Thursday, November 24, 2016

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩৬শ’ টন ধারণক্ষমতার ভাসমান ক্রেন

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য উচ্চ ক্ষমতার ভাসমান ক্রেন বুধবার চীন থেকে মাওয়ায় এসে পৌঁছেছে। আমদানিকৃত ভাসমান ক্রেন সুপার স্ট্রাকচার পিলারের ওপর স্থাপনের জন্য কাজে লাগানো হবে। তাছাড়া ভারি মালামাল বহন করবে ক্রেনটি। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এটি শরীয়তপুরের সুরেশ্বরে অবস্থান করছিল। রাতে নদীপথে ঘন কুয়াশার কারণে জাহাজ চলতে না পারায় ক্রেনটি সেখানেই নোঙর করে। মাওয়া থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা ক্রেনবাহী জাহাজটি বুধবার সকালে রওনা দিয়ে দুপুরে মাওয়ায় পৌঁছে। ভাসমান এ বিশাল ক্রেনটি মাওয়ায় নেয়ার মতো নৌযান পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই চট্টগ্রাম পোর্ট কর্তৃপক্ষ দুটি বিশেষ টাগবোট দিয়ে টেনে জাহাজটিকে মাওয়ায় নিয়ে আসে। গত রোববার সকালে কুতুবদিয়া চ্যানেল থেকে এটি মাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা করে।
এর আগে শুক্রবার রাতে কুতুবদিয়া চ্যানেলের অদূরে অবস্থান নেয় চীন থেকে সমুদ্র পথে মাদার ভেসেলে আসা এই ক্রেন। শনিবার দুপুরে কুতুবদিয়া চ্যানেলে কাস্টম ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া শুরু হয়। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের জানান, ক্রেনটি পদ্মা সেতুর সুপার স্ট্রাকচার স্থাপনে কাজ করবে। ৩ হাজার ৬শ’ টন ক্ষমতার এই ক্রেন এ যাবত পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন। গত ১২ অক্টোবর চীনের জোহাও থেকে মাদার ভেসেলে করে ভাসমান এই ক্রেন বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পদ্মা সেতুর প্রতিটি স্প্যান (১৫০ মিটার দীর্ঘ সুপার স্ট্রাকচার) সরাসরি পিলারে বসাতে হবে। এক একটি স্প্যানের ওজন প্রায় ২ হাজার ৯শ’ টন। আর চীন থেকে আসা ভাসমান ক্রেনের ধারণ ক্ষমতা ৩ হাজার ৬শ’ টন। বাংলাদেশে ভাসমান ক্রেন হিসেবে কোরিয়া থেকে আমদানিকৃত বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ও নির্ভীকের প্রতিটির ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ৪শ’ টন। আর চীনা এই ক্রেনের ক্ষমতা আড়াই গুনেরও বেশি। এই ভারি যন্ত্রটি চলে আসায় এখন সুপার স্ট্রাকচার স্থাপনের সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন। এখন জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের কাজ চলছে পুরোদমে। এ পর্যন্ত সংযোগ সেতুর ১৮টি পাইল স্থাপন হয়েছে।

No comments:

Post a Comment