Saturday, November 26, 2016

গুলি ছুড়ে বাড়ি থেকে স্কুলছাত্রী অপহরণ

 রাজশাহীর বাগমারায় ফিল্মি স্টাইলে গুলি ছুড়ে বাড়ি থেকে এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ও তার সহযোগী মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নুরপুর মহল্লা থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ তাহেরপুর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের বাড়ি থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অপহৃত স্কুলছাত্রী পৌর এলাকার জামগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় থেকে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই উদ্ধার অভিযানে নামে। পরে তাহেরপুর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।' স্কুলছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, যুবলীগ নেতা সোহেল রানা (২৪) কিছুদিন ধরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন।
শুক্রবার বিকালে তিনি ও তার সহযোগী যুবলীগ কর্মী মিজানসহ ১০/১২ জন সরাসরি নুরপুর মহল্লার স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বাবার কাছে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এ সময় স্কুলছাত্রীর বাবা-মা মেয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সোহেল রানা সশস্ত্র দলবল নিয়ে স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যায়। বাড়িতে ঢুকে তারা প্রথমে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতংক সৃষ্টি করে। এরপর বাড়িতে ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘর থেকে তাকে বের করে আনে। এ সময় যুবলীগ নেতা সোহেল রানা স্কুলছাত্রীর বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'বিয়ে দিবি না? দ্যাখ, তোর মেয়েকে নিয়ে গেলাম। পারলে কিছু কর।' পরে কাপড় দিয়ে স্কুলছাত্রীর মুখ বেঁধে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায় তারা। স্থানীয়রা জানায়, ভুক্তভোগী পরিবার যাতে পুলিশে অভিযোগ দিতে না পারে, সেজন্য যুবলীগের নেতাকর্মীরা বাড়ির চারপাশে ও রাস্তার মুখে সশস্ত্র পাহারা বসায়। খবর পেয়ে অপহরণের এক ঘণ্টা পর বাগমারা থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে যুবলীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে যাওয়া পুলিশের দলটি পরে সরাসরি তাহেরপুর পৌর মেয়রের বাসভবনে যায় এবং কিছু সময় অবস্থানের পর স্কুলছাত্রীকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। পরে প্রাথমিক জবাবনবন্দি রেকর্ড করে স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন যুগান্তরকে বলেন,
'স্কুলছাত্রী অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ জানতে পারে মেয়েটি তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে রয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে মেয়রের সহযোগিতায় মেয়েটিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।' এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে অপহৃত স্কুলছাত্রীর বড় ভাই যুগান্তরকে বলেন, 'আমরা পরিবারের সবাই খুবই নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মামলা করা হবে কি না, সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে জানাতে পারব।' স্কুলছাত্রীর পরিবারের লোকেরা অভিযোগ করেন, অপহরণকারী যুবলীগ নেতা রানা-মিজানসহ অন্যরা মেয়র কালামের লোক। পুলিশ যখন মেয়রের বাড়িতে যায়, তখনও তারা সেখঅনে অবস্থান করছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের কাউকে আটক করেনি। তার বাড়ি থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধারের বিষয়ে তাহেরপুর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান, অপহরণের  খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা সোহেল ও মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েটিকে তিনি  নিজের হেফাজতে নেন। পরে পুলিশকে ডেকে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে। তার কঠোর অবস্থানের কারণেই অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে মেয়েটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

No comments:

Post a Comment