যশোরের
যশ খেজুরের রস! তাই শীতের শুরুতেই বেনাপোল সীমান্তসহ শার্শা উপজেলার প্রায়
সর্বত্রই এখন খেজুরের রস আহরণে ব্যস্ত গাছিরা। এ রস দিয়ে বিখ্যাত নলেন গুড়
তৈরি করা হয়। যার চাহিদা ক্রমশ দেশের ভেতরে ও বাহিরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমানে যশোর জেলার খেজুরের গুড় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। আর
স্থানীয়রা খেজুরের গুড় তৈরির মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলেছে। বন
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছ
ব্যবহার করায় হারিয়ে যেতে বসেছিল খেজুর গুড়। জেলার জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও
প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত কয়েক বছরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ
খেজুর গাছের চারা রোপণ করা হয়। দেশী জাতের সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে আরব দেশীয়
খেজুরের চারাও রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় বেড়ে ওঠা গাছগুলো
থেকে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এলাকার মানুষ সুফল পাওয়া শুরু করবে।
এলাকাবাসীর মতে, যশোরে পরিকল্পিতভাবে আরও খেজুর গাছ লাগানো হলে শুধু
মৌসুমের উপাদেয় রস-গুড় নয়, দেশীয় অর্থনীতির উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখতে
পারবে এ গাছ। সরকারি উদ্যোগে বেশি করে খেজুর গাছ লাগানোর পাশাপাশি যশোরের
খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বন বিভাগের গবেষণার প্রয়োজন।
বেনাপোলের
গাতিপাড়া গ্রামের কৃষক জাহান আলী জানান, তিনি চল্লিশটি গাছ থেকে রস
পাচ্ছেন। এ গাছগুলো শীতের প্রথমদিকে কাটা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছর
তিনি খেজুরের গুড় ও পাটালি বিক্রি করে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন।
এবারও তিনি আশা করছেন, আরও বেশি দামে গুড় ও পাটালি বিক্রি করতে পারবেন।
শার্শার স্বরূপদাহ গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান জানান, খেজুর গাছ থেকে রস
নিয়ে গুড় ও পাটালি বানাতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। গাছিরা এখন ব্যস্ত সময়
পার করছেন। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিরক কুমার সরকার জানান, ১১টি
ইউনিয়নে ৩৫ হাজারের বেশি খেজুর গাছ আছে। এসব গাছ থেকে মৌসুমে ৩ লাখ ৫০
হাজার কেজি গুড় উৎপাদিত হয়। খেজুরের গুড় ও পাটালি প্রবাসীদের কাছে ব্যাপক
চাহিদা আছে। এ বছরে সরকারিভাবে বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের
কন্যাদাহ গ্রামের রাস্তার দু’পাশ দিয়ে দুই কিলোমিটারজুড়ে এক হাজার খেজুর
গাছের চারা রোপণ করা ছাড়াও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১৫ হাজার খেজুর গাছের চারা
রোপণ করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment