Tuesday, December 27, 2016

বিমান ধ্বংসে ‘সন্ত্রাসবাদের যোগ নেই’

রাশিয়ার সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আরোহীদের লাশ উদ্ধারে কৃষ্ণসাগরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে একাধিক জাহাজ, বিমান, হেলিকপ্টার ও ডুবোযান নিয়োজিত করা হয়েছে। অংশ নিয়েছেন তিন হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী। সাগরে বিমানটির কিছু ধ্বংসাবশেষ ও ১১ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। রোববার টুপোলেভ-১৫৪ উড়োজাহাজটি রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সোচি থেকে সিরিয়ার লাতাকিয়া যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়। রুশ পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, যান্ত্রিক গোলযোগ কিংবা পাইলটের মানবিক ত্রুটির কারণেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সংযোগ নেই। খবর বিবিসি ও এএফপির। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেঙ্কোভ বলেন, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এলাকায় বিরামহীনভাবে তল্লাশি অভিযান চলছে। রাতভর চলা তল্লাশি অভিযানে শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সোচি উপকূল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে কৃষ্ণসাগরে বিমানটির অংশবিশেষ পাওয়া গেছে। সোমবার এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী মাকসিম সকোলোভ বলেন, যান্ত্রিক গোলযোগ কিংবা পাইলটের মানবিক ত্রুটির কারণেই কৃষ্ণসাগরে রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে এটা বলা যায়, এ দুর্ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সংযোগ নেই। তবে এ মন্তব্যকে নিজের ব্যক্তিগত অভিমত হিসেবেই দেখতে চান রুশ পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি শুধু তদন্তের ওপরই জোর দিচ্ছি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রযুক্তিগত কমিটিই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবে। এদিকে এরই মধ্যে বিধ্বস্ত বিমানের ১১ আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আরোহীদের মৃতদেহের সন্ধানে ব্যাপকভিত্তিক উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
দুর্ঘটনাস্থল সোচি শহরের কাছের ওই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে ১০৯ জন স্কুবা ডাইভারও রয়েছেন। জাহাজ, জেট, হেলিকপ্টার ও সাবমেরিনের মতো যানের সাহায্যে বিমানটির আরোহীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল কোনাশেঙ্কোভ জানিয়েছেন, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করতে শক্তিশালী স্পটলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা উপকূলের ১০ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। ব্ল্যাক বক্সের সন্ধানেও অভিযান চলছে। সোচির ক্রাসনোদার ক্রাই থেকে স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে উড্ডয়নের ২০ মিনিট পরই বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তখন বিমানটি কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। বিধ্বস্ত হওয়া টিইউ-১৫৪ সামরিক বিমানটিতে ৯২ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৮৪ জন যাত্রী। বাকি ৮ জন বিমানকর্মী। এদের মধ্যে সঙ্গীত দল আলেক্সান্দ্রোভ এনসেম্বলের সদস্যরা রয়েছে। সঙ্গীত দলটি আন্তর্জাতিকভাবে রেড আর্মি চোয়ির নামে পরিচিত। তারা সৈন্যদের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে সিরিয়া যাচ্ছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেঙ্কোভ রোববারই জানান, বিমানের যাত্রী ও ক্রুদের কেউ বেঁচে নেই। সামরিক বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এ বিষয়ে তল্লাশি অভিযান তদারকি করছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শইগু। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। তাকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সব আপডেট জানানো হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment