Wednesday, December 21, 2016

বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সীমান্তরক্ষী বাহিনী হবে বিজিবি

বিজিবি দিবস উপলক্ষে পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন বিজিবি
মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। উপস্থিত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান (মাঝে) -পিআইডি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সীমান্তরক্ষীর মর্যাদা লাভ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বিজিবি দিবস উপলক্ষে পিলখানায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
বিজিবি দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দফতরের বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজিবি দিবসের আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন প্রহণ করেন। তিনি বিজিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিজিবির সদস্যদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক-সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক-সেবা (পিবিজিএমএস) প্রদান করেন।
কুচকাওয়াজ শেষে দুপুরে তিনি পিলখানাস্থ বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে আয়োজিত দরবারে বিজিবির সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, বিজিবি তার ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মর্যাদা লাভ করবে। এ সময় তিনি বাহিনীর শৃংখলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড এ বাহিনীর ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। সে সময় সরকার গঠনের পরপরই বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ন্যক্কারজনক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আমাদের মোকাবেলা করতে হয়।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদর দফতরে বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন এবং একটি সুসজ্জিত খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন। বিজিবির উপমহাপরিচালক আমিরুল ইসলাম শিকদার কমান্ডার হিসেবে প্যারেড পরিচালনা করেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিদেশী কূটনীতিক এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী চিত্তাকর্ষক ‘ট্রিক ড্রিল’ এবং ‘ডগ স্কোয়াড ডিসপ্লে’ উপভোগ করেন। বিজিবিতে নারী সদস্য নিয়োগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবিতে ৮৮তম ব্যাচে প্রথমবারের মতো ৯৭ জন নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা সফলভাবে তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ইউনিটে যোগদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ বছর ৮৯তম ব্যাচে আরও ৯৩ জন নারী সৈনিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণরত আছেন এবং ৯০তম ব্যাচে আরও ১০০ জন নারী সৈনিক ভর্তির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। বিজিবিতে নারী সৈনিক নিয়োগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিজিবির আধুনিকায়নে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সীমান্তে নি-িদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অরক্ষিত সীমান্ত ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার লক্ষ্যে এ বাহিনীতে স্বতন্ত্র এয়ার উইংয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় সীমান্তে হত্যাকাণ্ড হ্রাস পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিজিবির সদস্যদের জন্য হাসপাতাল, বিজিবি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, সীমান্ত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, বিজিবি পাওয়ার কোম্পানি এবং সীমান্ত সম্ভার মার্কেট নির্মাণসহ বাহিনীটির কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বিজিবির বন্ধন দৃঢ় করবে : পরে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দরবারে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, বিজিবির সদস্য হিসেবে আপনাদের আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা প্রশ্নাতীত। কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ, শৃংখলাবোধ, মানবিকতা এবং সর্বোপরি পারস্পরিক সহানুভূতিশীলতাই এ বাহিনীর বন্ধন দৃঢ়তর করবে।’ বিশেষ দরবারে আরও বক্তৃতা করেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৭টায় পিলখানায় বিজিবির মহাপরিচালক বাহিনীর রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর ‘সীমান্ত গৌরব’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

No comments:

Post a Comment