Saturday, December 24, 2016

১১৮ যাত্রীসহ লিবিয়ার বিমান ছিনতাই

গ্রেনেড বিস্ফোরণের হুমকি দিয়ে শুক্রবার ১১৮ আরোহীসহ লিবিয়ার একটি বিমান ছিনতাই হয়েছে। এতে ৭ ক্রু ও ১১১ যাত্রী ছিল। দুই অস্ত্রধারী লিবিয়ার আকাশ থেকে বিমানটি মাল্টা বিমানবন্দরে অবতরণে বাধ্য করে। অবতরণের এক ঘণ্টা পর যাত্রীদের ছেড়ে দেয় ছিনতাইকারীরা। সব যাত্রী নিরাপদে বেরিয়ে আসে। পরে ছিনতাইকারীরা আত্মসমর্পণ করেছে বলে টুইটে জানান মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাসকাট। লিবিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি ও এএফপি জানায়, আফ্রিকিয়াহ এয়ারওয়েজের ‘এ৩২০’ বিমানটি লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করে। ছিনতাইকারীরা বিমানটির রুট পরিবর্তন করে মাল্টায় নিয়ে গেছে।
এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ বিমান ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাসকাট বলেছেন, বিমানটি সম্ভবত ছিনতাই করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী মাল্টা বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি ঘিরে রাখে। প্রায় ১ ঘণ্টা পর বিমানের দরজা খোলা হয়। প্রথমে নারী ও শিশুসহ ৫০ জন যাত্রীকে বিমান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে অন্য যাত্রীরা মুক্তি পান। এর আগে মাল্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক টুইটার বার্তায় জানায়, বিমানবন্দরে বেআইনিভাবে একটি বিমান অবতরণ করানো হয়েছে। এ সময় জরুরি ভিত্তিতে বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দু’জন ছিনতাইকারী এ ঘটনায় জড়িত। তারা উড়োজাহাজটি হ্যান্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ঘটনাস্থলে থাকা বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন ফটোসাংবাদিক বলেছেন, তিনি বিমানবন্দরে সেনাসদস্য ও বিশেষ বাহিনীর বেশ কিছু গাড়ি দেখেছেন। মাল্টার সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বিমানটি সাবহা থেকে ত্রিপলি যাচ্ছিল। ছিনতাইকারীদের একজন গ্রেনেডের ভয় দেখিয়ে বিমানের ক্রুদের জিম্মি করে ফেলে। ওই ছিনতাইকারী জানায়, এক যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে নেয়া হবে।
তবে যাত্রীকে কেন নামিয়ে নেয়া হবে তার কারণ জানানো হয়নি। পরে লিবিয়ার আকাশ থেকেই বিমানটি মাল্টার দিকে ঘুরিয়ে নিতে বাধ্য করে মাল্টা বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়। ছিনতাইকারীরা এখন পর্যন্ত কোনো দাবি-দাওয়ার জন্য যোগাযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন মাল্টার লিজা শহরের ডেপুটি মেয়র মাদজা মাগরি নাউদি। বিমানটি লিবিয়ার আকাশ থেকেই মাল্টার দিকে ঘুরিয়ে নেয়া হয়। শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিটে করা মাল্টার প্রধানমন্ত্রীর টুইট বার্তায় বিমানে ১১১ জন যাত্রী ছিল বলে জানানো হয়। এদের মধ্যে ৮২ জন পুরুষ, ২৮ নারী ও এক শিশু। ২০১১ সালে লিবিয়ার স্বৈরশাসক মোয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। যুদ্ধ-সংঘাতে বিভক্ত হয়ে পড়ে দেশটি। গাদ্দাফির পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি এখন দেশটির বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এই ডামাডোলের মধ্যে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটল।

No comments:

Post a Comment