Sunday, October 2, 2016

‘ঘর হইতে বাইর হইলেই দুর্ভোগ’

ফরিদপুর-সালথা-মুকসুদপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের
সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ছবিটি ২৬
সেপ্টেম্বর সমেষপুর এলাকা থেকে তোলা। প্রথম আলো
বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। বৃষ্টিতে জমে যায় পানি। পানি-কাদায় একাকার পুরো রাস্তা। এমনই হতশ্রী দশা ফরিদপুর-সালথা-মুকসুদপুর সড়কের। ফরিদপুর জেলা সদর থেকে সালথা উপজেলায় যাওয়ার একমাত্র পথ ফরিদপুর-সালথা-মুকসুদপুর সড়ক। এ পথ দিয়েই ফরিদপুরের অন্য দুটি উপজেলা বোয়ালমারী ও নগরকান্দা এবং পাশের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় যাওয়া যায়। প্রতিদিন এ পথে বাস, ট্রাক, মহেন্দ্র, অটোরিকশাসহ প্রায় দুই হাজার যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহনে শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্তের। রাস্তার কংক্রিট উঠে গেছে। ফরিদপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ ফরিদপুর-সালথা-মুকসুদপুর সড়কের ৩৬ কিলোমিটার অংশ ফরিদপুর সড়ক বিভাগের আওতায়। বাকি ৫ কিলোমিটার অংশ গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের অধীনে।
এর মধ্যে ফরিদপুরের ১৮ কিলোমিটার অংশের অবস্থা নাজুক। সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ারকান্দি গ্রামের রশিদ শেখ বলেন, ‘অনেক উন্নয়ন হইছে সালথায়। কিন্তু মাত্র একটা রাস্তা ভালো না হওয়ায় ঘর হইতে বাইর হইলেই দুর্ভোগ নাইমা আসে। এ রাস্তা দিয়া গাড়িতে কইরা রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় যে কষ্ট হয়, তা ভাষায় বলা যায় না।’ ওই পথে চলাচলকারী অটোচালক সিংহপ্রতাপ গ্রামের ওমর ফারুক বলেন, ‘পথের ঝাঁকির কারণে যাত্রীরা গাড়িতে উঠতে চায় না। যাত্রী সংকট। ট্রিপ মারা যায় না বেশি। বড় বিপদের মধ্যে আছি।’ সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগের কাছে বহুবার গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছি জেলার উন্নয়ন সমন্বয় সভায়। কিন্তু কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’ ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, সড়কটির অবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক এবং চলাচলের অনুপযোগী। ১২ ফুট প্রস্থের সড়কটি ১৮ ফুট করাসহ কার্পেটিং করার জন্য ‘ফরিদপুর-বদরপুর-সালথা-সোনাপুর-মুকসুদপুর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে ১০৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এ কাজের দরপত্র করাসহ মূল্যায়ন কাজ শেষ হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

No comments:

Post a Comment