প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ
আইভীকে পুনঃনির্বাচিত করে নারায়ণগঞ্জবাসী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সব
অভিযোগের জবাব দিয়েছে। আইভীকে জয়ী করার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের জনগণ উন্নয়নের
ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আওয়ামী লীগ
আমলে সবক’টি নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার
সন্ধ্যায় নাসিকের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী গণভবনে দেখা করতে এলে
প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ের
পরদিন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে আসেন আইভী।
আইভীকে
ভোট দেয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একটা
সরকারের ধারাবাহিকতা যদি থাকে, তাহলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। এ বিষয়টি
নারায়ণগঞ্জের মানুষ বুঝতে পেরেছে। আইভী পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় চলমান উন্নয়ন
প্রকল্পগুলো চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন প্রকল্প নিতে পারবেন।
সরকারের ধারাবাহিকতা না থাকলে দেশের উন্নয়নের যে ক্ষতি হয়, তার দৃষ্টান্ত
হিসেবে ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে যেসব অর্জন করেছিল, তা ২০০৮ সালে এসে আর
পায়নি। ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার
পর অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়ায় এটা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আরও
বলেন, পরিবর্তন ভালো কিন্তু পরিবর্তন হলে অনেক সময় উন্নয়নের গতিধারা ব্যাহত
হয়। নাসিক নির্বাচনের ভোটের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটা বিষয়
দেখলাম, নির্বাচনে মহিলা ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। যারা চলতে পারে না,
একেবারে বয়স্ক তারাও এসেছিলেন আইভীকে একটা ভোট দিতে। সরকারপ্রধান এ সময়
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সর্বস্তরের
কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমার কাছে যখনই
জানতে চাওয়া হয়েছে, আমি সবসময় একটা কথাই বলেছি, সাধারণ মানুষ যাতে ভোটটা
সঠিকভাবে দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা আপনারা করবেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন,
আজকে বিএনপি কোনো কথা খুঁজে পাচ্ছে না। দেখলাম, তারা বিচার বিভাগীয় তদন্তের
কথা বলেছে।
কারণ কিছু খুঁজে না পেলে, কিছু না কিছু বলতে তো হবে! তিনি
বলেন, বিএনপির জন্ম অবৈধভাবে। কারচুপির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তাদের যাত্রা
শুরু। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতির
চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অপরাধের কী শাস্তি হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, তারা যখন ভোট চাইতে যায়, তখন তাদের বলা উচিত, আপনাদের যে জনগণ
ধরে ধরে পোড়ায়নি, এটাই তো আপনাদের বড় পাওয়া। বিএনপি কোন মুখে মানুষের কাছে
ভোট চায়? তাদের তো ভোট চাওয়ারই অধিকার নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন
যে অবাধ করা যায়, সেটা আমরা দেখিয়েছি। আওয়ামী লীগের আমলে প্রত্যেকটা
নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপি নিজে ৫ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী
হয়েছিল। তারপরও তারা নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ করত। তিনি বলেন, বিএনপির
এতদিনের অভিযোগের উপযুক্ত জবাব নারায়ণগঞ্জবাসী দিয়েছে এই নির্বাচনের মধ্য
দিয়ে। একটি চমৎকার নির্বাচন হয়েছে। নাসিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আইভীকে
জেতানোর জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, স্থানীয় সব নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ
জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ভবিষ্যতে সব সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন,
এটাই আমি চাই। বক্তব্য শেষে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপরে ব্রিজ তৈরির
বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন
খানকে প্রায় ৮০ হাজার ভোটে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন নৌকার
প্রার্থী আইভী। এর আগেও দুই দফায় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন
তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নৌকা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী -আইভী :
নারায়ণগঞ্জের বিজয়ী মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমি ‘স্পিস লেস’।
গণভবনে বৈঠক করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা
দিয়েছিলেন। আমি সেদিন বলেছিলাম, ২২ ডিসেম্বর বিজয়ী হয়ে আমি সেই নৌকা আপনাকে
(শেখ হাসিনা) ফেরত দেব। নারায়ণগঞ্জের মানুষ নৌকাকে বিজয়ী করেছে। আমি আমার
কথা রেখেছি। আজকে আপনাকে নৌকা ফেরত দিতে এসেছি। শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা
জানিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আইভী আরও বলেন, আমি চিন্তাই করিনি আমাকে নৌকা
দেবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার জন্যই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বলেও
মন্তব্য করেন আইভী। বক্তব্যের আগে আইভী নৌকার আদলে একটি ফুলের তোড়া উপহার
দেন প্রধানমন্ত্রীকে এবং পা ছুঁয়ে সালাম করেন। সঙ্গে সঙ্গে আইভীকে দু’হাতে
ধরে বুকে জড়িয়ে কপালে চুমু খান শেখ হাসিনা। এ অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও স্থানীয়
প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ছিলেন না। সদ্য বিজয়ী মেয়র আইভী বলেন,
নারায়ণগঞ্জের মানুষ আপনার (শেখ হাসিনা) প্রতি কৃতজ্ঞ। নারায়ণগঞ্জবাসী আপনার
সঙ্গে সব সময় ছিল,
ভবিষ্যতেও থাকবে। আমার এলাকার মানুষ কথা রেখেছে।
নারায়ণগঞ্জে গণতন্ত্র হত্যার কথা বলা হয়, আজ সেখানে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় যারা নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে কাজ করেছেন
তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান আইভী। নারায়ণগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে আইভী বলেন, আপনার (শেখ
হাসিনা) দিকনির্দেশনায় সেখানে অপ্রীতিকর কিছু হয়নি। কোনো কেন্দ্রে এক
ফোঁটাও বিশৃংখলা হয়নি। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। নারায়ণগঞ্জের
নির্বাচন একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এ উদাহরণ আগামীতে সারা দেশে অব্যাহত
থাকবে। অনানুষ্ঠানিক এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে
মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, আবদুর রহমান, ফরিদুন্নাহার লাইলী, আহমেদ
হোসেন, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সুজিত রায় নন্দী, এবিএম
রিয়াজুল কবির কাওছার, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে
উপস্থিত সব নেতাকর্মীকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টায় গণভবনে
এসে পৌঁছেন আইভী। তার সঙ্গে আসা নেতাকর্মীদের সবার প্রবেশের ব্যবস্থা করে
গণভবনে প্রবেশ করেন তিনি। প্রবেশ করেই দোতলায় প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে সালাম
করেন। দু’জনে একান্তে কিছু কথা বলে নিচে নেমে অনুষ্ঠান শুরু করেন।

No comments:
Post a Comment