নাইকো
দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা লিভ টু
আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এতে খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের
বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনে আর কোনো বাধা
নেই বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এস কে
সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যর আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
বেঞ্চের অপর
বিচারপতিরা হলেন- সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও মির্জা হোসাইন
হায়দার।
২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় জরুরি অবস্থার সময় দুদকের দায়ের করা এ
মামলা বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনে শুনানির
অপেক্ষায় রয়েছে। এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা
জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই মামলার কার্যক্রম দুই মাসের জন্য স্থগিত করে
রুল জারি করেন আদালত। পরে স্থগিতাদেশের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। এ রুলের
শুনানি শেষে গত বছরের সালের ১৮ জুন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাইকো
দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম বিচারিক আদালতে চলবে বলে রায় দেন বিচারপতি মো.
নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে মামলাটি
বাতিলে খালেদা জিয়ার রিট আবেদন, এ সংক্রান্ত রুল খারিজ এবং বিচারিক
কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে দুই মাসের মধ্যে বিচারিক
আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ৩০
নভেম্বর আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান খালেদা। শুনানি শেষে তার জামিন
মঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। এরপর গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন খালেদা জিয়া।
চলতি বছরের ২১ নভেম্বর শুনানি শেষে আজ রায়ে খালেদা জিয়ার করা লিভ টু আপিল
খারিজ করে দিলেন আপিল বিভাগ।
এতে বিচারিক আদালতে এ মামলাটির কার্যক্রম চলতে
আর বাধা রইলো না। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি
জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। দুর্নীত দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন
আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল
পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের সহকারী পরিচালক
মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মামলাটি করেন। এরপর ২০০৮ সালের ৫ মে মামলায় খালেদা
জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী
পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার
রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম
মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও
খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক
সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক
মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল
মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া
বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

No comments:
Post a Comment