ঢাকা
টেস্টের প্রথম ইনিংসে শুরুটা ভালো হলেও দলীয় সংগ্রহটা বড় হয়নি বাংলাদেশের।
প্রথম ইনিংসে ২২০ রানের মধ্যে তামিম ইকবালের ১০৪ ও মুমিনুল হকের ৬৬ রান।
১৭১ রানে স্বাগতিকদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন হওয়ার পর দ্রুত বাকি
ব্যাটসম্যানরা সাজঘরে ফেরেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম ও মুমিনুলের ব্যাট
থেকে আসে ১৭০ রান। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দু’জনের এটি চতুর্থ শতরানের
জুটি। বাংলাদেশের হয়ে এরচেয়ে বেশি শতরানের জুটি আছে শুধু একটি জুটির। জাভেদ
ওমর ও হাবিবুল বাশার পাঁচবার শতরানের জুটি গড়েছেন। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে
তামিমের শতরানের জুটি আছে চারটি। তিনটি করে শতরানের জুটি আছে হান্নান
সরকার-হাবিবুল বাশার ও তামিম-জুনায়েদ সিদ্দিক জুটির।
টেস্ট
ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শতরানের জুটি গড়েছেন ভারতের দুই কিংবদন্তি রাহুল
দ্রাবিড় ও শচীন টেন্ডুলকার। ১৪৩ ইনিংসে তাদের শতরানের জুটি ২০টি। ১২০
ইনিংসে ১৯টি শতরানের জুটি গড়েছেন শ্রীলংকার মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার
সাঙ্গাকারা। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেডেন ও রিকি পন্টিং ৭৬ ইনিংসে গড়েছেন
১৬টি শতরানের জুটি। ১৪৮ ইনিংসে সমান ১৬টি শতরানের জুটি গড়েছেন ওয়েস্ট
ইন্ডিজের গর্ডন গ্রিনিজ ও ডেসমন্ড হেইন্স। ৩৯ ইনিংসে ইংল্যান্ডের জ্যাক হবস
ও হবার্ট সাটক্লিফের শতরানের জুটি ১৫টি। পাকিস্তানের মিসবাহ-উল-হক ও ইউনুস
খানের শতরানের জুটি ১৫টি, ৪৯ ইনিংসে। ৪৮ ইনিংসে ১৪টি শতরানের জুটি আছে
অস্ট্রেলিয়ার জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও রিকি পন্টিংয়ের। আথারটনকে ছুঁয়ে ১০ হাজার
পেরিয়ে কুক সকালে টস হেরেছেন অ্যালিস্টার কুক। বিকেলে আউট হয়েছেন ১৪ রানে।
তবু এই দুটিই আবার কুককে এনে দিয়েছে দারুণ দুটি মাইলফলক! টস করতে নেমেই
কুক ছুঁয়েছেন ইংল্যান্ডকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ড। এ নিয়ে
৫৪ বার টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে টস করলেন কুক।
টসের
সময় মাইক্রোফোন হাতে ছিলেন যিনি, সেই মাইক আথারটনও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৫৪
টেস্টে। ৫১ টেস্টে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাইকেল ভন, ৫০ টেস্টে
অ্যান্ড্র– স্ট্রাউস। নাসের হুসেইন টস করেছেন ৪৫ বার। অধিনায়ক কুকের পর
ব্যাটসম্যান কুকের মাইলফলক ছোঁয়ার পালা। বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামার পর
বিকেলে ব্যাট হাতে নামেন কুক। ১৪ রানের ছোট্ট ইনিংসের পথেই পেরিয়েছেন বড়
মাইলফলক। ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রান করেছেন আগেই।
এবার টেস্ট ইতিহাসেরই প্রথম ওপেনার হিসেবে ছুঁয়েছেন ১০ হাজার রান! ওপেনার
হিসেবে কুকের রান ১০ হাজার ২। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিন নম্বরে ১২ ইনিংস
ব্যাট করে ৫৭৮ রান করেছিলেন ৫২.৫৪ গড়ে। ১, ২ ও ৩ নম্বর ছাড়া আর একটি
পজিশনেই ব্যাট করেছেন কুক। গত জুনে লর্ডসে শ্রীলংকার বিপক্ষে সাতে নেমে
অপরাজিত ছিলেন ৪৯ রানে। ওপেনার হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সুনীল
গাভাস্কারের ৯ হাজার ৬০৭। ৯ হাজারের বেশি রান আছে আর একজন ওপেনারেরই।
গ্রায়েম স্মিথ করেছেন ৯ হাজার ৩০ রান।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
তামিম এলবিডব্লু ব আলী ১০৪ ১৪৭ ১২ ০
ইমরুল ক ডাকেট ব ওকস ১ ৩ ০ ০
মুমিনুল ব আলী ৬৬ ১১১ ১০ ০
মাহমুদউল্লাহ ক কুক ব স্টোকস ১৩ ২৬ ১ ১
সাকিব ক বেয়ারস্টো ব ওকস ১০ ৩২ ০ ০
মুশফিকুর ক কুক ব আলী ৪ ১২ ০ ০
সাব্বির ক বেয়ারস্টো ব স্টোকস ০ ৬ ০ ০
শুভাগত ক বেয়ারস্টো ব ওকস ৬ ১৮ ১ ০
মেহেদী এলবিডব্ল– ব আলী ১ ৬ ০ ০
তাইজুল নটআউট ৫ ১২ ১ ০
কামরুল ক রুট ব আলী ০ ১০ ০ ০
অতিরিক্ত ১০
মোট (অলআউট, ৬৩.৫ ওভারে) ২২০
উইকেট পতন : ১/১, ২/১৭১, ৩/১৯০, ৪/১৯৬, ৫/২০১, ৬/২০২, ৭/২১২, ৮/২১৩, ৯/২১৫, ১০/২২০।
বোলিং : ওকস ৯-৩-৩০-৩, ফিন ৮-১-৩০-০, মঈন আলী ১৯.৫-৫-৫৭-৫, আনসারি ৬-০-৩৬-০, স্টোকস ১১-৫-১৩-২, রশিদ ১০-০-৪৪-০।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
কুক এলবিডব্লু ব মেহেদী ১৪ ১২ ৩ ০
ডাকেট ক মুশফিকুর ব সাকিব ৭ ৫ ০ ১
রুট ব্যাটিং ১৫ ৩৩ ২ ০
ব্যালান্স ক মুশফিকুর ব মেহেদী ৯ ১৮ ২ ০
আলী ব্যাটিং ২ ৭ ০ ০
অতিরিক্ত ৩
মোট (তিন উইকেটে, ১২.৩ ওভারে) ৫০
উইকেট পতন : ১/১০, ২/২৪, ৩/৪২।
বোলিং : মেহেদী ৬.৩-১-২৬-২, সাকিব ৬-২-২১-১।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
তামিম এলবিডব্লু ব আলী ১০৪ ১৪৭ ১২ ০
ইমরুল ক ডাকেট ব ওকস ১ ৩ ০ ০
মুমিনুল ব আলী ৬৬ ১১১ ১০ ০
মাহমুদউল্লাহ ক কুক ব স্টোকস ১৩ ২৬ ১ ১
সাকিব ক বেয়ারস্টো ব ওকস ১০ ৩২ ০ ০
মুশফিকুর ক কুক ব আলী ৪ ১২ ০ ০
সাব্বির ক বেয়ারস্টো ব স্টোকস ০ ৬ ০ ০
শুভাগত ক বেয়ারস্টো ব ওকস ৬ ১৮ ১ ০
মেহেদী এলবিডব্ল– ব আলী ১ ৬ ০ ০
তাইজুল নটআউট ৫ ১২ ১ ০
কামরুল ক রুট ব আলী ০ ১০ ০ ০
অতিরিক্ত ১০
মোট (অলআউট, ৬৩.৫ ওভারে) ২২০
উইকেট পতন : ১/১, ২/১৭১, ৩/১৯০, ৪/১৯৬, ৫/২০১, ৬/২০২, ৭/২১২, ৮/২১৩, ৯/২১৫, ১০/২২০।
বোলিং : ওকস ৯-৩-৩০-৩, ফিন ৮-১-৩০-০, মঈন আলী ১৯.৫-৫-৫৭-৫, আনসারি ৬-০-৩৬-০, স্টোকস ১১-৫-১৩-২, রশিদ ১০-০-৪৪-০।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
কুক এলবিডব্লু ব মেহেদী ১৪ ১২ ৩ ০
ডাকেট ক মুশফিকুর ব সাকিব ৭ ৫ ০ ১
রুট ব্যাটিং ১৫ ৩৩ ২ ০
ব্যালান্স ক মুশফিকুর ব মেহেদী ৯ ১৮ ২ ০
আলী ব্যাটিং ২ ৭ ০ ০
অতিরিক্ত ৩
মোট (তিন উইকেটে, ১২.৩ ওভারে) ৫০
উইকেট পতন : ১/১০, ২/২৪, ৩/৪২।
বোলিং : মেহেদী ৬.৩-১-২৬-২, সাকিব ৬-২-২১-১।

No comments:
Post a Comment