মেহেদী
হাসান মিরাজ কোলসকে চার মেরে রাজশাহীকে জিতিয়ে দেয়ার পর সতীর্থরা ঢুকে
পড়লেন মাঠে। আনন্দে জড়িয়ে ধরলেন মিরাজকে। রাজশাহী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি
তখন মাঠের বাইরে হাঁটু গেড়ে বসে। আনন্দ প্রকাশের ভাষা এক একজনের একেক রকম
হয়। নিজে পারেননি। মাত্র নয় রান করে ফিরেছেন সাজঘরে। মিরাজের জয়সূচক
বাউন্ডারিতে অভিভূত স্যামি মৌনতাকেই উল্লাসের ভাষা বানিয়ে ফেলেন।
সামিত
প্যাটেল এসে জড়িয়ে ধরেন অধিনায়ককে। ১৮৩ তাড়া করে ম্যাচ জেতার দুঃসাহস
রাজশাহী কিংস যে দেখিয়েছে, তার মূলে রয়েছেন মুমিনুল হক ও প্যাটেল। দু’জনের
দুটি অর্ধশতকের ইনিংস প্রার্থিত জয় এনে দেয় রাজশাহীকে। ঢাকা ডায়নামাইটসকে
তিন উইকেটে হারাল রাজশাহী। বিফলে গেল এবারের বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের
শ্রীলংকান তারকা কুমার সাঙ্গাকারার প্রথম ফিফটি। সোমবার চট্টগ্রামে ঢাকার
বিপক্ষে রাজশাহীর জয়কে শ্বাসরুদ্ধকর বললে অতিশয়োক্তি হবে না। ১২ বলে ১২ রান
দরকার রাজশাহীর। হাতে পাঁচ উইকেট। টি ২০-তে এ যে একেবারে ডাল-ভাত। পরের
সাত বলে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী। শেষমেশ এক বল বাকি থাকতে
ঢাকার ১৮২ টপকায় রাজশাহী। সাত ম্যাচে ঢাকার এটি তৃতীয় হার। ছয় ম্যাচে
রাজশাহীর দ্বিতীয় জয়। তাদের আগের জয়টাও ছিল ঢাকার বিপক্ষে ছয় উইকেটে। বড়
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩১ রানের মধ্যেই জুনায়েদ সিদ্দিক ও সাব্বির রহমানকে
হারায় রাজশাহী। তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও সামিত প্যাটেল ১০.২ ওভারে ১০০
রান যোগ করেন। রাজশাহীর শত রানের জুটি ভাঙে মুমিনুলের আউট হওয়ার মধ্যদিয়ে।
৪২ বলে ৫৬ করে মোহাম্মদ শহীদের শিকার হন তিনি।
বিপিএলে ছয় ম্যাচে মুমিনুলের
এটি তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এরপর প্যাটেল এগিয়ে নিয়ে যান দলকে। মাত্র ৩৯ বলে
পাঁচটি চার ও ছয় ছক্কায় ৭৫ করে তিনি ফেরেন সেই শহীদের বলে আউট হয়ে। এর আগে
ঢাকার কুমার সাঙ্গাকারা এবারের বিপিএলে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন। আর
শেষদিকে যথারীতি ঝড় তোলেন তার স্বদেশী সিকুগে প্রসন্ন। শেষদিকে ব্যাটে
খানিকটা অবদান রেখেছেন সাকিবও। ঢাকার ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছিল সাঙ্গাকারা ও
মেহেদী মারুফের ওপেনিং জুটি। আট ওভার শেষে দু’জনেরই রান ছিল ৩১, দু’জনেরই
দুটি করে চার ও ছয়! ৫২ বলে ৭১ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙে মারুফ আউট হলে। ২৫
বলে ৩৫ রান করেন তিনি। ৩১ ও ৪৩ রানে দুটি ‘জীবন’ পাওয়া সাঙ্গাকারা থামেন ৪৬
বলে ৬৬ করে। ব্যাটিং অর্ডারে উপরে এসে সুবিধা করতে পারেননি মোসাদ্দেক
হোসেন। ১৩ বলে করেছেন ১৭ রান। শেষদিকে সাকিব ও প্রসন্ন ঝড়ে ১৮২ রান করে
ঢাকা। আগের ম্যাচে সাত ছক্কার টর্নেডোর পর এবার তিন ছক্কায় ১৬ বলে অপরাজিত
৩৪ রান করেন প্রসন্ন। সাকিব ১২ বলে করেন ১৮* রান। সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন
ফরহাদ রেজা। ম্যাচসেরা হন রাজশাহীর প্যাটেল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা ডায়নামাইটস ১৮২/৪, ২০ ওভারে (মেহেদি মারুফ ৩৫, কুমার সাঙ্গাকারা ৬৬, মোসাদ্দেক হোসেন ১৩, সিকুগে প্রসন্ন ৩৪*, সাকিব ১৮*। মোহাম্মদ সামি ১/২০, ফরহাদ রেজা ২/২২, আবুল হাসান ১/৪৪)।
রাজশাহী কিংস ১৮৪/৭, ১৯.৫ ওভারে (মুমিনুল হক ৫৬, সামিত প্যাটেল ৭৫, উমর আকমল ১২, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬*, ফরহাদ রেজা ৫*। ডুয়ানে ব্রাভো ৩/৩৫, মোহাম্মদ শহীদ ২/২৯)।
ফল : রাজশাহী কিংস ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সামিত প্যাটেল (রাজশাহী কিংস)।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা ডায়নামাইটস ১৮২/৪, ২০ ওভারে (মেহেদি মারুফ ৩৫, কুমার সাঙ্গাকারা ৬৬, মোসাদ্দেক হোসেন ১৩, সিকুগে প্রসন্ন ৩৪*, সাকিব ১৮*। মোহাম্মদ সামি ১/২০, ফরহাদ রেজা ২/২২, আবুল হাসান ১/৪৪)।
রাজশাহী কিংস ১৮৪/৭, ১৯.৫ ওভারে (মুমিনুল হক ৫৬, সামিত প্যাটেল ৭৫, উমর আকমল ১২, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬*, ফরহাদ রেজা ৫*। ডুয়ানে ব্রাভো ৩/৩৫, মোহাম্মদ শহীদ ২/২৯)।
ফল : রাজশাহী কিংস ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সামিত প্যাটেল (রাজশাহী কিংস)।

No comments:
Post a Comment