Monday, December 19, 2016

সোনাই নদী ভরাটের মহোৎস চলছে

সুনামগঞ্জের এক সময়ের খরস্রোতা সোনাই নদীটি মাটি ফেলে ভরাট করে ফেলছে একটি চক্র। ভোক্তভোগীদের অভিযোগ, পাথর সংগ্রহ করতে একটি চক্র পরিবেশ অধিদফতরের অসাধু ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে শাহ আরেফিন টিলা কেটে এর মাটি দিয়ে নদীতে ফেলার কারণে এটি ভরাট হয়েকরে ফেলছে। এ নিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ দুই জেলার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে গণস্বাক্ষর সংবলিত লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এলাকাবাসী জানায়,  কোম্পানীগঞ্জের কয়েকশত একরের শাহ আরেফিন টিলা অবৈধভাবে কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় জবর দখল করে গত ১০ বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকার পাথর উক্তোলন করে বিক্রি করছে। পাথর উক্তোলনে অপসারিত লালমাটি গত তিন বছর ধরে ছাতকে সোনাই নদীর পূর্বতীরে ও নদীর মাঝখানে প্রায় তিন শতাধিক মাহেন্দ্র ট্রাক্টরে করে নদীতে ভরাট করা হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে এলাকার  বোরো –আমন ধান উৎপান ও শীতকালীন সবজি উৎপাদন ব্যাহত করা হলেও সিলেট ও সুনামগঞ্জ এ দু’জেলার প্রশাসন এমনকি সিলেটের পরিবেশ অধিদফরেরও ঘুম ভাঙ্গেনি গত প্রায় তিন বছর ধরে। ছাতকের ইসলামপুরের নোয়াকোট রতনপুরসহ সাত গ্রামের লোকজন নদীর নাব্যতা সংকটে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে বলেন, ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা সীমান্তের  ১২৪৫-১২৪৬ নাম্বার সীমান্ত পিলারের মাঝখান দিয়ে প্রায় ১৬ কি.মি. দৈর্ঘ্যের সোনাই নদী প্রবাহিত হয়ে ছাতকের সুরমা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। টিলার  মাটি ফেলে নদী ভরাটের কারনে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে সরকার তিন দফা সোনাই নদী ড্রেজিং করেও নাব্যতা ফেরাতে পারেনি। সুনামগঞ্জ বিএডিসি সেচ সুবিধা দিতে গিয়ে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ব্যায়ে একটি রাবার ড্যাম তৈরি করলেও নদী ভরাটের কারনে বোরো-আমন ও শীতকালীন সবজী মৌসুমে সেচ সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে ছাতকের ইসলামপুরের বাগানবাড়ি, রতনপুর, নীজগাঁও, গাঙপাড়, নোয়াকোট, বাহাদুরপুর, বৈশাকান্দি গ্রামের প্রায় দু’ হাজার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের কৃষকরা। ছাতকের রতনপুরের প্রবীন আবদুল মন্নান (৭৫),
বাগানবাড়ির আশিক আলী (৫৮), গাঙপাড় নোয়াকোট নুরুল ইসলাম (৫৯), মখলিছুর রহমান ৩৮) রাসনগর ধনীটিলার মনিপুরী পল্লীর সাবেক ইউপি সদস্য তমাল সিংহসহ (৬৫) বহু গ্রামবাসীর অভিযোগ,  টিলা জবর দখল করে পাথর উক্তোলনের জন্য প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তি ম্যানেজ করার নামে ৮ সদস্যদের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিসপ্তাহে প্রায় ১৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন। তারা আরো বলেন,  ওই টিলা থেকে পাথর তুলতে গিয়ে টিলার মাটি ধসে পাথর চাপায় গত এক বছরে কমপক্ষে শতাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছে, অনেকেই বরণ করেছেন পঙ্গুত্ব। কিন্তু রহস্যজনক কারনে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ওইসব শ্রমিকদের মৃত্যুর তথ্য লিপিবদ্ধ হয়না। সীমান্তের ১২৪৬ নং পিলারের জিরো লাইনের কাছে শনিবার বেলা ১১টায় একদল শ্রমিক নদীতে মাটি ফেলার সময় ওপারের কুড়িখাল বিএস্এফ ক্যাম্পের টহল দল এসে মাটি ফেলতে নিষেধ করে। সিলেট -৫ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর লুৎফুল করীম যুগান্তরকে বলেন, জিরো লাইনে অনুপ্রেবেশ করে ট্রাক্টর দিয়ে সোনাই নদীর তীরে মাটি ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমি বিষয়টি সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেব, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ও ছাতকের ইউএনওকেও বলব আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে নদী ভরাট বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নুল আবেদীন যুগান্তরকে বলেন, টিলা কাটা সম্পূর্ন বেআইনি, যারা সোনাই নদীর তীর ও তলদেশ ভরাট করছে তাদের বিষয়ে আমি কোম্পানীগঞ্জের ইউএনওর সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।

No comments:

Post a Comment