Tuesday, November 8, 2016

নির্বাচনের দিন তিন শংকা

ক্ষণ গণনা ফুরিয়ে গেছে। শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বাংলাদেশ সময় আজ (মঙ্গলবার) বিকাল থেকে প্রত্যাশিত ভোট গ্রহণ শুরু হবে। নির্বাচন ঘিরে নানা আশংকাও বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস), সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়দা নির্বাচনের দিন যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। এতে কিছুটা ভীতি রয়েছে মার্কিনিদের মধ্যে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করতে রাশিয়া সাইবার হামলা চালাতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এর আগে ডেমোক্রেটিক দলের তথ্য ফাঁসে সাইবার হামলায় মস্কোর হাত রয়েছে বলে খোদ গোয়েন্দা সংস্থা থেকে বলা হয়েছিল। এছাড়া রিপাবলিকান প্রার্থী ডেনাল্ড ট্রাম্প ভোট কারচুপির আশংকায় ভোট কেন্দ্রে সমর্থকদের নজরদারি করতে বলেছেন। এতে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা ও সংঘর্ষের আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো ক্ষমতাধর ও স্বাধীন দেশে রাশিয়ার সাইবার হামলার আশংকা কেবল জল্পনা নয়, বরং একটি সংকট বটে। এরই মধ্যে কয়েকটি রাজ্য আশংকা প্রকাশ করেছে তারা হ্যাকিং ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও পরামর্শ চেয়েছে। এরই মধ্যে ৪৮টি রাজ্যে প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। তবে সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে সাইবার হামলা বা হ্যাকিংয়ের কোনো ঝুঁকি নেই। কারণ এর নির্বাচনী ব্যবস্থা এতটাই বিকেন্দ্রীকরণকৃত যে হ্যাকারদের পক্ষে তাতে হস্তক্ষেপ করা কঠিন। দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কমে বলেছেন, ‘নির্বাচনে সাইবার হামলা একেবারেই বাজে কথা। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট। এদিকে, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ও আল কায়দার সন্ত্রাসী হামলার আশংকা করছেন অনেক মার্কিনি। এরই মধ্যে আইএস তাদের এক বিবৃতিতে মার্কিন ভোটারদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছে এবং মুসলমানদের ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে। তবে সব ধরনের হামলা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এফবিআইয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার নির্দেশ দেয়ায় সহিংসতা ও সংঘর্ষের আশংকা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বা আশপাশে সাধারণ নাগরিকের বন্দুক নিয়ে অবস্থান করা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। ট্রাম্প বারবার বলে এসেছে নির্বাচনে কারচুপি হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে অভিযোগ পাওয়া গেছে আগাম ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের নানাভাবে হেনস্থা করেছেন ট্রাম্প সমর্থকরা। শুক্রবারই ওহাইওতে ভোট কেন্দ্রের কাছে ট্রাম্পের প্রচারণা দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন একজন বিচারক। ডেমোক্রেট দলের পক্ষ থেকে কয়েকটি রাজ্যে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শেষ দিনে দুই প্রার্থীর ঘাম ঝরানো প্রচারণা : যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের ঘাম ঝরানো নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়াচ্ছেন দুই প্রার্থী। সকাল-বিকাল-রাত নেই, সমাবেশ করেই চলেছেন তারা। শেষ এক সপ্তাহে প্রতিদিন কোনো না কোনো নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। একে অপরকে আক্রমণ ও সমালোচনা করে বক্তৃতা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগের দিন সোমবার খুব সকালে ভার্জিনিয়ায় সমাবেশ করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, একই দিন মিশিগানে নির্বাচনী সমাবেশ করেন হিলারি। তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর আগে রোববার নিউ হ্যাম্পশায়ারে সমাবেশ করেন হিলারি। একই দিন পেনসিলভানিয়ায় সমাবেশ করেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু দিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ভালো ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ দিকে এসে জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্পের জনসমর্থন আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।

No comments:

Post a Comment