ভেজাল প্যারাসিটামল পানে ২৮ শিশু মৃত্যুর
মামলায় রীড ফার্মার পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার
ওষুধ আদালতের বিচারক কেএম আতোয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারক
বলেন, মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার 'অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে' অভিযোগ
প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। খালাস পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন- রীড
ফার্মার মালিক মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী কোম্পানির পরিচালক শিউলি রহমান,
কোম্পানির পরিচালক আব্দুল গণি, ফার্মাসিস্ট মাহবুবুল ইসলাম ও এনামুল হক।
রায় ঘোষণার সময় মিজানুর ও তার স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের
পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, 'বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের
সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম সঠিক নিয়ম মেনে জব্দ তালিকা ও পরীক্ষার
প্রতিবেদন জমা দেননি। মামলা দায়েরের
সময় যেসব পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ ছিল,
তা না নেয়ায় তার অযোগ্যতা ও অদক্ষতা
প্রমাণিত হয়।' প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত রীড ফার্মার
প্যারাসিটামল সিরাপ পানে সারাদেশে ২৮ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠলে ১০ আগস্ট
ঢাকার ওষুধ আদালতে এ মামলা হয়। তৎকালীন ড্রাগ সুপার শফিকুল ইসলাম মামলা
করেন। ওই সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রীড ফার্মার বিরুদ্ধে
আরও চারটি মামলা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলে
মিজানুর রহমান একই বছরের ১২ অক্টোবর আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তাকে
কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে তার স্ত্রী শিউলি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
অন্য আসামিরা পলাতক ছিলেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, রীড ফার্মার
প্যারাসিটামলে বিষাক্ত উপাদানের কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জমা দেয়া অভিযোগপত্রে বলেন, ওই প্যারাসিটামলে ডাই
ইথানল গ্লাইকল পাওয়া যায়নি। তবে ওই ওষুধ ছিল নিম্নমানের।

No comments:
Post a Comment