্রিকান-আমেরিকান এ
প্রেসিডেন্টের ওপর পুরাই নির্ভরশীল বলে মনে করেন স্টেইনহর্ন।
আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটাররা হিলারির পক্ষে : হিলারির প্রচারণা শিবির মনে
করে, আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটাররা ২০০৮ ও ২০১২ সালের নির্বাচনে ওবামাকে
সমর্থন দেয়ার মতো এবারের নির্বাচনেও হিলারিকে সমর্থন দেবেন। জরিপে দেখা
গেছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশই রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট
দেবেন না। বিভাজিত সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টা : বিজাতিক সর্মথকদের
মধ্যে একটা বড় অংশ ডেমোক্রেটিক দলের আরেক প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সকে
চেয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রেসিডেন্সি না পাওয়াতে হিলারির দিকে ঝুঁকছে তারা।
বিভিন্ন জরিপ বলছে, শতকরা ৬০ ভাগ স্যান্ডার্সের সমর্থক ট্রাম্পকে ঠেকাতে
হিলারিকে ভোট দেবেন। ১০ ভাগ সমর্থক সরাসরি বলেছেন ট্রাম্পকে ভোট দেয়ার কথা।
তবে বাকিরা সিদ্ধান্ত নেবেন পরে। তবে এই বিপুলসংখ্যক ভোটারের সমর্থন ভাগ
হয়ে গেলে ডেমোক্রেটিকদের পরাজয় শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। তরুণদের ভোট
ওবামার হাতে : তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন স্যান্ডার্স। প্রথমবারের মতো
প্রেসিডেন্সির জন্য মনোনয়ন যুদ্ধে নেমেই মার্কিন ইতিহাসের সর্বাধিক সংখ্যক
তরুণকে আকৃষ্ট করেছেন তিনি। এদিকে ২০০৮ সালে ওবামার বিরুদ্ধে মনোনয়নযুদ্ধে
মাত্র ৩৫ শতাংশ তরুণদের সমর্থন পেয়েছিলেন হিলারি। তরুণদের মধ্যে এখনও
জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট ওবামার নির্দেশনার প্রতি ঝুঁকতে পারে নতুন প্রজন্ম।
এক্ষেত্রে স্যান্ডার্সের তরুণ ভোটাররা হিলারির দিকে ঝুঁকবে বলে সে
প্রচেষ্টাই করছেন ওবামা। ২০০৮ সালে ওবামা পেয়েছিলেন তরুণদের ৬০ শতাংশ ভোট।
দ্বিতীয়বার ২০১২ সালে মিট রমনিকে পরাজিত করতে ওবামা জিতে নেন ৬৭ শতাংশ
তরুণদের ভোট। কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিসপ্যানিক ভোট ব্যাংক প্রেসিডেন্টের দিকে :
২০০৮ এবং ২০১২ সালে ওবামাকে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৯০-৯২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ।
আমেরিকার ইতিহাসে এ দুইবারই শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের উপস্থিতি
ছিল বেশি। সেখানে হিলারির দিকে এসব কৃষ্ণাঙ্গের সমর্থন ৬০ শতাংশের বেশি
গড়াবে না। কিন্তু ওবামা একবার মুখ ফুটে বললেই ভোটগুলো নিশ্চিত হয়ে যাবে
হিলারির। অভিবাসন আইন সংশোধন করে হিসপ্যানিকদের একটা বিপুল অংশকে তুষ্ট
করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। তারাও ভোট দেবেন ওবামার পছন্দের ব্যক্তিকেই।
বেসামরিক, মানবিক ও নারী অধিকার কর্মী কারমেন বার্কলি বলেন, বিপুল পরিমাণ
মার্কিন নাগরিকের কাছে জনপ্রিয় নেতা ওবামা।

No comments:
Post a Comment