Monday, December 26, 2016

সম্ভ্রম বাঁচাতে দ্রুতগামী বাস থেকে তরুণীর ঝাঁপ

নির্ভয়া বাঁচতে পারেননি। কনডাক্টর বাসের দরজা বন্ধ করে দিতেই সেই কথা মনে করে মুহূর্তে শিউরে উঠেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারের দিনহাটার তরুণী। আগপিছ না ভেবে কোনো রকমে বাসের দরজা খুলে লাফ দেন তিনি। কুচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা ওই তরুণী ধূপগুড়িতে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। মাঝে মধ্যেই বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিলিগুড়ি থেকে কুচবিহারগামী একটি বাসে তিনি কুচবিহার বাসস্ট্যান্ডে নামেন। বাসস্ট্যান্ডেই দাঁড়িয়ে ছিল দিনহাটার বোর্ড লাগানো একটি বাস। একেবারে ফাঁকা বাস দেখে তাতে ওঠার ব্যাপারে দোদুল্যমান ছিলেন তিনি। এ সময় এক বাসকর্মী রাস্তায় লোক তুলে নেয়া হবে জানিয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন। তাতে বাসে উঠে পড়েন ওই তরুণী।
কিন্তু বাসে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা কনডাক্টর দরজা বন্ধ করে দেন। চালকও দিনহাটাগামী বোর্ড বদলে ‘রিজার্ভ’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেন। তাতে সন্দেহ হওয়ায় তরুণী বাস থেকে নামতে যান। কিন্তু ওই বাসকর্মী তাকে বাধা দেন। চালকও আচমকা গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন। আতংকিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন ওই তরুণী। কুচবিহার রাজবাড়ীর কাছাকাছি এসে সম্ভ্রম বাঁচাতে কোনো রকমে দরজা খুলে চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে রাস্তার ওপর মুখ থুবড়ে পড়েন। এলাকার লোকজনই ওই তরুণীকে উদ্ধার করে টোটো চাপিয়ে কুচবিহার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। মুখ থুবড়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় দু’পায়েই চোট লেগেছে ওই তরুণীর। ভেঙে গিয়েছে বাঁ-পা। শনিবার তাকে হাসপাতাল থেকে একটি নার্সিং হোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আতংকের রেশ মুখে নিয়ে ওই তরুণী বলেন, ‘ফাঁকা বাস থেকে আমি নামতে চাইলেও বাধা দেয়া হচ্ছিল। তাতে ওই বাসকর্মীদের উদ্দেশ্য নিয়ে আমার উদ্বেগ বেড়ে যায়। তাই প্রাণের মায়া ছেড়েই চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়েছিলাম। খোদ কুচবিহার শহরে সন্ধ্যায় এমন ঘটনা হবে, ভাবতে পারছি না।’ এদিন বিকালে কুচবিহার কোতোয়ালি থানায় ওই তরুণীর বড় ভাই লিখিত অভিযোগ করেন।
‘ভারতে কখনও একা ঘুরতে যাবেন না’ : ২৫ বছরের মার্কিন শিক্ষিকার খুব শখ ছিল ভারতে আসার। ভারত ভালোভাবে ঘুরে দেখার। সেই শখ পূরণ করতে গিয়ে তাকে যে বিভীষিকা তাড়া করে বেড়াবে, তা তিনি কল্পনাই করতে পারেননি। স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তার। যে আশা নিয়ে ভারতে আসা, সেই আশাই ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে কয়েকজন মানুষের লালসায়। তরুণীর অভিযোগ, ট্রাভেল এজেন্সি ও হোটেলের কয়েকজন কর্মী মিলে তাকে গণধর্ষণ করেন। তিনি ফের ভারতে ফিরে এসেছেন সুবিচারের আশায়। ২০১৬-এর এপ্রিলের ঘটনা। মাঝে কেটে গিয়েছে ন’মাস। ভারতে আসার আগে বারবার তরুণীকে তার বাবা-মা, এমনকি তার পরিচিতরাও সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন, একা সফরে যাওয়াটা ঠিক হবে না। তাই সেই ঝুঁকিও নেননি। একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। সাল ২০১৫।
এপ্রিলে ভারতে আসেন ওই মার্কিন তরুণী। আগ্রা ও জয়পুরসহ বেশকিছু জায়গা দেখার কথা ছিল। ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে সেইমতো চুক্তিও হয়েছিল। কনট প্লেসের একটি হোটেলে ওঠেন তিনি। তরুণীর অভিযোগ, ৮ ও ৯ এপ্রিল ওই হোটেলে ছিলেন। সেই সময় ট্রাভেল এজেন্সির দুই কর্মী এবং হোটেলের দুই কর্মী পানীয়র সঙ্গে মাদক মিশিয়ে তাকে দু’দিন ধরে ধর্ষণ করেন। তরুণীর অভিযোগ, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে ঠিকই, কিন্তু কতটা সঠিক ব্যবস্থা নেবে সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করেন- ভারতে ঘুরতে যাওয়ার কথা, বলব যথেষ্ট সতর্ক হয়েই সেখানে ঘুরতে যান। আর একা কখনোই যাবেন না।’ আনন্দবাজার পত্রিকা।

No comments:

Post a Comment