শিল্পাঞ্চল
আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার কালার ম্যাক্স বিডি লিমিটেড নামক একটি গ্যাস ম্যাচ
কারখানায় আগুনে দগ্ধ কিশোরী আঁখির (১৫) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত আঁখি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার আশরাফুলের মেয়ে। ঢামেক সূত্র জানায়, ওই
কিশোরীর শরীরের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়। ঢামেক বার্ন ইউনিটের ইনটেনসিভ কেয়ার
ইউনিটে (আইসিইউ) নিবীড় পর্যবেক্ষণে ছিল সে। পরে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে মঙ্গলবার বিকাল সোয়া ৪টায় জিরাবো এলাকার ওই
কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের লেলিহান শিখায় মূহুর্তের মধ্যে
কারখানার ৩টি শেডে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় কারখানার প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক কাজ
করছিল। বের হতে গিয়ে আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন ও আগুনে দগ্ধ হয়েছে ২০ শ্রমিক।
কারখানা ম্যানেজার নজরুল ইসলাম জানান,
কারখানাটির
জমির মালিক স্থানীয় বিএনপি নেতা সাভার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান মঈন
উদ্দিন বিপ্লব। তার নিকট থেকে ঢাকার শামীম সিকদার ভাড়া নিয়ে গ্যাস ম্যাচ
তৈরি করতেন। তিনি বলেন, বিকাল সোয়া ৪টায় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ম্যাচে
বিতরণের মূহুর্তে সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। মূহুর্তের মধ্যেই গ্যাসের
আগুনের লেলিহান শিখা কারখানার ৩টি শেডে ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা জানান, আগুন
লাগার সময় কারখানায় প্রায় ২ শতাধিক শ্রমিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আগুন দেখে
শ্রমিকরা দ্রুত বের হতে গিয়ে ও আগুনের কবলে পড়ে ২০ শ্রমিক দগ্ধ হয়।
হুড়াহুড়িতে আহত হয় আরও ৩০ জন। দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন- জলি (২২), মুক্তি (১৯),
নিয়ারা (৩০), খাদিজা (১৩), নাজমা (১৩), হালিমা (২০), রাখি (২২), সোনিয়া
আক্তার (১৬), রিনা (১৬), ফাতিমা (১৫) ও সিমু (২৫)। এদের স্থানীয় নারী ও
শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় আঁখিসহ কয়েকজনকে রাজধানীর
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। গভীর রাতে সেখানে
আঁখির মৃত্যু হয়।

No comments:
Post a Comment