Sunday, November 27, 2016

কাস্ত্রোর মৃত্যুতে কিউবানদের উৎসব মায়ামিতে

ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে উৎসব পালন করছে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে নির্বাসিত কিউবানরা। শনিবার মায়ামির লিটল হাভানার রাস্তায় তারা পতাকা উড়িয়ে, এমনকি আতশবাজির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। খবর মায়ামি হেরাল্ড ও এবিসি নিউজের। এখানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ উল্লাস করে যে, রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেকে বলেন, কাস্ত্রোর মৃত্যুর গুজব বহুবার শুনেছি। এবার তিনি সত্যিই মারা গেছেন। রাত ২টার দিকে রাজপথে দাঁড়িয়ে ২৭ বছর বয়সী আব্রাহাম কুইন্টেরো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজ আমার বাবা যদি এই দৃশ্য দেখতে পেতেন। এ সময় তারা গাড়ির হর্ন বাড়িয়ে চারদিক কাঁপিয়ে তোলেন। অনেকে কিউবার পতাকা ওড়ান। মধ্যরাতে মার্কিন টিভিতে এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর বহু লোক পাজামা পরেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় সমবেত হন। একজন বলেন, কাস্ত্রো ছিলেন একজন স্বৈরাচার। অন্য একজন কাস্ত্রোকে উদ্দেশ করে বলেন, তুমি তোমার ভাই রাউলকেও সঙ্গে নিয়ে যাও। সেও স্বৈরাচার।
এনরিক রদ্রিগুয়েজ নামের ৫৮ বছর বয়সী এক লোক বলেন, একটার পতন হয়েছে। এবার অন্যটার পালা। সে (রাউল) তার মতোই নরকে যেতে পারে। রাত ৪টার দিকে অনেককে হাতে শ্যাম্পেন নিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়। এক দম্পতিকে রাস্তায় সালসা নৃত্য করতে দেখা যায়। তাদের বহু লোক ঘিরে ধরে। ৫৭ বছর বয়সী ভিভিয়ান ত্রিগো তারা বাবা-মায়ের ছবি হাতে নিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মাত্র দুই বছর বয়সে ১৯৬১ সালে কিউবায় এসেছিলেন তিনি। কার্লোস লোপেজ নামের ৪০ বছর বয়সী এক নারী বলছিলেন, এই মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার জন্য তিনি তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে টিফানিকে নিয়ে এখানে এসেছেন। তাকে বলা যাবে ফিদেলের মৃত্যুর দিনের উৎসবে তুমিও ছিলে। তার ভাষায়, আমরা শুধু একজনের মৃত্যুকে উদযাপন করছি না, করছি একটি আদর্শের মৃত্যুর। তবে ততটা আশাবাদী নন ভিক্টর পেরেজ-অব্রিও। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ বলেন, ফিদেলের মৃত্যু হলেও দ্বীপ দেশটিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে তার ভাষায় সাপের মাথাটি চলে গেল। এটাতো উৎসবের কারণ।

No comments:

Post a Comment