বান্দবানের আজিজনগরে প্রশাসনের সামনে উঝাড় হচ্ছে বনাঞ্চল !
মোঃ সেলিম উদ্দিন, লামা প্রতিনিধিঃ
মোঃ সেলিম উদ্দিন, লামা প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের লামা উপজেলাধীন আজিজনগর বনাঞ্চল শূন্য করে গাছ কেটে স্থানীয় লাকড়ী ব্যবসায়ীরা ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে সরবরাহ শুরু করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজিজনগরের কাঠ এখন শুধু ফাইতং ছাড়াও কক্সবাজারের চকরিয়া এবং চট্রগ্রামের লোহাগাড়ার বিভিন্ন ইট ভাটায় পাঠানো হচ্ছে এসব কাঠ। চলতি মৌসুমে ১৫টি ইট ভাটায় ব্যাপক হারে কাঠ পোড়ানো শুরু হয়েছে। প্রতিদিন আজিজনগরের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে শতাধিক কাঠ-লাকড়ী বোঝাই গাড়ি ফাইতংয়ের ইটভাটাগুলোতে পৌঁছে দিচ্ছে কাঠ ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে আজিজনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক নুরুল আলম রাজা বলেন, যেভাবে নির্বিচারে গাছ কেটে বনাঞ্চল শূন্য করছে তা পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরুপ। প্রাকৃতিক সৌদর্যে ভরপুর আজিজনগরের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহবান করেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ইটভাটার মিস্ত্রি জানায়, ১২ লাইন প্রতি লাইনে ৫ হাজার করে মোট ৬০ হাজার ইট পোড়াতে দৈনিক ৬০০ হতে ৮০০ মন লাকড়ীর প্রয়োজন হয়। এই হিসাবে প্রতি মৌসুমে ১৮২ দিনে প্রতিটি ইট ভাটায় কমপক্ষে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৪’শ মন লাকড়ীর প্রয়োজন হয়। এ ব্যাপারে লামা বন বিভাগীয় কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের জনবল সল্পতার কারণে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করতে হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক সময় আমরা চাইলেও কিছু করতে পারিনা। তবে অবৈধভাবে কাঠ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য নজরে আনলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে স্থানীয়রা মনে করছে, ইট ভাটায় কাঠের চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে লাকড়ি ব্যবসায়ীর গাছ কেটে বনাঞ্চল ধ্বংসের প্রতিযোগীতায় লেগেছে। যদি দ্রুত প্রতিরোধ করা না যায় তাহলে সবুজে ঘেরা বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলার আজিজনগরের প্রাকিৃতিক সৌন্দর্য্য অনেকাংশেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

No comments:
Post a Comment