শরীয়তপুরে
বাল্য বিয়েতে রাজি না হওয়ায়
নিষ্ঠুর হত্যা শিকার হলেন সাবিনা ইয়াসমীন নামের এক পিইসি শিক্ষার্থী। তাকে
পরিবারের লোকজন শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে অভিযোগ উঠলেও পুলিশ বলছে, বাল্য
বিয়ের আয়োজনের প্রতিবাদে ৫ শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা দেয়া এই শিক্ষার্থী গলায়
ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রোববার রাতে শরীয়তপুর পৌর এলাকার মধ্যপাড়া
এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় নানী মাকসুদা বেগম ও বিয়ের ঘটক রহিমাকে
আটক করেছে। তবে মা রুমা বেগম ও ভাই সাব্বির হোসেন ঘটনার পর থেকে পলাতক
রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরলক্ষী নারায়ন গ্রামের
সুলতান হোসেন দীর্ঘদিন যাবত পৌর এলাকার মধ্যপাড়া এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে
পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমীন (১৩) এ বছর রুদ্রকর
সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
সূত্র জানায়,
সাবিনার পরীক্ষা চলাকালীন তার মা রুমা বেগম, ভাই সাব্বির হোসেন ও নানী
মাকসুদা বেগম মিলে তার বিয়ের আয়োজন করে।
রোববার পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি গিয়ে পঞ্চম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থী শুনতে পায়
তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ের কথা শুনার পর অভিভাবদের জানিয়ে দেয় সে বিয়েতে
রাজি নয়। রাতে বিয়ের ঘটক একই উপজেলার চরলক্ষী নারায়ন এলাকার রহিমা বেগম
সাবিনাদের মধ্যপাড়া বাসায় আসে। এ সময় বিয়ে নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে সাবিনা
বিয়ের আয়োজন নিয়ে প্রতিবাদ করে। এ সময় মা রুমা বেগম ও ভাই সাব্বির হোসেন
এবং নানী মাকসুদা মিলে সাবিনাকে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে গায়ের ওড়না
দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায়
গোপনে লাশ দাফন করার জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করলে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে
গিয়ে কাফনের কাপড় পরিহিত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর
হাসাপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এসময় নানী মাকসুদা বেগম ও বিয়ের ঘটক রহিমা
বেগমকে আটক করা হয়। তবে সাবিনার মা মাকসুদা ও ভাই সাব্বির পলাতক রয়েছে।
পালং মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ এমারত হোসেন বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে লাশ
উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশের গলায় দাগ রয়েছে। তিনি জানান,
রোববার পরীক্ষা শেষে বাড়ি এসে বিয়ের ঘটনা নিয়ে মায়ের সঙ্গে মেয়ে সাবিনা
কথা কাটাকাটি করেছে। আমাদের ধারণা বিয়েতে রাজি না থাকায় সে আত্মহত্যা
করেছে।

No comments:
Post a Comment