Monday, December 26, 2016

রাশিয়ার পতন-উত্থান

১৯৯১ সালের আগস্ট মাস। মস্কোর একটি মেশিন টুল কন্সট্রাকশন ইন্সটিটিউটে ইংরেজি শেখাতে গিয়েছিলেন ব্রিটেনের স্টিফেন রোজেনবার্গ। তার ভিসা কার্ডে লেখা ছিল ‘সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রবেশের জন্য’। পরবর্তী চার মাসের মধ্যে ভেঙে গিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। পরবর্তী ২৫ বছরে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠেছে রাশিয়া। দেশটির পতন-উত্থান নিয়ে লিখেছেন বিবিসির এই সাংবাদিক। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের খবরে দেশটির অধিকাংশ মানুষ শোকাহত হয়েছিল। কিন্তু অনেকে আবার খুশিও হয়েছিলেন। এর মাধ্যমে নতুন জীবনের আশা দেখেছিলেন তারা। মস্কোর একজন ইংরেজি শিক্ষক ইরিনা বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছিলাম যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটতে চলেছে। এটা ছিল স্বাধীনতার সুবাতাস। বিশাল দেশটির ভেঙে যাওয়া অনেকের কাছে ট্রাজেডি ছিল। কিন্তু সেই ট্রাজেডিতে আমি ভীত ছিলাম না। আমি দেখেছিলাম নতুন মানুষ, নতুন রাশিয়া। তবে বোধহয় সেটা পুঁজিবাদের কুৎসিত চেহারা ছিল!’ রোজেনবার্গ যখন ১৯৯১ সালে মস্কোতে ওলেগের সঙ্গে দেখা করেন, তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ২০ বছর। ওলেগ ও তার বন্ধুরা নতুন রাশিয়ায় ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে কানাডায় বসবাসরত ওলেগ বলেন, ‘আমরা পোল্যান্ড থেকে ব্যবহৃত গাড়ি এনে মস্কোতে বিক্রি করতাম। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনতাম মুরগির পা! আমরা সবকিছু দিয়ে ব্যবসার চেষ্টা করেছিলাম।’ তবে দুর্বল ভীরুদের জন্য রাশিয়ার বন্য পুঁজিবাদ সহায়ক ছিল না। সে কথা স্মরণ করে ওলেগ বলেন, ‘এটা ছিল বিপজ্জনক। আমরা অনেক অর্থ কামাই করেছিলাম। কিন্তু অনেক সমস্যাও সামনে এসেছিল।’ তিনি বলেন, ‘যাদের কাছ থেকে আমরা টাকা ধার করেছিলাম, সেই লুটেরারা হুমকি দিল, দু’সপ্তাহের মধ্যে সব টাকা ফেরত দিতে হবে। নয়তো আমাদের মেরে ফেলবে অথবা ওই দেশে থাকতে দেবে না।’ নব্বইয়ের দশকে উত্তর ককেশাসে দুই রকম যুদ্ধ হয়েছিল। রুশ পার্লামেন্টে ট্যাংকের গোলাবর্ষণ আর আর্থিক দেউলিয়াপনা। অনেক রুশ নাগরিক তাদের সঞ্চয় হারাতে লাগলেন। তখন থেকেই মানুষ ভাবতে লাগলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নই ভালো ছিল। ইরিনা বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের কিছু খারাপ দিক ছিল।
অনেক কিছুকে আমরা অভিশাপ দিতাম। কিন্তু পরে উপলব্ধি করতে পেরেছি, সেটা খারাপ ছিল না। বিবিসির সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তখন তো গণতন্ত্র ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না? ইরিনার জবাব, ‘কোন ধরনের গণতন্ত্রের কথা বলছেন, সেটা নির্ভর করে আমাদের সেটা প্রয়োজন আছে কিনা।’ ২০০০ সালে বরিস ইয়েলেৎসিনের কাছ থেকে যখন ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার ক্ষমতা নিলেন, তখন বেসরকারি ব্যবসা অনেক কঠিন হয়ে গেল। ওলেগ বিদেশে পাড়ি দিলেন। তিনি বলেন, স্কুল জীবন থেকে আমি ১০-১৫ জনকে চিনতাম যাদের নিজস্ব ব্যবসা ছিল। কিন্তু এখন তাদের কিছুই নেই। ব্যবসায়ী যারা হয়তো তারা সরকারে রয়েছেন, নয়তো সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্পোরেশন। ব্যক্তি উদ্যোগে রাশিয়ায় কিছু করা কঠিন। তবে ইরিনা মনে করেন, ‘রাশিয়ায় শক্তিশালী নেতা প্রয়োজন। তিনি বলেন রাশিয়ায় রাজতন্ত্র এলে আমি তাকে স্বাগত জানাবো। আমি জার শাসকদের পছন্দ করি।’ ভ্লাদিমির পুতিন কি সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই। পুতিন শুধু কাজ করছেন না, রীতিমতো পরিশ্রম করছেন। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি।’ ইরিনা বলেন, পশ্চিমারা পুতিনকে পছন্দ করেন না। ঠিকই তো, তাকে পছন্দ হবে কেন? তিনি তো সুন্দরী নারী নন। তিনি একজন শক্তিশালী পুরুষ।’ ওলেগ এবং ইরিনা দু’জনই মনে করেন, সোভিয়েত ইউনিয়নই ভালো ছিল। আগামীতে কিংবা আরও ২৫ বছর পর সোভিয়েত ইউনিয়ন আবার ফিরে আসবে।

No comments:

Post a Comment